ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুরে বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে শিক্ষকদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জামালপুরে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েই মিমিকে হত্যা: কাউসার গ্রেপ্তার মাদারগঞ্জে নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, তিন দোকানিকে জরিমানা সরিষাবাড়ীতে নদীতে গোসলে নেমে শিশুর মৃত্যু  মাদারগঞ্জে ৮০ কেজি নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ ধ্বংস ঘোষণার মধ্যদিয়ে সামাজিক ব্যধিমুক্তির আন্দোলন আরো জোরদার হবে : ওয়ারেছ আলী মামুন সরিষাবাড়ীতে রাসেল হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী : মিল্লাত নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজের ১২ ঘন্টা পর দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার

পানি জমে মরে গেছে জামালপুরে হর্টিকালচার সেন্টারের ১৩৭টি মাতৃ লিচু গাছ

জামালপুর : জলাবদ্ধতার কারণে জামালপুরে হর্টিকালচার সেন্টারের ১৩৭টি মাতৃ লিচু গাছ মরে গেছে। অন্যান্য গাছও মরছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরে গত কয়েক বছর ধরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে মরে গেছে হর্টিকালচার সেন্টারের ৬০ বছরের পুরনো প্রায় দেড়শ’ মাতৃ লিচু গাছ। হুমকিতে রয়েছে অন্যান্য গাছের মাতৃবাগান। এতে চারা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

জামালপুর ছাড়াও শেরপুর ও আশেপাশের জেলাগুলোতে চারা সরবরাহ করা হলেও এখন তা পুরোপুরি বন্ধ। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে হর্টিকালচার সেন্টার ও আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতার কারণে সরকারের আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আগে থেকে পানি নিষ্কাশনে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ায় গাছের এমন করুণ পরিণতির জন্য ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন পানি নিষ্কাশনে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

জামালপুর শহরের চন্দ্রা এলাকায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের অবস্থান। এখানে গাছের চারা উৎপাদনের জন্য রয়েছে একাধিক মাতৃবাগান। কিন্তু গত তিন থেকে চার বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘ সময় এসব বাগানের প্রায় ১০ একর জায়াগজুড়ে পানি জমে থাকে। অন্যান্য মাতৃবাগানের তুলনায় লিচু গাছের মাতৃবাগান বেশ বড় ও পুরাতন। চারা উৎপাদন ও বানিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য ১৩৯টি মাতৃ লিচু গাছ রয়েছে বাগানে।

তবে জলাবদ্ধতার কারণে গাছের গোড়ায় পানি জমে প্রায় ৬০ বছরের পুরনো এসব লিচু গাছের ১৩৭টি মরে গেছে। এখন মাতৃ লিচু বাগানটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে। এখানে নেই কোন কাজের ব্যস্ততা। নেই গাছের কোন পরিচর্যা। বাগানজুড়ে শধুই নিস্তব্ধতা। সেখানে সারি সারি লিচু গাছে একটি সতেজ পাতাও অবশিষ্ট নেই। বিবর্ণ হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে হেলে পড়ার প্রতীক্ষায়। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় প্রতিটি গাছের গোড়ায় বছরের বেশির ভাগ সময় জমে থাকা পানিই এসব গাছের করুণ পরিণতির কারণ। মাতৃ লিচু গাছ মরে গিয়ে চারা উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বছরে লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

শুধু লিচু বাগান নয়, দীর্ঘ জলাবদ্ধতার কারণে পাশের আম, ড্রাগনসহ অন্যান্য গাছের মাতৃবাগানও হুমকির মুখে রয়েছে। শুধু আর্থিক নয়। এটা পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় হর্টিকালচার সেন্টারসহ আশেপাশের এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধাতার জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। দীর্ঘ দিন ধরে টানা জলাবদ্ধতা নিরসনে কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের দাবি দ্রুত যেন সমস্যার সমাধান করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, জামালপুর হর্টিকালচারের পুরানো খুব মূল্যবান ফলজ মাদার গাছ যা থেকে চারা করা, নতুন গাছের জন্ম দেওয়া হয় এরকম শতাধিক গাছ মরে গেছে। যদি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সচল থাকত। যদি জলাবদ্ধতা না হত। তাহলে হয়ত এই ঘটনাটা ঘটত না। যখন মানুষের ঘরবাড়িতে জলাবদ্ধতা হয়। মানুষ যখন পানিতে আটকা পড়ে। তখন মানুষ হইচই করে। আমরা চিৎকার করি। কিন্তু গাছগুলো তো কথা বলতে পারে না। তারা নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের কষ্টটা যেন দেখার কেউ নেই।

রাসেল মিয়া বলেন, যেখানে গাছকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য গাছ রোপনের জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সাধারণ জনগণ কাজ করছে। সেখানে খুবই দু:খজনক ব্যাপার হল জামালপুর হর্টিকালচারে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ৬০ থেকে ৬৫ বছর আগের গাছগুলো মরে গেলো। এটা খুবই কষ্টদায়ক।

