ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানের প্রত্যয় : বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন: দারিদ্র্যমুক্ত ও টেকসই রাষ্ট্র গঠন জামালপুরে স্ক্রিপ্ট প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন জামালপুরে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ শেরপুরের গারো পাহাড়ে বিশ্ব হাতি দিবস পালিত স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির ১০ বছর করে আটকাদেশ ইসলামপুরে স্বাক্ষর জাল করে এতিম খানার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএসসির ফল বিপর্যয়, ৪৩৯ জনে পাস ১১১ জামালপুরে সাক্ষরতা কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক কর্মশালা সরিষাবাড়ীতে বিধবা নারীকে বিয়ে করায় ঘরছাড়া নবদম্পতি ইত্তেফাকুল উলামা জামালপুর জেলা কমিটিতে শামসুদ্দিন সভাপতি ও মোহাম্মদ আলী সম্পাদক নির্বাচিত

তারেক রহমানের প্রত্যয় : বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন: দারিদ্র্যমুক্ত ও টেকসই রাষ্ট্র গঠন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : লেখক

≡ মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ≡

তারেক রহমানের প্রত্যয় : বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্যমুক্ত ও টেকসই রাষ্ট্র গঠন হলো এমন একটি রাষ্ট্রদর্শন, যা ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের সার্বিক পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের প্রধান রূপরেখা। এই উন্নয়ন ভিশনের মূল লক্ষ্য হলো-রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি বৈষম্যহীন, কল্যাণমুখী ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ স্তম্ভের সংস্কার ও উন্নয়ন মডেল হলো:দারিদ্র্য বিমোচন:- প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি এবং স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি;সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা:- প্রতিটি নাগরিককে রাষ্ট্রীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার আওতায় আনা;মানসম্মত শিক্ষা:- দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর;সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা:- তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত উন্নত এবং স্বল্পমূল্যের স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করা;সুশাসন ও জবাবদিহিতা:- দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ।

একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন সেই উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে। বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরনির্ভর করেনা; বরং এটি দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে অর্জিতহয়। গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত। একটি টেকসই ও সক্ষম রাষ্ট্র গঠনের জন্য দারিদ্র্য নিরসন এবং সামাজিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া অপরিহার্য। বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন একটিসমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে সকল স্তরে বৈষম্য কমানো, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তুলে ধরা ।

টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনের জন্য দারিদ্র্য নিরসনের পাশাপাশি মানব সম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তি নির্ভর সেবা সম্প্রসারণ, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, যুব সমাজের দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুর্যোগ-সহনশীল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৫ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ। কৃষি ও পরিবেশের সুরক্ষায় ২০,০০০ কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখনন প্রকল্প। নদীর বা খালের স্বাভাবিক গতি ও পানিপ্রবাহ ঠিক রাখা। কৃষিজমিতে ঠিকমতো পানি দেওয়া এবং ফসল উৎপাদন বাড়ানো। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত বের করে দিয়ে জলাবদ্ধতা কমানো। মাছের বংশবৃদ্ধি এবং চারপাশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা। ৩ আর (Reduce, Reuse, Recycle) নীতি অনুসরণ করে আধুনিক বর্জ্য ও প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ। এসব উদ্যোগ কার্যকর ভাবে বাস্তবায়িত হলে একটি অধিক অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে।

দারিদ্র্য একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। দারিদ্র্যের কারণে মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সীমিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়। তাই দারিদ্র্য দূরীকরণে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ।

দারিদ্র্য নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর মূল পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও পরিকল্পিত অর্থনৈতিক সংস্কার। এর মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের ৪কোটি ১৭ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে নিপতিত। দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, অতি দারিদ্র্য প্রায় দ্বিগুণ। এমন বাস্তবাতায় তারেক রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসিন হয়েছেন। দারিদ্র্য কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; এটি একটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সংকট। দেশের প্রায় ৫৩ লাখ বিধবা নারী, ৪৬লাখ প্রতিবন্ধী, অসংখ্য নারী প্রধান পরিবার, ঋণে নিমজ্জিত পরিবার, দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত জনগোষ্ঠী এবং খাদ্য-নিরাপত্তাহীন মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বর্তমান সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী ও টেকসই নয়। এজন্য সরকার মানবিক, ন্যায়সঙ্গত ও মর্যাদা ভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছে, যেখানে রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে। সরকার পর্যায় ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষী ও প্রাণিসম্পদ খামারীদের ‘ স্মার্ট কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্যক্রম শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ড এর মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। বেকার ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।

