জামালপুরের দুই উপজেলায় বজ্রপাতে হাসমত আলী হাসু (৪৫) ও মর্জিনা বেগম (২২) নামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চারজন আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। একই সাথে পাঁচটি গরু ও দুটি মহিষও মারা গেছে। ২৬ এপ্রিল, রবিবার এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৬ এপ্রিল বিকাল ৩টার দিকে গরু নিয়ে আসার জন্য মাঠে যান হাসমত আলী হাসু। হঠাৎ চারদিকে অন্ধকার হয়ে ঝড় উঠে। এ সময় গরু নিয়ে বাড়ি ফিরতে গেলে বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে হাসমত আলী হাসু মাটিতে পড়ে যান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বজ্রপাতে হাসমত আলীর একটি গরুও মারা গছে।
মৃত হাসমত আলী হাসু সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চর যথার্থপুর গ্রামের ভাটিপাড়া এলাকার হাবিবর রহমান মন্ডলের ছেলে। তিনি জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রামের আরসি শিশুর পিতা। উন্নয়ন সংঘ ও ওয়ার্ল্ড ভিশন তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

বজ্রপাতে সদর উপজেলার নূর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসন (৩৪), রুমান মিয়ার ছেলে শাওন (২৫) ও সুমনের মেয়ে সুখী (১৪) আহত হয়েছেন। এ সময় তুলশির ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হান্নানের দুটি মহিষ মারা গছে। আহত ব্যক্তিরা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার হাসমত আলীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে একই দিন দুপুরে জেলার মেলান্দহ উপজেলায় নিজ বাড়িতে রান্না করার সময় বজ্রপাতে গৃহবধূ মর্জিনা বেগম (২২) মারা গেছেন । এ ঘটনায় শেফালী (২৮) নামে আরও একজন নারী আহত হয়েছেন। এক সন্তানের জননী মর্জিনা বেগম ওই এলাকার রাজিবের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২৬ এপ্রিল দুপুরে স্বামী সন্তানের জন্য বাড়ির উঠানে রান্না করছিলেন মর্জিনা বেগম। এ সময় ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। রান্না করা অবস্থায় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মাটিতে পড়ে যান মর্জিনা বেগম। পরে তাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। আহত শেফালী বেগম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বজ্রপাতে গৃহবধূ মর্জিনা বিগমের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে একই দিনে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় চারটি গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের সূত্র জানায়, নিহতদের পরিবার আবেদন করলে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার অনুদান দেওয়া সুযোগ রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া দপ্তর বলছে, বৃষ্টিবলয়ের ফলে আগামী সপ্তাহ জুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়, প্রবল বৃষ্টিপাত এবং বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জামালপুর সদরের ইউএনও নাজনীন আখতার। তিনি তথ্য অফিসের মাধ্যমে মাইকিং এবং মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সরকারি, বেসরকারি সংস্থাগুলোকে বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্ক বার্তা প্রচার করার জন্য আহ্বান জানান।
জাহাঙ্গীর সেলিম : সম্পাদক, বাংলারচিঠিডটকম 


















