ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বকশীগঞ্জে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উদযাপিত সরিষাবাড়ীতে দিনমজুর দম্পতির ৪টি ষাঁড় পুড়ে ছাই, সর্বস্বান্ত পরিবার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ইসলামপুরে সিরাজগঞ্জে ৮৫২ মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও সম্মাননা দিল খাজা মোজাম্মেল হক (র.) ফাউন্ডেশন খেলাধুলায় জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে নারীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে : প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এয়ারবাসের উড়োজাহাজ দ্রুত সরবরাহের আহ্বান বিমানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন পেল জামালপুরের কাশফিয়া মাদারগঞ্জে ভিজিএফের চাল বেচাকেনার দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা, চাল জব্দ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জামালপুরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

ঘোষণার মধ্যদিয়ে সামাজিক ব্যধিমুক্তির আন্দোলন আরো জোরদার হবে : ওয়ারেছ আলী মামুন

জামালপুর : ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষর করেন জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

শিশুশ্রম, মাদক, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং বাল্যবিয়েমুক্ত সদর উপজেলা ঘোষণা অনুষ্ঠানে শিশুশ্রম থেকে মুক্ত হয়ে ভর্তিকৃত শিশুর পরিবারকে আয়মুখী কাজের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ২৫ আগস্ট, মঙ্গলবার  এ উপলক্ষে শহিদ সাফওয়ান সদ্য অডিটরিয়ামে প্রধান অতথির বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। এরিয়া প্রোগাম, উন্নয়ন সংঘ ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের রয়েছে জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদ।

সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, সমাজের উন্নয়ন অগ্রগতির পথে প্রধান অন্তরায় মাদক, বাল্যবিয়ে, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং শিশুশ্রম। এসব সামাজিক ব্যধি দূর করতে হলে সরকারি, বেসরকারি, কমিউনিটির ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

জামালপুর : ঘোষণা অনুষ্ঠানের ফলক উন্মোচন করেন সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

তিনি আরও বলেন, আজকের ঘোষণা যাতে প্রতিকী না হয়। এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি ওয়ার্ল্ড ভিশন ও উন্নয়ন সংঘের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রামের মহতী উদ্যোগের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থ জানিয়ে বলেন, আজকে আমরা ঘোষণা করার মধ্যদিয়ে এসব প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী সামাজিক ব্যধিগুলোর কারণ, সমাধানে করণীয় বিষয়ের উপর বিশ্লেষণমূলক আলোচনা করে বলেন, একটি পরিবার একটি শিশু। অর্থাৎ বিত্তবান পরিবারগুলো যদি একটি করে শিশুর দায়িত্ব নেন তাহলে শিশুশ্রমের বদলে সবাই স্কুলে যাবে। ঝরে পড়বে না। ঠিকঠাক মত নজরে রাখতে পারলে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়বে না। পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারলে বাল্যবিয়ে হবে না। শিশুর সুরক্ষায় জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রামের গৃহীত কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন তিনি। এসব শিশুদের পড়ালেখার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তা করার আশ্বাসও দেন তিনি।

জামালপুর : অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ রোটারি ক্লাব অব জামালপুরের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হাই আল হাদী, জামালপুর জেনারেল হাসপতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ভিশনের ডাইরেক্টর অপারেশন এন্ড টেকনিকেল প্রোগ্রাম লিমা হান্না দারিং, লিড এডুকেশন প্রোগ্রাম মো. কামরুজ্জামান কালাম, জাবেদ গ্রুপের পরিচালক আলহাজ রাকিবুল করিম, জেলা নিকাহ নিবন্ধক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজি মশিউর রহমান প্রমুখ।

এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন সংঘের নির্বাহী পরিচালক ফাহাদ মাহমুদ ইবনে হুদা। কর্মসূচির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের জামালপুর এরিয়ার প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার অরবিন্দ সিলভেস্টার গোমেজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম ও এপি ম্যানেজার মিনারা পারভীন। অতিথিদের ধন্যবাদ জানান উন্নয়ন সংঘের পরিচালক কর্মসূচি মুর্শেদ ইকবাল।

আলোচনা সভা শেষে জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষর করেন। এর আগে শিশুশ্রম, মাদক, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং বাল্যবিয়েমুক্ত উপজেলা ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষর করেন। সবশেষে রোটারি ক্লাব অব জামালপুর ও উপজেলার প্রশাসনের মাধ্যমে ভর্তিকৃত শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

জামালপুর : শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয় শিক্ষা উপকরণ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর সদর উপজেলা ও জামালপুর পৌরসভায় জরিপের মাধ্যমে ৪৫৬ জন শিশু শ্রমিক খুঁজে বের কার হয়। এরমধ্যে ১১৮ জন শিশুর দায়িত্ব নেন জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম। প্রতি শিশুর পরিবারকে আয়মুখী কাজের জন্য ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এরমধ্যে কমিউনিটির কাছ থেকে চার লাখ ২০ হাজার টাকা।

