ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একজন দক্ষ কর্মী রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে : পুলিশ সুপার ফারাহানা ইসলামপুর প্রেসক্লাবে ডেইলি বাংলাদেশ পোর্টালের সম্পাদক শাহিদকে সংবর্ধনা সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে দেওয়ানগঞ্জে মানববন্ধন জনগণকে দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে বিএনপি : সংসদ সদস্য শামীম তালুকদার প্রকৃতি রক্ষার বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনের উপায় খুঁজতে আর্মেনিয়ায় জাতিসংঘ সম্মেলন শুরু ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে উত্তেজনা প্রশমনে মার্কিন দূতদের সঙ্গে জেলেনস্কির আলোচনা জেলেনস্কির সমালোচনায় ট্রাম্প, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই মাদারগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বস্তুনিষ্ঠতা এবং পেশাদারিত্ব কালবেলাকে শীর্ষে নিয়ে গেছে : অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া মামুন। জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী

মাহমুদপুরে জমি বিরোধে আদালতের নির্দেশে মাঠে কমিশনের তদন্ত

জামালপুর : তদন্তে ব্যস্ত কমিশনের কর্মকর্তারা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর মৌজায় প্রায় ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে সরেজমিনে তদন্ত করেছে কমিশনের প্রতিনিধি একজন আইনজীবী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে টুলটুল আহমেদ বাদী হয়ে মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জমির প্রকৃত দখল পরিস্থিতি নিরূপণের জন্য বাদীপক্ষ আদালতের কাছে কমিশন নিয়োগের আবেদন করেন।

আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করলে ২৫ এপ্রিল, শনিবার দুপুরে কমিশন ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়, বিরোধপূর্ণ জমির একটি অংশে বাদী পক্ষের দখলে থাকা একটি গুদামঘর, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রাখার স্থান, কীটনাশক সংরক্ষণাগার এবং ডেকোরেটর ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত টিনশেড ঘরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। কমিশন এসব স্থাপনার উপস্থিতি ও ব্যবহারিক দখলের বিষয়টি নথিভুক্ত করেন।

অন্যদিকে, বিবাদী আলতাফুর রহমানের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দাগভুক্ত জমির আরেক অংশে একটি পুকুরে মাছ চাষের কার্যক্রমও তদন্তে শনাক্ত হয়। কমিশন ওই পুকুরে চলমান মাছ চাষের সত্যতাও যাচাই করেন। ফলে জমিটির বিভিন্ন অংশে উভয় পক্ষের আংশিক দখলের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিশনের প্রতিনিধি আইনজীবী আব্দুর রশিদ বলেন, কমিশনের তদন্তে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। যা আদালতে মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, তদন্তে উভয় পক্ষের দখলের কিছু বাস্তবতা পাওয়া গেছে। এখন আদালত প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।

এদিকে বিবাদীপক্ষ অভিযোগ করেছে, বাদীপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং জোরপূর্বক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি নিয়ে বিরোধটি দীর্ঘদিনের হলেও সা¤প্রতিক সময়ে তা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, দ্রুত বিচারিক নিষ্পত্তি না হলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তাই স্থানীয়দের দৃষ্টি আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

একজন দক্ষ কর্মী রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে : পুলিশ সুপার ফারাহানা

মাহমুদপুরে জমি বিরোধে আদালতের নির্দেশে মাঠে কমিশনের তদন্ত

আপডেট সময় ১০:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর মৌজায় প্রায় ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে সরেজমিনে তদন্ত করেছে কমিশনের প্রতিনিধি একজন আইনজীবী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে টুলটুল আহমেদ বাদী হয়ে মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জমির প্রকৃত দখল পরিস্থিতি নিরূপণের জন্য বাদীপক্ষ আদালতের কাছে কমিশন নিয়োগের আবেদন করেন।

আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করলে ২৫ এপ্রিল, শনিবার দুপুরে কমিশন ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়, বিরোধপূর্ণ জমির একটি অংশে বাদী পক্ষের দখলে থাকা একটি গুদামঘর, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রাখার স্থান, কীটনাশক সংরক্ষণাগার এবং ডেকোরেটর ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত টিনশেড ঘরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। কমিশন এসব স্থাপনার উপস্থিতি ও ব্যবহারিক দখলের বিষয়টি নথিভুক্ত করেন।

অন্যদিকে, বিবাদী আলতাফুর রহমানের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দাগভুক্ত জমির আরেক অংশে একটি পুকুরে মাছ চাষের কার্যক্রমও তদন্তে শনাক্ত হয়। কমিশন ওই পুকুরে চলমান মাছ চাষের সত্যতাও যাচাই করেন। ফলে জমিটির বিভিন্ন অংশে উভয় পক্ষের আংশিক দখলের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিশনের প্রতিনিধি আইনজীবী আব্দুর রশিদ বলেন, কমিশনের তদন্তে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। যা আদালতে মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, তদন্তে উভয় পক্ষের দখলের কিছু বাস্তবতা পাওয়া গেছে। এখন আদালত প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।

এদিকে বিবাদীপক্ষ অভিযোগ করেছে, বাদীপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং জোরপূর্বক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি নিয়ে বিরোধটি দীর্ঘদিনের হলেও সা¤প্রতিক সময়ে তা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, দ্রুত বিচারিক নিষ্পত্তি না হলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তাই স্থানীয়দের দৃষ্টি আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।