নারী, শিশু এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়ের সদস্যদের ক্ষমতায়ন, তাদের কণ্ঠস্বর জোরদার করা এবং নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিতামূলক শাসন ব্যবস্থা জন্য সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ নেয়ার লক্ষ্যে জামালপুরে এম্পাওয়ারহার প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।
এই প্রকল্পের অন্যতম কার্যক্রমের অংশ হিসাবে ২৭ জুলাই, সোমবার জামালপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০ টায় জামালপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের লিগ্যাল এইড অফিস কার্যালয়ে এই সভা হয়। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার এ. কে. এম. শিফাতুল্লাহ।
উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিমের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মেধ্যে আলোচনায় অংশ নেন আইনজীবী এম. এ মান্নান, আইনজীবী মাহমুদা বেগম, আইনজীবী আব্দুল্লাহ মতি প্রমুখ। সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের স্টাফ আইনজীবী আসমাউল হুসনা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উন্নয়ন সংঘের এম্পাওয়ারহার প্রকল্পের সমন্বয়কারী আরজু মিয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ এ. কে. এম শিফাতুল্লাহ বলেন, এম্পাওয়ারের কার্যক্রম নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এই প্রকল্পটি সরিষাবাড়ীর পাশাপাশি জেলার অন্য ছয়টি উপজেলায় সম্প্রসারণ করার দরকার। তিনি লিগ্যাল কার্যক্রম সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি এম্পাওয়ার কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের সাথে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে উন্নয়ন সংঘ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানা যায়, আটটি ইউনিয়ন ও একটি উপজেলায় জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি ফোরাম গঠন করা যার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের নাগরিক সমাজ নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে অবদান রাখা। জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি নিশ্চিতকরণ ও জেন্ডার বেইজ ভায়োলেশন প্রতিরোধে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।লক্ষিত জনগোষ্ঠীর সম্মান, মর্যাদা বৃদ্ধি করা এবং তাদের প্রতি বৈষম্য কমিয়ে আনতে অবদান রাখা এবং লক্ষিত জনগোষ্ঠীর ন্যায় বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিতে অবদান রাখা। সরকার এবং এনজিওদের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা।
সভার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যগুলো হল – আইনী অধিকার বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সাথে সমন্বিত কার্যক্রম ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদারকরণ। প্রকল্পের আওতায় এ যাবৎ ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি পুনর্গঠনে এ্যাডভোকেসি সভা করা হয়েছে আটটি। কমিটি সক্রিয়করণ সভা করা হয়েছে আটটি। জেলা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে ১৯টি। পারিবারিক সহিংসতা ও জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে ১৫টি। মামলা পরিচালনায় অসমর্থ ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান সাতটি। বাল্যবিবাহ বন্ধে সহায়তায় ২২টি। জর্জ কোটে মামলায় সহায়তায় ১৪টি এবং জামালপুর সদর থানায় মামলায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে ১৫টি।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 



















