ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরিষাবাড়ীতে বিধবা নারীকে বিয়ে করায় ঘরছাড়া নবদম্পতি ইত্তেফাকুল উলামা জামালপুর জেলা কমিটিতে শামসুদ্দিন সভাপতি ও মোহাম্মদ আলী সম্পাদক নির্বাচিত মাদারগঞ্জে চাচা-ভাতিজা হত্যা, রায়ের অপেক্ষায় দুই পরিবার হাসপাতালে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেয়া নোভিদ পেল জিপিএ-৫ ইসলামপুরে ৯ শিক্ষকের বিদ্যালয়ে ৩ পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের মৃত্যুদণ্ড বৈলডাঙ্গা বিলের প্রকৃতিতে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে লাল শাপলা ইসলামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে বাঁশির শব্দে ছুটল ঘোড়া, উল্লাসে মাতল হাজারো দর্শক জামালপুরে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক এপির বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

সরিষাবাড়ীতে বিধবা নারীকে বিয়ে করায় ঘরছাড়া নবদম্পতি

সরিষাবাড়ী থানা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

দুই সন্তানসহ এক অসহায় বিধবা নারীকে মানবিক কারণে বিয়ে করে সমাজের অশুভ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন চক্রের কোপানলে পড়েছেন শফিকুল ইসলাম মোল্লা (৫১) নামের এক ব্যক্তি। ভালবাসার স্বীকৃতি ও একজন অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ানোই কাল হয়েছে তার জন্য।

উল্টো ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে চুরির মিথ্যা মামলা। ওই দম্পতিসহ বিয়ের সহযোগিতা করার অপরাধে তার চাচাত ভাই হাফিজ উদ্দিন মোল্লাকে সমাজচ্যুত করার মত মধ্যযুগীয় নির্মমতার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু মাতব্বরদের বিরুদ্ধে।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাটবাড়ী এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় শফিকুল ইসলাম মোল্লা বিচার চেয়ে সরিষাবাড়ী থানায় শাহজাহান মোল্লাকে প্রধান ও অজ্ঞাত নামা ৪/৫ জনকে আসামি করে ১১ আগস্ট, মঙ্গলবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

​অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাটবাড়ী এলাকার শাহজাহান মোল্লার ছেলে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই এতিম সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন বিধবা গৃহবধূ ঝর্ণা আক্তার। তার এই চরম অসহায়ত্ব দেখে সামাজিকভাবে পাশে দাঁড়াতে এবং সন্তানদের অভিভাবকত্ব নিতে এগিয়ে আসেন নিহত স্বামীর দূরসম্পর্কের চাচা একই এলাকার মৃত তোফাজ্জল হোসেন মোল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম। ধর্মীয় ও আইনি রীতি মেনে তাদের বিয়েও হয়।

​তবে এই মানবিক বিয়েকে মেনে নিতে পারেনি এলাকার প্রভাবশালী কিছু মাতব্বর ও সমাজপতি। অভিযোগ উঠেছে, বিয়ের পর থেকেই ওই দম্পতিকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। মাতব্বরদের অনৈতিক দাবি ও হুমকিতে নতিস্বীকার না করায় শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঝর্ণার নিহত স্বামীর বাবা শাহজাহান মোল্লাকে দিয়ে চুরির বানোয়াট ও মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। শুধু তাই নয়, সমাজপতিরা ওই দম্পতি এবং বিয়ের সহযোগিতা করার অপরাধ তুলে চাচাত ভাইকে সম্পূর্ণ ‘একঘরে’ করে রাখার ঘোষণা দেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৫ জুলাই, বুধবার  সকালে শাহজাহান মোল্লা ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি নিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটাসহ শফিকুল ইসলামের বসতবাড়িতে চড়াও হন। সেখানে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করা হলে শফিকুল ঘরে ঢুকে আত্মরক্ষা করেন। হামলাকারীরা বসতবাড়ি ভাঙচুর করতে না পেরে প্রকাশ্যে খুন-জখম, জায়গা-জমি বেদখল, পুকুরের মাছ নিধন এবং বিষ প্রয়োগ করে ক্ষতির হুমকি দেয়। এই ঘটনার পর থেকে শফিকুল ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী জীবন বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এই ব্যাপারে ​ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, একজন অসহায় বিধবা নারী ও দুটি পিতৃহীন সন্তানের দায়িত্ব নেয়া কি আমার অপরাধ? আমি আইন ও ধর্ম মেনে বিয়ে করেছি। কিন্তু সমাজপতিরা আমার এই ভাল কাজকে মেনে নিতে না পেরে আমাকে অপরাধী বানাতে চুরির মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে আমরা মানবেতর দিন কাটাচ্ছি এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

​অন্যদিকে ঝর্ণা বেগম এই প্রতিবেদককে বলেন, স্বামী দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর এতিম দুই সন্তানকে নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দুই বছর পার করছি। শ্বশুর থাকতেও তার নাতিনদের খোঁজ খবর নিতেন না। সাহায্যের কথা বলে অনেকেই কুপ্রস্তাব দিতেন। মাতব্বরদের কাছে বিচার দিলে কেউ এগিয়ে আসতেন না। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছি। আর ঐসকল মাতব্বরদের কপালে ভাঁজ পড়ে গেছে। আমার স্বামী আমাকে ও আমার সন্তানদের আশ্রয় দিয়েছেন। আর আমার আগের শ্বশুর উল্টো শফিকুল ও আমার উপর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।সমাজের মাতব্বরেরা আমাদের বেঁচে থাকার অধিকারটুকু কেড়ে নিচ্ছে। আমরা কোন বিচার পাচ্ছি না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহজাহান মোল্লার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শাহীন মিয়া এই প্রতিবেদককে বলেন, এই ঘটনায় শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরিষাবাড়ীতে বিধবা নারীকে বিয়ে করায় ঘরছাড়া নবদম্পতি

