জামালপুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিএস ফিরোজ মিয়ার উদ্যােগে ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাতে পৌরসভার পাথালিয়া ছাতার মোড় এলাকায় উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জিএস ফিরোজ মিয়া আসছে নির্বাচনে জামালপুর পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। এরই অংশ হিসাবে তিনি এই বৈঠকের আয়োজন করেন।
জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সাজু মিয়ার সভাপতিত্বে উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিএস ফিরোজ মিয়া। ফিরোজ মিয়া বলেন, আমি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। আমার নেতৃত্ব কেউ দয়া করে দেয় নাই। আমি পাথালিয়ার ছেলে। আমি পাথালিয়ার গর্ব। পাথালিয়া আমার অহংকার। আমি পাথালিয়ার ছেলে বলে এখন পর্যন্ত রাজনীতিতে অধিষ্ঠ হয়েছি। স্রোতের বিপরীতে আমি সাঁতার কাটি। লংকায় গেলে সবাই রাবণ হয়। কেউ কাউকে চিনে না।
তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অনেক গ্রামের মানুষ অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেক মানুষ। কেউ কি বলতে পারবেন আমি কাউকে অন্যায়ভাবে কটু কথা বলেছি। এখন পর্যন্ত আমি কারও সাথে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছি? আমি বলতে চাই আজকে যারা ক্ষমতার বাহাদুরি করে বিভিন্নভাবে পদ-পদবি নিয়ে এলাকার ভেতরে এলাকার মানুষকে হয়রানি করছেন। সেই ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। পাথালিয়ায় দলগত কোন বিভেদ ছিল না অতীতে। বর্তমানেও নাই। আশা করি ভবিষ্যতেও কেউ করবে না। করলে সকলে মিলে প্রতিহত করব।
তিনি বলেন, আসছে নির্বাচনে আমি মেয়র পদে নির্বাচন করতে চাই। আমি যদি প্রার্থী হই তাহলে আপনারা সবাই এই ফিরোজের জন্য পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে সবার কাছে একটি করে ভোট ভিক্ষা চাইবেন। আর সবাই ফিরোজের দায়িত্ব নিবেন। সবাইকে বলবেন ফিরোজকে যদি আপনারা মেয়র বানান আমি কথা দিচ্ছি যে কোন কাজ ফিরোজকে দিয়ে সমাধান করব। এরকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের কাছ থেকে ভোট নিবেন। আজকে পৌরসভার সকল উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত। রাস্তাঘাট নাই। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাই। আমার জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত আমি দেখি নাই এই পাথালিয়ায় পানি উঠেছে। আজ একটু বৃষ্টি হলেই পাথালিয়াসহ শহরের সকল রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। এর কারণ কি জানেন?
ফিরোজ মিয়া বলেন, জামালপুর পৌরসভার যত ড্রেনেজ ব্যবস্থা হয়েছিল, সেই ড্রেনেজ ব্যবস্থাগুলো অপরিকল্পিতভাবে হয়ে ছিল। পৌরসভার জনগণের কথা চিন্তা না করে তারা হরিলুটের কাজ করে ব্যবসা করেছিল। আজকে সেই ড্রেন দিয়ে পানি যায় না। ড্রেনের নিচে পানি জমে থাকে। আমি যদি মেয়র হই আল্লাহ যদি আমাকে মেয়র বানায়। আমি যদি ওই চেয়ারে বসি, তাহলে আমি কথা দিচ্ছি জামালপুর পৌরসভার সর্বপ্রথম ড্রেনেজ ব্যবস্থা করব। জামালপুর পৌরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করাসহ জামালপুর পৌরসভাকে একটি আধুনিক পৌরসভা হিসাবে গড়ে তুলবো।
জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের সঞ্চালনায় উঠান বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ফিরোজ মিয়া, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল সাত্তার, বিএনপিনেতা আব্দুল মোতালেব, জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য আব্দুল জব্বার, গোলাম মোস্তফা, মিজানুর রহমান স্বপন, জেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক, শহর যুবদলের সদস্য সচিব জিয়াউল হক জিয়া, যুগ্ম-আহবায়ক রেজাউল করিম নিলু, আলতাব হোসেন মন্ডল, জেলা মহিলা দলের নেত্রী পারভীন আক্তার, রুবি, শিখা, নাসরিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য রেজাউল করিম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সবুজ প্রমুখ।
উঠান বৈঠকে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
মো. আলমগীর : নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর, বাংলারচিঠিডটকম 

















