ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মাহমুদপুরে জমি বিরোধে আদালতের নির্দেশে মাঠে কমিশনের তদন্ত

জামালপুর : তদন্তে ব্যস্ত কমিশনের কর্মকর্তারা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর মৌজায় প্রায় ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে সরেজমিনে তদন্ত করেছে কমিশনের প্রতিনিধি একজন আইনজীবী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে টুলটুল আহমেদ বাদী হয়ে মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জমির প্রকৃত দখল পরিস্থিতি নিরূপণের জন্য বাদীপক্ষ আদালতের কাছে কমিশন নিয়োগের আবেদন করেন।

আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করলে ২৫ এপ্রিল, শনিবার দুপুরে কমিশন ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়, বিরোধপূর্ণ জমির একটি অংশে বাদী পক্ষের দখলে থাকা একটি গুদামঘর, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রাখার স্থান, কীটনাশক সংরক্ষণাগার এবং ডেকোরেটর ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত টিনশেড ঘরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। কমিশন এসব স্থাপনার উপস্থিতি ও ব্যবহারিক দখলের বিষয়টি নথিভুক্ত করেন।

অন্যদিকে, বিবাদী আলতাফুর রহমানের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দাগভুক্ত জমির আরেক অংশে একটি পুকুরে মাছ চাষের কার্যক্রমও তদন্তে শনাক্ত হয়। কমিশন ওই পুকুরে চলমান মাছ চাষের সত্যতাও যাচাই করেন। ফলে জমিটির বিভিন্ন অংশে উভয় পক্ষের আংশিক দখলের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিশনের প্রতিনিধি আইনজীবী আব্দুর রশিদ বলেন, কমিশনের তদন্তে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। যা আদালতে মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, তদন্তে উভয় পক্ষের দখলের কিছু বাস্তবতা পাওয়া গেছে। এখন আদালত প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।

এদিকে বিবাদীপক্ষ অভিযোগ করেছে, বাদীপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং জোরপূর্বক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি নিয়ে বিরোধটি দীর্ঘদিনের হলেও সা¤প্রতিক সময়ে তা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, দ্রুত বিচারিক নিষ্পত্তি না হলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তাই স্থানীয়দের দৃষ্টি আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহান মে দিবস উপলক্ষে জামালপুরে শ্রমিকদলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

মাহমুদপুরে জমি বিরোধে আদালতের নির্দেশে মাঠে কমিশনের তদন্ত

আপডেট সময় ১০:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর মৌজায় প্রায় ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে সরেজমিনে তদন্ত করেছে কমিশনের প্রতিনিধি একজন আইনজীবী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে টুলটুল আহমেদ বাদী হয়ে মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জমির প্রকৃত দখল পরিস্থিতি নিরূপণের জন্য বাদীপক্ষ আদালতের কাছে কমিশন নিয়োগের আবেদন করেন।

আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করলে ২৫ এপ্রিল, শনিবার দুপুরে কমিশন ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়, বিরোধপূর্ণ জমির একটি অংশে বাদী পক্ষের দখলে থাকা একটি গুদামঘর, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রাখার স্থান, কীটনাশক সংরক্ষণাগার এবং ডেকোরেটর ব্যবসার জন্য ব্যবহৃত টিনশেড ঘরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। কমিশন এসব স্থাপনার উপস্থিতি ও ব্যবহারিক দখলের বিষয়টি নথিভুক্ত করেন।

অন্যদিকে, বিবাদী আলতাফুর রহমানের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দাগভুক্ত জমির আরেক অংশে একটি পুকুরে মাছ চাষের কার্যক্রমও তদন্তে শনাক্ত হয়। কমিশন ওই পুকুরে চলমান মাছ চাষের সত্যতাও যাচাই করেন। ফলে জমিটির বিভিন্ন অংশে উভয় পক্ষের আংশিক দখলের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিশনের প্রতিনিধি আইনজীবী আব্দুর রশিদ বলেন, কমিশনের তদন্তে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। যা আদালতে মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, তদন্তে উভয় পক্ষের দখলের কিছু বাস্তবতা পাওয়া গেছে। এখন আদালত প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।

এদিকে বিবাদীপক্ষ অভিযোগ করেছে, বাদীপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং জোরপূর্বক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি নিয়ে বিরোধটি দীর্ঘদিনের হলেও সা¤প্রতিক সময়ে তা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, দ্রুত বিচারিক নিষ্পত্তি না হলে পরিস্থিতি যেকোনো সময় অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তাই স্থানীয়দের দৃষ্টি আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।