ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরিষাবাড়ীতে রাসেল হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী : মিল্লাত নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজের ১২ ঘন্টা পর দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার জামালপুরে ৩ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাদকাসক্ত বাবাকে পুলিশে দিলেন ছেলে জামালপুর জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু কোনো শিশু স্কুলের বাইরে থাকবে না, প্রতিটি শিশুই শিখবে : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী র‌্যাবের অভিযান : দেওয়ানগঞ্জে ৪০ লাখ টাকার হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সরিষাবাড়ীতে রাসেল হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই

সরিষাবাড়ী : পিবিআই এর অভিযানে গ্রেপ্তার আসামি কালু মিয়া। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় প্রায় দেড় বছর আগে সংঘটিত রাসেল মিয়া (৩৮) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। এই ঘটনায় কালু মিয়া (২৮) নামে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, নিহত রাসেল মিয়া সরিষাবাড়ী পৌরসভার আরামনগর বাজারের একটি হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ, বুধবার সন্ধ্যার পর তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন ২০ মার্চ, বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, আরামনগর বাজারের সেটপট্টির দুধ হাটিতে হাফিজুর রহমানের চায়ের দোকানের ঘরের ভেতর বাঁশের ধন্নার সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রাসেলের মরদেহ পাওয়া গেছে।

এই ঘটনায় নিহতের মা মেহেনারা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ তদন্ত করে। পরবর্তীতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলার তদন্ত ভার পিবিআই, জামালপুরকে দেওয়া হয়।

পিবিআই জানায়, মামলাটি তদন্তের একপর্যায়ে চলতি বছরের ১১ আগস্ট, মঙ্গলবার সরিষাবাড়ীর আরামনগর এলাকা থেকে কালু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সোহেলসহ আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেন তিনি।

তদন্ত ও আদালতে দেওয়া আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, নিহত রাসেল মিয়া ঘটনার কিছুদিন আগে সোহেলের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। ওই টাকা ফেরত চেয়ে সোহেল বিভিন্ন সময় রাসেলকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ সন্ধ্যার পর সোহেল তার এক বন্ধুর মাধ্যমে রাসেলকে ডেকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে কালু মিয়াসহ কয়েকজন মিলে পাওনা টাকা আদায়ের কথা বলে রাসেলকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ আরামনগর বাজারের একটি চায়ের দোকান ঘরে নিয়ে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআই আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য রাসেলের হাত-পা বেঁধে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। আসামির জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।

গ্রেপ্তার কালু মিয়াকে ২৩ আগস্ট, রবিবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত এই প্রতিবেদককে বলেন, মামলাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক বিধায় মামলা চাঞ্চল্যকর। পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাসেল মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরিষাবাড়ীতে রাসেল হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই

সরিষাবাড়ীতে রাসেল হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই

আপডেট সময় ০২:১৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় প্রায় দেড় বছর আগে সংঘটিত রাসেল মিয়া (৩৮) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। এই ঘটনায় কালু মিয়া (২৮) নামে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, নিহত রাসেল মিয়া সরিষাবাড়ী পৌরসভার আরামনগর বাজারের একটি হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ, বুধবার সন্ধ্যার পর তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন ২০ মার্চ, বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, আরামনগর বাজারের সেটপট্টির দুধ হাটিতে হাফিজুর রহমানের চায়ের দোকানের ঘরের ভেতর বাঁশের ধন্নার সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রাসেলের মরদেহ পাওয়া গেছে।

এই ঘটনায় নিহতের মা মেহেনারা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সরিষাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ তদন্ত করে। পরবর্তীতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলার তদন্ত ভার পিবিআই, জামালপুরকে দেওয়া হয়।

পিবিআই জানায়, মামলাটি তদন্তের একপর্যায়ে চলতি বছরের ১১ আগস্ট, মঙ্গলবার সরিষাবাড়ীর আরামনগর এলাকা থেকে কালু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সোহেলসহ আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেন তিনি।

তদন্ত ও আদালতে দেওয়া আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, নিহত রাসেল মিয়া ঘটনার কিছুদিন আগে সোহেলের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। ওই টাকা ফেরত চেয়ে সোহেল বিভিন্ন সময় রাসেলকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ সন্ধ্যার পর সোহেল তার এক বন্ধুর মাধ্যমে রাসেলকে ডেকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে কালু মিয়াসহ কয়েকজন মিলে পাওনা টাকা আদায়ের কথা বলে রাসেলকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ আরামনগর বাজারের একটি চায়ের দোকান ঘরে নিয়ে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআই আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য রাসেলের হাত-পা বেঁধে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। আসামির জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।

গ্রেপ্তার কালু মিয়াকে ২৩ আগস্ট, রবিবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত এই প্রতিবেদককে বলেন, মামলাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক বিধায় মামলা চাঞ্চল্যকর। পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাসেল মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।