ঢাকা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাদেরকে প্রার্থী হতে সুযোগ না দেওয়ার পক্ষে ইসি মাহ্দী আমিনের সাথে জ্যঁ পেম-এর সাক্ষাৎ বকশীগঞ্জে বিদ্যালয় ভবনে বিকট শব্দে পাঠদান বন্ধ দেওয়ানগঞ্জে নদীতে ভাসছিল অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ স্কুলছাত্রী অপহরণের দায়ে তিন আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের নতুন স্কুল ড্রেস দিলেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু সরিষাবাড়ীতে জিলবাংলা সুগার মিলে ৩ দফা দাবিতে শ্রমিকদের সভা অনুষ্ঠিত জামালপুরে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আসামি স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

জামালপুরের মোক্তার বৃত্তান্ত

[এই অণুনিবন্ধটি শাহ্‌ মোহাম্মদ কবীর, অ্যাডভোকেট, জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ কোর্ট-কে উৎসর্গকৃত]

মোক্তার (Mukhtar/Mukhtiar) ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের আইন পেশাজীবী। যারা সীমিত পরিসরে নিম্ন আদালতে দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা পরিচালনা করতেন। মোক্তারগণ মূলত ফৌজদারি (Criminal) আদালত এবং কিছু ক্ষেত্রে রাজস্ব বা রেভিনিউ অফিসে (Revenue offices) আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

১৮৭৯ সালের লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাক্ট (The Legal Practitioners Act, 1879) এর অধীনে মোক্তারদের সনদ প্রদান, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং তাদের পেশাগত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হতো। তারা উকিল বা প্লিডারদের (Pleaders) মতো দেওয়ানি আদালতে পূর্ণাঙ্গ প্র্যাকটিস করতে পারতেন না। তাদের কাজ মূলত ছোটখাটো আইনগত বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। নিম্ন আদালতগুলোতে আইনগত সহায়তার জন্য মোক্তাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

জানা যায়, ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত মোক্তার পদধারীরা এ নামে তাদের পেশা পরিচালনা করেন। পরে তাদের এ অভিধা বিলোপ করে কাউকে কাউকে যোগ্যতা অনুযায়ী নিম্ন আদালতে অ্যাডভোকেট পদবি প্রদান করা হয়।

আজ থেকে ২৪-২৫ বছর আগে আমরা যখন ২০০১-২০০২ শিক্ষাবর্ষে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে এইচএসসি পড়তে এসেছিলাম তখন এক ঝাঁক প্রবীণ মোক্তার দেখে এসেছি এবং কারও কারও নাম শোনেছি। তারা একদা তদানীন্তন জামালপুর গভঃমেন্ট হাইস্কুল (অধুনা জামালপুর জিলা স্কুল) ভবনের উত্তর দিকে মিউনিসিপ্যালিটি ভবনের দিকে উকিল বার লাইব্রেরি এবং ফৌজদারি ও মুনসেফ কোর্টে পেশা পরিচালনা করতেন। উল্লেখ্য, স্কুলের দক্ষিণ দিকে ছিল মুনসেফ সাহেবের বাসভবন এবং তার পাশে ছিল এসডিও সাহেবের দ্বিতল বাস ভবন যা তদানীন্তন জামালপুর টাউনের একমাত্র দ্বিতল বাড়ি।

সেই সময়কার বেশ কয়েকজন মোক্তার খুব নামকরা ছিল। এরা অনেকেই ব্রিটিশ ভারতের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে ছিলেন। জামালপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তাদের অবদান অসামান্য। এ রকম কয়েকজন মোক্তার হলেন- গোলাম মহাম্মদ (১৯১৭ সালে মোক্তারি পরীক্ষায় পাশ করেন এবং জামালপুরের অন্যতম পথিকৃৎ মুসলিম মোক্তার তিনি), কফিল মোক্তার (ডা. ফখরুজ্জামানের বাবা), হামিদ মোক্তার (প্রাক্তন পার্লামেন্টারিয়ান শাহনেওয়াজের বাবা), গফুর মোক্তার (চৈতন্য নার্সারি গবেষক ও কবি মু. আজিজুর রহমানের বাবা), ফয়েজ মোক্তার (কবি আহমদ আজিজের বাবা), ইদ্রিস মোক্তার (রেজা খানের বাবা), তাছির মোক্তার (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম দুলালের বাবা), কোন কিতাবে লেখা আছে গো হারাম বাজনা গানে’র গীতিকার ও কবি ফজলুর রহমান আজনবী মোক্তার (নজরুল পুরস্কার প্রাপ্ত শিল্পী রুমী আজনবীর বাবা), বশির মোক্তার, ইউনুছ মোক্তার (নাট্যকার এম.এস. হুদার বাবা), বদি মোক্তার (নাট্য অভিনেতা আগা মোহাম্মদ আমিনুজ্জামান ভাইয়ের বাবা) প্রমুখ। সেই সময়কালের কোনো মোক্তার আজ আর বেঁচে নেই।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য-সমালোচক এবং অফিসার, বাংলা একাডেমি, ঢাকা

