ঢাকা ১১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যমুনার ধু-ধু বালুর চরে বাদামের বাম্পার ফলন, দামে খুশি কৃষক

মাদারগঞ্জ : যমুনা বালুচরে নিজের ক্ষেতের আদাম হাতে কৃষকের মুখে হাসি। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ বালুচরে চলতি মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে বেশি উৎপাদন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকদের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটেছে। নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে বাদাম চাষে দারিদ্র কৃষক পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরছে। ফলে অন্য কৃষকরাও বাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে যমুনার চরে ৩০ হেক্টর জমিতে বাদাম আবাদ করা হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হেক্টর। তবে শুধু বাদামই নয়, ১০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ, ৪০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, ৫ হেক্টর জমিতে কালোজিরা এবং ৪০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি গম, মটরশুটি, মিষ্টি লাউ, মিষ্টি আলু, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ফসলও চাষ করা হয়েছে। ফসলের উৎপাদন খরচ কম হওয়ার পাশাপাশি ফলনও হচ্ছে ভালো। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ফলে চরাঞ্চলে কৃষির প্রসার ঘটছে।

উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পাকরুল এলাকায় যুমনার চর ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ বালুচরে সবুজের সমারোহ। বর্তমানে চাষিরা জমি থেকে বাদাম তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও বাদাম গাছ থেকে বাদাম ছাড়ানোর কাজে অংশ নিচ্ছেন।

কৃষকদের ভাষ্য, বাদাম চাষে সার বা বিষের প্রয়োজন হয় না। ফলে খরচ কম এবং লাভ বেশি। এক বিঘা জমিতে ১৫-২০ হাজার টাকা ব্যয় করে ৩৫-৪০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করা সম্ভব।

মাদারগঞ্জ : যমুনা বালুচরে বাদাম তোলা ব্যস্ত কিষাণ-কিষাণী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

পাকরুল এলাকার কৃষক দুলাল ফকির বলেন, দুই বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। বীজ ক্রয়, লাগানো ও তোলায় খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকলে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার বাদাম বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।

একই এলাকার কৃষক মোহাম্মদ সুরুজ বলেন, বালুর চরে অন্য ফসল তেমন হয় না। কিন্তু বাদাম ভালো হয়। সার, বিষ বা সেচের প্রয়োজন হয় না। পাইকাররা জমি থেকেই কিনে নেয়, তাই বাড়তি খরচও নেই।

কৃষাণী কল্পনা বেগম বলেন, স্বামী প্রবাসে। ছোট ছেলেকে নিয়ে বাদাম তুলছি। দুই বিঘা জমিতে আবাদ করেছি, ফলন ভালো হয়েছে।

অছুর আলী জানান, তিন বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। পৌষ মাসে রোপণ করা ফসল এখন বৈশাখে উত্তোলন করছেন। প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৪ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে।

নারী শ্রমিক রাবেয়া খাতুন বলেন, এক মণ বাদাম ছাড়ালে ৪০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। দিনে ২৫ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত বাদাম ছাড়ানো যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, চরাঞ্চল এখন আর মানুষের জন্য অভিশাপ নয়, বরং কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠছে। চরাঞ্চলের জমি চাষের আওতায় আনতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ফসলে প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাদামের ভালো ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মেট্রিক টন বাদাম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যমুনার ধু-ধু বালুর চরে বাদামের বাম্পার ফলন, দামে খুশি কৃষক

আপডেট সময় ০৯:৩১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ বালুচরে চলতি মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। কম খরচে বেশি উৎপাদন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকদের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটেছে। নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে বাদাম চাষে দারিদ্র কৃষক পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরছে। ফলে অন্য কৃষকরাও বাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে যমুনার চরে ৩০ হেক্টর জমিতে বাদাম আবাদ করা হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হেক্টর। তবে শুধু বাদামই নয়, ১০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ, ৪০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, ৫ হেক্টর জমিতে কালোজিরা এবং ৪০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি গম, মটরশুটি, মিষ্টি লাউ, মিষ্টি আলু, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ফসলও চাষ করা হয়েছে। ফসলের উৎপাদন খরচ কম হওয়ার পাশাপাশি ফলনও হচ্ছে ভালো। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ফলে চরাঞ্চলে কৃষির প্রসার ঘটছে।

উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পাকরুল এলাকায় যুমনার চর ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ বালুচরে সবুজের সমারোহ। বর্তমানে চাষিরা জমি থেকে বাদাম তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও বাদাম গাছ থেকে বাদাম ছাড়ানোর কাজে অংশ নিচ্ছেন।

কৃষকদের ভাষ্য, বাদাম চাষে সার বা বিষের প্রয়োজন হয় না। ফলে খরচ কম এবং লাভ বেশি। এক বিঘা জমিতে ১৫-২০ হাজার টাকা ব্যয় করে ৩৫-৪০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করা সম্ভব।

মাদারগঞ্জ : যমুনা বালুচরে বাদাম তোলা ব্যস্ত কিষাণ-কিষাণী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

পাকরুল এলাকার কৃষক দুলাল ফকির বলেন, দুই বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। বীজ ক্রয়, লাগানো ও তোলায় খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকলে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার বাদাম বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।

একই এলাকার কৃষক মোহাম্মদ সুরুজ বলেন, বালুর চরে অন্য ফসল তেমন হয় না। কিন্তু বাদাম ভালো হয়। সার, বিষ বা সেচের প্রয়োজন হয় না। পাইকাররা জমি থেকেই কিনে নেয়, তাই বাড়তি খরচও নেই।

কৃষাণী কল্পনা বেগম বলেন, স্বামী প্রবাসে। ছোট ছেলেকে নিয়ে বাদাম তুলছি। দুই বিঘা জমিতে আবাদ করেছি, ফলন ভালো হয়েছে।

অছুর আলী জানান, তিন বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। পৌষ মাসে রোপণ করা ফসল এখন বৈশাখে উত্তোলন করছেন। প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৪ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে।

নারী শ্রমিক রাবেয়া খাতুন বলেন, এক মণ বাদাম ছাড়ালে ৪০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। দিনে ২৫ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত বাদাম ছাড়ানো যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, চরাঞ্চল এখন আর মানুষের জন্য অভিশাপ নয়, বরং কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠছে। চরাঞ্চলের জমি চাষের আওতায় আনতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ফসলে প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাদামের ভালো ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মেট্রিক টন বাদাম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।