দেশে প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০লাখ দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর আওতায় আসবে। আগামী ৪ বছরে পর্যায়ক্রমে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। এই কার্ড মূলত পরিবারের নারী প্রধান যথা আমাদের মা ও বোনদের নামে ইস্যু করা হচ্ছে। এইকার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে সরকার প্রতিমাসে ২,০০০/২,৫০০টাকার আর্থিক সহায়তা অথবা খাদ্য সুবিধা যথা: চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দিবে । এই কার্ড হবে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্তি ও নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার নিশ্চয়তা। বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ছিলেন, এখন তার পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এর মাধ্যমে তারা স্বল্পমূল্যে সার, উন্নত বীজ এবং কৃষি উপকরণ পাচ্ছেন। কৃষকদের ঝুঁকি কমাতে দেশব্যাপী কৃষি বা শস্য বীমা চালুর রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়াও সুপরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য দূর করার একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।

যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে ডিজিটাল অর্থনীতি ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ ও দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি পিছিয়ে পড়া,দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করে। বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা,মাতৃত্বকালীন সহায়তা এবং দুর্যোগকালীন খাদ্য ও নগদ সহায়তার মতো কর্মসূচি মানুষের জীবন মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এসব কর্মসূচির সুষ্ঠুবাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করলে সামাজিক সুরক্ষা আরও কার্যকর হতে পারে। সামাজিক সুরক্ষা খাতের বিদ্যমান আওতা সম্প্রসারণ করা হবে। সামাজিক সুরক্ষা খাতের বরাদ্দ অন্য কোনো খাতে নয়, শুধুমাত্র এই খাতের আওতাভুক্ত খাত গুলোতেই ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনের জন্য বৈষম্য হ্রাসের পাশাপাশি সুশাসন, আইনের শাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার সামাজিক সুরক্ষা খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। বিশেষভাতা ব্যবস্থাকে দুর্নীতি ও ত্রুটিমুক্তকরা হবে। সামাজিক সুরক্ষা সেবার উপকারভোগী নির্বাচন থেকে বাস্তবায়ন ও নজরদারি পর্যন্ত উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের হাতে আর্থিকও প্রশাসনিক ক্ষমতা ন্যস্ত করা হবে। সব নগদ আর্থিক সহায়তা নারীর অথবা পরিবারের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ডিজিটাল মাধ্যমে প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

জন্ম দাতা মা-বাবাকে নির্যাতন ও বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর দুঃখজনক প্রবণতা নিরোধ কল্পে পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন, ২০১৩ পর্যালোচনা করে এর দুর্বলতা গুলি দূর করা ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া সমাজের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী,অবহেলিত গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়কে (যেমন: তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী, বেদে ইত্যাদি) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে আসা হবে। ভাসমানও আভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। গৃহকর্মী ওগিগ ওয়ার্কারদের জন্য আইনগত স্বীকৃতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। হত দরিদ্র এতিম শিশুদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভরণপোষণ তহবিল গঠন ও তাদের বিনা মূল্যে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ মৌলিক সেবা সমূহ নিশ্চিত করা হবে।

প্রবীণ মানুষের অবহেলা না করে, বরং তাদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, স্বেচ্ছাব্রতী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষার আওতায় রেখে প্রবীণ জন গোষ্ঠীকে সক্রিয় রাখা হবে এবং তাদের উন্নয়ন সাধনক রা হবে।

দেশের উন্নয়ন নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া অসম্পূর্ণ। নারী অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় অর্জন সহজ হবে। সরকার নারীদের তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সুরক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সমাজে তাদের সম্পৃক্ততা এবং ক্ষমতাকে দৃঢ় করবে। দেশের সুষম উন্নয়নের জন্য তারেক রহমানের সরকার সকল কর্মকাণ্ডে নারী সমাজকে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্তক করবে।