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

জামালপুরের মোক্তার বৃত্তান্ত

আপডেট সময় ১০:৩৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

[এই অণুনিবন্ধটি শাহ্‌ মোহাম্মদ কবীর, অ্যাডভোকেট, জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ কোর্ট-কে উৎসর্গকৃত]

মোক্তার (Mukhtar/Mukhtiar) ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের আইন পেশাজীবী। যারা সীমিত পরিসরে নিম্ন আদালতে দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা পরিচালনা করতেন। মোক্তারগণ মূলত ফৌজদারি (Criminal) আদালত এবং কিছু ক্ষেত্রে রাজস্ব বা রেভিনিউ অফিসে (Revenue offices) আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

১৮৭৯ সালের লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাক্ট (The Legal Practitioners Act, 1879) এর অধীনে মোক্তারদের সনদ প্রদান, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং তাদের পেশাগত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হতো। তারা উকিল বা প্লিডারদের (Pleaders) মতো দেওয়ানি আদালতে পূর্ণাঙ্গ প্র্যাকটিস করতে পারতেন না। তাদের কাজ মূলত ছোটখাটো আইনগত বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। নিম্ন আদালতগুলোতে আইনগত সহায়তার জন্য মোক্তাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

জানা যায়, ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত মোক্তার পদধারীরা এ নামে তাদের পেশা পরিচালনা করেন। পরে তাদের এ অভিধা বিলোপ করে কাউকে কাউকে যোগ্যতা অনুযায়ী নিম্ন আদালতে অ্যাডভোকেট পদবি প্রদান করা হয়।

আজ থেকে ২৪-২৫ বছর আগে আমরা যখন ২০০১-২০০২ শিক্ষাবর্ষে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে এইচএসসি পড়তে এসেছিলাম তখন এক ঝাঁক প্রবীণ মোক্তার দেখে এসেছি এবং কারও কারও নাম শোনেছি। তারা একদা তদানীন্তন জামালপুর গভঃমেন্ট হাইস্কুল (অধুনা জামালপুর জিলা স্কুল) ভবনের উত্তর দিকে মিউনিসিপ্যালিটি ভবনের দিকে উকিল বার লাইব্রেরি এবং ফৌজদারি ও মুনসেফ কোর্টে পেশা পরিচালনা করতেন। উল্লেখ্য, স্কুলের দক্ষিণ দিকে ছিল মুনসেফ সাহেবের বাসভবন এবং তার পাশে ছিল এসডিও সাহেবের দ্বিতল বাস ভবন যা তদানীন্তন জামালপুর টাউনের একমাত্র দ্বিতল বাড়ি।

সেই সময়কার বেশ কয়েকজন মোক্তার খুব নামকরা ছিল। এরা অনেকেই ব্রিটিশ ভারতের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে ছিলেন। জামালপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তাদের অবদান অসামান্য। এ রকম কয়েকজন মোক্তার হলেন- গোলাম মহাম্মদ (১৯১৭ সালে মোক্তারি পরীক্ষায় পাশ করেন এবং জামালপুরের অন্যতম পথিকৃৎ মুসলিম মোক্তার তিনি), কফিল মোক্তার (ডা. ফখরুজ্জামানের বাবা), হামিদ মোক্তার (প্রাক্তন পার্লামেন্টারিয়ান শাহনেওয়াজের বাবা), গফুর মোক্তার (চৈতন্য নার্সারি গবেষক ও কবি মু. আজিজুর রহমানের বাবা), ফয়েজ মোক্তার (কবি আহমদ আজিজের বাবা), ইদ্রিস মোক্তার (রেজা খানের বাবা), তাছির মোক্তার (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম দুলালের বাবা), কোন কিতাবে লেখা আছে গো হারাম বাজনা গানে’র গীতিকার ও কবি ফজলুর রহমান আজনবী মোক্তার (নজরুল পুরস্কার প্রাপ্ত শিল্পী রুমী আজনবীর বাবা), বশির মোক্তার, ইউনুছ মোক্তার (নাট্যকার এম.এস. হুদার বাবা), বদি মোক্তার (নাট্য অভিনেতা আগা মোহাম্মদ আমিনুজ্জামান ভাইয়ের বাবা) প্রমুখ। সেই সময়কালের কোনো মোক্তার আজ আর বেঁচে নেই।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য-সমালোচক এবং অফিসার, বাংলা একাডেমি, ঢাকা