নাদিম মাহমুদ বলেন, পানি জমে লিচু বাগান নষ্ট হয়ে গেল। কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপই নিল না। যদি পদক্ষেপ নিত তাহলে এই বাগানটা ধরে রাখা যেত। এই লিচু বাগান থেকে আমরা অনেক লিচু কিনেছি। এখন বাগানটা ধ্বংস।

জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ শাখাওয়াত ইকরাম এই প্রতিবেদককে বলেন, জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের ২৫ একর জায়গার মধ্যে ১০ একর জায়গা তিন বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত। মাতলিচু বাগানটি সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন। জলাবদ্ধতার কারণে ১৩৯টি মাতৃলিচু গাছের মধ্যে প্রায় ১৩৭টি গাছই বিনষ্ট হয়ে গেছে। যেখান থেকে আমরা অনেক পরিমাণে সায়ন সংগ্রহ করে চারা উৎপাদন করতাম। এটা খুবই উন্নত মানের চারা ও উন্নত জাতের লিচু ছিল। প্রতি বছর লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রি হত।

তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে হর্টিকালচার সেন্টারের প্রোডাকশন এরিয়া যেখানে আমরা চারা উৎপাদন করে সংরক্ষণ করে রাখি সেগুলোও পানিতে নিমজ্জিত। যার ফলে উৎপাদিত চারাও নষ্ট হচ্ছে। লিচু ছাড়াও বিদেশি আমের বাগান, ড্রাগন বাগান ছিল এবং বিদেশি কিছু নতুন নতুন আমের জাত আনা হয়েছিল সেগুলোকে নিজ চোখে মৃত দেখেছি। জলাবদ্ধতার ব্যাপারটি বিভিন্ন সময় জেলার উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় আমরা উপস্থাপন করেছি। ঢাকা থেকে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি, পৌরসভার মেয়র, প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি এসে বিভিন্ন সময় পরিদর্শন করে গেছেন। আমরা সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দিয়েছি সেটা নিয়ে একটা সম্মিলিতভাবে পরিকল্পনা তৈরি করে তারা নিয়ে গেছেন। তারা পানি নিষ্কাশনে পরিকল্পনা নিবেন এই আশায় আছি।

জামালপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী মো, জহুরুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, মাস্টার ড্রেন না থাকার কারণে একটু বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন জায়গায় পানি উঠে। সার্ভে করে কোন এলাকা নিচু, কোন এলাকা উচু তা নির্ধারণ করেছি। কোভিড ১৯ প্রজেক্ট থেকে শহরের আনসার ক্যাম্প থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন ড্রেনের কাজটি শেষ হলে হর্টিকালচার সেন্টারের পানি নেমে যাবে। আরও তিনটি ড্রেন নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে। বরাদ্দ পেলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তখন শহরে আর কোন জলাবদ্ধতা থাকবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে শিক্ষকদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

পানি জমে মরে গেছে জামালপুরে হর্টিকালচার সেন্টারের ১৩৭টি মাতৃ লিচু গাছ

আপডেট সময় ১১:১২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

জামালপুরে গত কয়েক বছর ধরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে মরে গেছে হর্টিকালচার সেন্টারের ৬০ বছরের পুরনো প্রায় দেড়শ’ মাতৃ লিচু গাছ। হুমকিতে রয়েছে অন্যান্য গাছের মাতৃবাগান। এতে চারা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

জামালপুর ছাড়াও শেরপুর ও আশেপাশের জেলাগুলোতে চারা সরবরাহ করা হলেও এখন তা পুরোপুরি বন্ধ। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে হর্টিকালচার সেন্টার ও আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতার কারণে সরকারের আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আগে থেকে পানি নিষ্কাশনে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ায় গাছের এমন করুণ পরিণতির জন্য ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন পানি নিষ্কাশনে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

জামালপুর শহরের চন্দ্রা এলাকায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের অবস্থান। এখানে গাছের চারা উৎপাদনের জন্য রয়েছে একাধিক মাতৃবাগান। কিন্তু গত তিন থেকে চার বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘ সময় এসব বাগানের প্রায় ১০ একর জায়াগজুড়ে পানি জমে থাকে। অন্যান্য মাতৃবাগানের তুলনায় লিচু গাছের মাতৃবাগান বেশ বড় ও পুরাতন। চারা উৎপাদন ও বানিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য ১৩৯টি মাতৃ লিচু গাছ রয়েছে বাগানে।

তবে জলাবদ্ধতার কারণে গাছের গোড়ায় পানি জমে প্রায় ৬০ বছরের পুরনো এসব লিচু গাছের ১৩৭টি মরে গেছে। এখন মাতৃ লিচু বাগানটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে। এখানে নেই কোন কাজের ব্যস্ততা। নেই গাছের কোন পরিচর্যা। বাগানজুড়ে শধুই নিস্তব্ধতা। সেখানে সারি সারি লিচু গাছে একটি সতেজ পাতাও অবশিষ্ট নেই। বিবর্ণ হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে হেলে পড়ার প্রতীক্ষায়। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় প্রতিটি গাছের গোড়ায় বছরের বেশির ভাগ সময় জমে থাকা পানিই এসব গাছের করুণ পরিণতির কারণ। মাতৃ লিচু গাছ মরে গিয়ে চারা উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বছরে লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

