ঢাকা ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মাদারগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদলের সাবেক নেতাসহ তিনজনকে ছুরিকাঘাত

মাদারগঞ্জ : মাদারগঞ্জ মডেল থানা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদলের সাবেক নেতাসহ তিনজনের উপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে ইয়াকুব আলী নামে এক যুবক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ১০ অক্টোবর, শুক্রবার বিকালে মাদারগঞ্জ পৌরসভার ব্র্যাক অফিস মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দু’জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং একজন জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহতরা হলেন- মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ী মাঠপাড়া এলাকার মৃত নুর ইসলামের ছেলে ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক, পৌরসভার জোনাইল পূজাঘাটি এলাকার শহিদুল্লাহর ছেলে ও পৌর ছাত্রদলকর্মী মো. বিপ্লব ও একই এলাকার আয়ুব আলীর ছেলে মো. হাবিব মন্ডল।

এ ঘটনায় ১০ অক্টোবর রাতে জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও পদ্মা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের পরিচালক মো. ফারুক বাদী হয়ে ইয়াকুব আলীকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ অক্টোবর বিকালে ফারুক মোটরসাইকেলে উপজেলা হাওয়াই রোডে তার প্রতিষ্ঠান পদ্মা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে যাচ্ছিলেন। পথে ব্র্যাক অফিস মোড় এলাকায় পৌঁছুলে ইয়াকুব আলী নামের এক যুবক ও তার সহযোগীরা ফারুকের গতিরোধ করে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ফারুক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেন। পরে ফারুক দৌড়ে আত্মরক্ষা করে বন্ধু ও ছোট ভাইদের মুঠোফোনে খবর দেন। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছুলে ইয়াকুব আলী ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়।

হামলার একপর্যায়ে ইয়াকুবের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে বিপ্লবের বুক লক্ষ্য করে আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখমি আহত হন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হাবিবের পায়ে ও হাঁটুর উপর ছুরি মারেন ইয়াকুব। ফারুককেও লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করে ইয়াকুব ও তার সহযোগীরা। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বিপ্লবের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। ফারুক ও হাবিব মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হামলাকারী ইয়াকুব আলী উপজেলার বালিজুড়ী বাজারের খাদ্য ব্যবসায়ী আশরাফ আলীর ছেলে। এর আগে গত ১৪ জুলাই, সোমবার একজন ঠিকাদারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। জামিনে ছাড়া পেয়ে তিনি আবারও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মাদারগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক রাশেদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ফারুক, পৌর ছাত্রদলকর্মী বিপ্লব ও হাবিবের উপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল্লাহ সাইফ এ প্রতিবেদককে বলেন, ১৪ জুলাই চাঁদা দাবির অভিযোগে ইয়াকুব আলীকে চাকু ও কেচিসহ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে সে এলাকায় পুনরায় চাঁদাবাজি শুরু করে। ১০ অক্টোবর বিকালে চাঁদা না পেয়ে তিনজন যুবককে ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় ফারুক নামে একজন যুবক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যমুনা চরে উচ্চফলনশীল ভুট্টা চাষে কৃষকের মুখে হাসি

মাদারগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদলের সাবেক নেতাসহ তিনজনকে ছুরিকাঘাত

আপডেট সময় ০৯:২১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদলের সাবেক নেতাসহ তিনজনের উপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে ইয়াকুব আলী নামে এক যুবক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ১০ অক্টোবর, শুক্রবার বিকালে মাদারগঞ্জ পৌরসভার ব্র্যাক অফিস মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দু’জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং একজন জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহতরা হলেন- মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ী মাঠপাড়া এলাকার মৃত নুর ইসলামের ছেলে ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক, পৌরসভার জোনাইল পূজাঘাটি এলাকার শহিদুল্লাহর ছেলে ও পৌর ছাত্রদলকর্মী মো. বিপ্লব ও একই এলাকার আয়ুব আলীর ছেলে মো. হাবিব মন্ডল।

এ ঘটনায় ১০ অক্টোবর রাতে জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও পদ্মা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের পরিচালক মো. ফারুক বাদী হয়ে ইয়াকুব আলীকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ অক্টোবর বিকালে ফারুক মোটরসাইকেলে উপজেলা হাওয়াই রোডে তার প্রতিষ্ঠান পদ্মা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে যাচ্ছিলেন। পথে ব্র্যাক অফিস মোড় এলাকায় পৌঁছুলে ইয়াকুব আলী নামের এক যুবক ও তার সহযোগীরা ফারুকের গতিরোধ করে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ফারুক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেন। পরে ফারুক দৌড়ে আত্মরক্ষা করে বন্ধু ও ছোট ভাইদের মুঠোফোনে খবর দেন। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছুলে ইয়াকুব আলী ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়।

হামলার একপর্যায়ে ইয়াকুবের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে বিপ্লবের বুক লক্ষ্য করে আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখমি আহত হন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হাবিবের পায়ে ও হাঁটুর উপর ছুরি মারেন ইয়াকুব। ফারুককেও লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করে ইয়াকুব ও তার সহযোগীরা। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বিপ্লবের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। ফারুক ও হাবিব মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হামলাকারী ইয়াকুব আলী উপজেলার বালিজুড়ী বাজারের খাদ্য ব্যবসায়ী আশরাফ আলীর ছেলে। এর আগে গত ১৪ জুলাই, সোমবার একজন ঠিকাদারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। জামিনে ছাড়া পেয়ে তিনি আবারও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মাদারগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক রাশেদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ফারুক, পৌর ছাত্রদলকর্মী বিপ্লব ও হাবিবের উপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল্লাহ সাইফ এ প্রতিবেদককে বলেন, ১৪ জুলাই চাঁদা দাবির অভিযোগে ইয়াকুব আলীকে চাকু ও কেচিসহ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে সে এলাকায় পুনরায় চাঁদাবাজি শুরু করে। ১০ অক্টোবর বিকালে চাঁদা না পেয়ে তিনজন যুবককে ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় ফারুক নামে একজন যুবক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।