সরিষাবাড়ীতে বিধবা নারীকে বিয়ে করায় ঘরছাড়া নবদম্পতি

আপডেট সময় ০৯:১৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

দুই সন্তানসহ এক অসহায় বিধবা নারীকে মানবিক কারণে বিয়ে করে সমাজের অশুভ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন চক্রের কোপানলে পড়েছেন শফিকুল ইসলাম মোল্লা (৫১) নামের এক ব্যক্তি। ভালবাসার স্বীকৃতি ও একজন অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ানোই কাল হয়েছে তার জন্য।

উল্টো ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে চুরির মিথ্যা মামলা। ওই দম্পতিসহ বিয়ের সহযোগিতা করার অপরাধে তার চাচাত ভাই হাফিজ উদ্দিন মোল্লাকে সমাজচ্যুত করার মত মধ্যযুগীয় নির্মমতার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু মাতব্বরদের বিরুদ্ধে।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাটবাড়ী এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় শফিকুল ইসলাম মোল্লা বিচার চেয়ে সরিষাবাড়ী থানায় শাহজাহান মোল্লাকে প্রধান ও অজ্ঞাত নামা ৪/৫ জনকে আসামি করে ১১ আগস্ট, মঙ্গলবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

​অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাটবাড়ী এলাকার শাহজাহান মোল্লার ছেলে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই এতিম সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন বিধবা গৃহবধূ ঝর্ণা আক্তার। তার এই চরম অসহায়ত্ব দেখে সামাজিকভাবে পাশে দাঁড়াতে এবং সন্তানদের অভিভাবকত্ব নিতে এগিয়ে আসেন নিহত স্বামীর দূরসম্পর্কের চাচা একই এলাকার মৃত তোফাজ্জল হোসেন মোল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম। ধর্মীয় ও আইনি রীতি মেনে তাদের বিয়েও হয়।

​তবে এই মানবিক বিয়েকে মেনে নিতে পারেনি এলাকার প্রভাবশালী কিছু মাতব্বর ও সমাজপতি। অভিযোগ উঠেছে, বিয়ের পর থেকেই ওই দম্পতিকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। মাতব্বরদের অনৈতিক দাবি ও হুমকিতে নতিস্বীকার না করায় শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঝর্ণার নিহত স্বামীর বাবা শাহজাহান মোল্লাকে দিয়ে চুরির বানোয়াট ও মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। শুধু তাই নয়, সমাজপতিরা ওই দম্পতি এবং বিয়ের সহযোগিতা করার অপরাধ তুলে চাচাত ভাইকে সম্পূর্ণ ‘একঘরে’ করে রাখার ঘোষণা দেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৫ জুলাই, বুধবার  সকালে শাহজাহান মোল্লা ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি নিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটাসহ শফিকুল ইসলামের বসতবাড়িতে চড়াও হন। সেখানে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করা হলে শফিকুল ঘরে ঢুকে আত্মরক্ষা করেন। হামলাকারীরা বসতবাড়ি ভাঙচুর করতে না পেরে প্রকাশ্যে খুন-জখম, জায়গা-জমি বেদখল, পুকুরের মাছ নিধন এবং বিষ প্রয়োগ করে ক্ষতির হুমকি দেয়। এই ঘটনার পর থেকে শফিকুল ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী জীবন বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এই ব্যাপারে ​ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, একজন অসহায় বিধবা নারী ও দুটি পিতৃহীন সন্তানের দায়িত্ব নেয়া কি আমার অপরাধ? আমি আইন ও ধর্ম মেনে বিয়ে করেছি। কিন্তু সমাজপতিরা আমার এই ভাল কাজকে মেনে নিতে না পেরে আমাকে অপরাধী বানাতে চুরির মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে আমরা মানবেতর দিন কাটাচ্ছি এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

​অন্যদিকে ঝর্ণা বেগম এই প্রতিবেদককে বলেন, স্বামী দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর এতিম দুই সন্তানকে নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দুই বছর পার করছি। শ্বশুর থাকতেও তার নাতিনদের খোঁজ খবর নিতেন না। সাহায্যের কথা বলে অনেকেই কুপ্রস্তাব দিতেন। মাতব্বরদের কাছে বিচার দিলে কেউ এগিয়ে আসতেন না। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছি। আর ঐসকল মাতব্বরদের কপালে ভাঁজ পড়ে গেছে। আমার স্বামী আমাকে ও আমার সন্তানদের আশ্রয় দিয়েছেন। আর আমার আগের শ্বশুর উল্টো শফিকুল ও আমার উপর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।সমাজের মাতব্বরেরা আমাদের বেঁচে থাকার অধিকারটুকু কেড়ে নিচ্ছে। আমরা কোন বিচার পাচ্ছি না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহজাহান মোল্লার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শাহীন মিয়া এই প্রতিবেদককে বলেন, এই ঘটনায় শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।