শুধু লিচু বাগান নয়, দীর্ঘ জলাবদ্ধতার কারণে পাশের আম, ড্রাগনসহ অন্যান্য গাছের মাতৃবাগানও হুমকির মুখে রয়েছে। শুধু আর্থিক নয়। এটা পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় হর্টিকালচার সেন্টারসহ আশেপাশের এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধাতার জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। দীর্ঘ দিন ধরে টানা জলাবদ্ধতা নিরসনে কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের দাবি দ্রুত যেন সমস্যার সমাধান করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, জামালপুর হর্টিকালচারের পুরানো খুব মূল্যবান ফলজ মাদার গাছ যা থেকে চারা করা, নতুন গাছের জন্ম দেওয়া হয় এরকম শতাধিক গাছ মরে গেছে। যদি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সচল থাকত। যদি জলাবদ্ধতা না হত। তাহলে হয়ত এই ঘটনাটা ঘটত না। যখন মানুষের ঘরবাড়িতে জলাবদ্ধতা হয়। মানুষ যখন পানিতে আটকা পড়ে। তখন মানুষ হইচই করে। আমরা চিৎকার করি। কিন্তু গাছগুলো তো কথা বলতে পারে না। তারা নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের কষ্টটা যেন দেখার কেউ নেই।

রাসেল মিয়া বলেন, যেখানে গাছকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য গাছ রোপনের জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সাধারণ জনগণ কাজ করছে। সেখানে খুবই দু:খজনক ব্যাপার হল জামালপুর হর্টিকালচারে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ৬০ থেকে ৬৫ বছর আগের গাছগুলো মরে গেলো। এটা খুবই কষ্টদায়ক।

নাদিম মাহমুদ বলেন, পানি জমে লিচু বাগান নষ্ট হয়ে গেল। কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপই নিল না। যদি পদক্ষেপ নিত তাহলে এই বাগানটা ধরে রাখা যেত। এই লিচু বাগান থেকে আমরা অনেক লিচু কিনেছি। এখন বাগানটা ধ্বংস।

জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ শাখাওয়াত ইকরাম এই প্রতিবেদককে বলেন, জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের ২৫ একর জায়গার মধ্যে ১০ একর জায়গা তিন বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত। মাতলিচু বাগানটি সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন। জলাবদ্ধতার কারণে ১৩৯টি মাতৃলিচু গাছের মধ্যে প্রায় ১৩৭টি গাছই বিনষ্ট হয়ে গেছে। যেখান থেকে আমরা অনেক পরিমাণে সায়ন সংগ্রহ করে চারা উৎপাদন করতাম। এটা খুবই উন্নত মানের চারা ও উন্নত জাতের লিচু ছিল। প্রতি বছর লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রি হত।

তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে হর্টিকালচার সেন্টারের প্রোডাকশন এরিয়া যেখানে আমরা চারা উৎপাদন করে সংরক্ষণ করে রাখি সেগুলোও পানিতে নিমজ্জিত। যার ফলে উৎপাদিত চারাও নষ্ট হচ্ছে। লিচু ছাড়াও বিদেশি আমের বাগান, ড্রাগন বাগান ছিল এবং বিদেশি কিছু নতুন নতুন আমের জাত আনা হয়েছিল সেগুলোকে নিজ চোখে মৃত দেখেছি। জলাবদ্ধতার ব্যাপারটি বিভিন্ন সময় জেলার উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় আমরা উপস্থাপন করেছি। ঢাকা থেকে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি, পৌরসভার মেয়র, প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি এসে বিভিন্ন সময় পরিদর্শন করে গেছেন। আমরা সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দিয়েছি সেটা নিয়ে একটা সম্মিলিতভাবে পরিকল্পনা তৈরি করে তারা নিয়ে গেছেন। তারা পানি নিষ্কাশনে পরিকল্পনা নিবেন এই আশায় আছি।

জামালপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী মো, জহুরুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, মাস্টার ড্রেন না থাকার কারণে একটু বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন জায়গায় পানি উঠে। সার্ভে করে কোন এলাকা নিচু, কোন এলাকা উচু তা নির্ধারণ করেছি। কোভিড ১৯ প্রজেক্ট থেকে শহরের আনসার ক্যাম্প থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন ড্রেনের কাজটি শেষ হলে হর্টিকালচার সেন্টারের পানি নেমে যাবে। আরও তিনটি ড্রেন নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে। বরাদ্দ পেলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তখন শহরে আর কোন জলাবদ্ধতা থাকবে না।