উল্লেখ, জামালপুর সদর উপজেলায় গত এক বছরে কাজির মাধ্যমে কোন বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয় নাই। বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হারও শূন্যের কোটায় নেমে আসছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঘোষণার মধ্যদিয়ে সামাজিক ব্যধিমুক্তির আন্দোলন আরো জোরদার হবে : ওয়ারেছ আলী মামুন

আপডেট সময় ০৯:১৫:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

শিশুশ্রম, মাদক, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং বাল্যবিয়েমুক্ত সদর উপজেলা ঘোষণা অনুষ্ঠানে শিশুশ্রম থেকে মুক্ত হয়ে ভর্তিকৃত শিশুর পরিবারকে আয়মুখী কাজের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ২৫ আগস্ট, মঙ্গলবার  এ উপলক্ষে শহিদ সাফওয়ান সদ্য অডিটরিয়ামে প্রধান অতথির বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। এরিয়া প্রোগাম, উন্নয়ন সংঘ ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের রয়েছে জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদ।

সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, সমাজের উন্নয়ন অগ্রগতির পথে প্রধান অন্তরায় মাদক, বাল্যবিয়ে, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং শিশুশ্রম। এসব সামাজিক ব্যধি দূর করতে হলে সরকারি, বেসরকারি, কমিউনিটির ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

জামালপুর : ঘোষণা অনুষ্ঠানের ফলক উন্মোচন করেন সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

তিনি আরও বলেন, আজকের ঘোষণা যাতে প্রতিকী না হয়। এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি ওয়ার্ল্ড ভিশন ও উন্নয়ন সংঘের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রামের মহতী উদ্যোগের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থ জানিয়ে বলেন, আজকে আমরা ঘোষণা করার মধ্যদিয়ে এসব প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী সামাজিক ব্যধিগুলোর কারণ, সমাধানে করণীয় বিষয়ের উপর বিশ্লেষণমূলক আলোচনা করে বলেন, একটি পরিবার একটি শিশু। অর্থাৎ বিত্তবান পরিবারগুলো যদি একটি করে শিশুর দায়িত্ব নেন তাহলে শিশুশ্রমের বদলে সবাই স্কুলে যাবে। ঝরে পড়বে না। ঠিকঠাক মত নজরে রাখতে পারলে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়বে না। পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারলে বাল্যবিয়ে হবে না। শিশুর সুরক্ষায় জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রামের গৃহীত কার্যক্রম সন্তোষজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন তিনি। এসব শিশুদের পড়ালেখার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তা করার আশ্বাসও দেন তিনি।

জামালপুর : অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ রোটারি ক্লাব অব জামালপুরের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হাই আল হাদী, জামালপুর জেনারেল হাসপতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ভিশনের ডাইরেক্টর অপারেশন এন্ড টেকনিকেল প্রোগ্রাম লিমা হান্না দারিং, লিড এডুকেশন প্রোগ্রাম মো. কামরুজ্জামান কালাম, জাবেদ গ্রুপের পরিচালক আলহাজ রাকিবুল করিম, জেলা নিকাহ নিবন্ধক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজি মশিউর রহমান প্রমুখ।

এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন সংঘের নির্বাহী পরিচালক ফাহাদ মাহমুদ ইবনে হুদা। কর্মসূচির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের জামালপুর এরিয়ার প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার অরবিন্দ সিলভেস্টার গোমেজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম ও এপি ম্যানেজার মিনারা পারভীন। অতিথিদের ধন্যবাদ জানান উন্নয়ন সংঘের পরিচালক কর্মসূচি মুর্শেদ ইকবাল।

আলোচনা সভা শেষে জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষর করেন। এর আগে শিশুশ্রম, মাদক, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং বাল্যবিয়েমুক্ত উপজেলা ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষর করেন। সবশেষে রোটারি ক্লাব অব জামালপুর ও উপজেলার প্রশাসনের মাধ্যমে ভর্তিকৃত শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

জামালপুর : শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয় শিক্ষা উপকরণ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর সদর উপজেলা ও জামালপুর পৌরসভায় জরিপের মাধ্যমে ৪৫৬ জন শিশু শ্রমিক খুঁজে বের কার হয়। এরমধ্যে ১১৮ জন শিশুর দায়িত্ব নেন জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম। প্রতি শিশুর পরিবারকে আয়মুখী কাজের জন্য ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এরমধ্যে কমিউনিটির কাছ থেকে চার লাখ ২০ হাজার টাকা।

উল্লেখ, জামালপুর সদর উপজেলায় গত এক বছরে কাজির মাধ্যমে কোন বাল্যবিয়ে সংঘটিত হয় নাই। বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হারও শূন্যের কোটায় নেমে আসছে।