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়া-লেখার সুযোগ সৃষ্টি করবে সরকার। মেয়েদের জন্য একাডেমিক ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে, যাতে গ্রাম বা শহর, যেখানেই হোক, প্রতিটি মেয়ে দক্ষতা অর্জন করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে পারে। উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়া এদেশে নারী শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখে ছিলেন।

একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শক্তি হলো নারীর অংশগ্রহণ। পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রে নারীদের স্থান নিশ্চিত করা হলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন দ্রুত দৃশ্যমান হয়। স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানে নারীদের অগ্রাধিকার ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা হলে তারা শুধু অর্থনৈতিক ভাবেই স্বাবলম্বী হন না, বরং পরিবার ও সমাজের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পারিবারিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি ও সন্তানদের শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করা একটি উন্নত জাতি গঠনের পূর্বশর্ত। নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা এবং সমান সুযোগ পেলে প্রতিটি মেয়ে আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

নারীদের কর্মস্থলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র (ডে-কেয়ার) যুগোপযোগি করা হবে। পাশাপাশি, গার্মেন্টসসহ সব শিল্পকারখানা, অফিসও আদালতে কর্মরত মায়েদের জন্য ‘ব্রেস্টফিডিং কর্ণার’ স্থাপন করার ব্যবস্থা নেয়া হবে,যেখানে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে মা তার নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন।

বাংলাদেশের দারিদ্র্যপীড়িত, দুঃস্থ ও পশ্চাৎপদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলো জরিপের ভিত্তিতে চিহ্নিত করে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে এসব এলাকায় উল্লেখিত বিষয় গুলোর উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রতিবন্ধী বান্ধব জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বাস, ট্রেন ও লঞ্চে বিনা ভাড়ায় বা বিশেষ ভাড়া-সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ও মর্যাদার সঙ্গে চলাচল করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যয় এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে সমাজের সকলের জন্য সুযোগ, বৈষম্যে রোধ এবং দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে দারিদ্র্য হ্রাস পাবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে এবং দেশ টেকসই উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যাবে।

একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও চলমান প্রক্রিয়া এবং বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে সমাজের সকল মানুষের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি, বৈষম্য হ্রাস এবং দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার একটি মানবিকরাষ্ট্র ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি ও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে দারিদ্র্য আরও কমবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাবে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে তারেক রহমানের সরকার।

লেখক : মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, সিনিয়র তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদফতর, বাংলাদেশ সচিবালয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের প্রত্যয় : বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন: দারিদ্র্যমুক্ত ও টেকসই রাষ্ট্র গঠন

তারেক রহমানের প্রত্যয় : বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন: দারিদ্র্যমুক্ত ও টেকসই রাষ্ট্র গঠন

আপডেট সময় ০৯:৫৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

≡ মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ≡

তারেক রহমানের প্রত্যয় : বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্যমুক্ত ও টেকসই রাষ্ট্র গঠন হলো এমন একটি রাষ্ট্রদর্শন, যা ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের সার্বিক পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের প্রধান রূপরেখা। এই উন্নয়ন ভিশনের মূল লক্ষ্য হলো-রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি বৈষম্যহীন, কল্যাণমুখী ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ স্তম্ভের সংস্কার ও উন্নয়ন মডেল হলো:দারিদ্র্য বিমোচন:- প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি এবং স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি;সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা:- প্রতিটি নাগরিককে রাষ্ট্রীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার আওতায় আনা;মানসম্মত শিক্ষা:- দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর;সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা:- তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত উন্নত এবং স্বল্পমূল্যের স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করা;সুশাসন ও জবাবদিহিতা:- দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ।

একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন সেই উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে। বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরনির্ভর করেনা; বরং এটি দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে অর্জিতহয়। গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত। একটি টেকসই ও সক্ষম রাষ্ট্র গঠনের জন্য দারিদ্র্য নিরসন এবং সামাজিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া অপরিহার্য। বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন একটিসমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে সকল স্তরে বৈষম্য কমানো, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তুলে ধরা ।

টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনের জন্য দারিদ্র্য নিরসনের পাশাপাশি মানব সম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তি নির্ভর সেবা সম্প্রসারণ, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, যুব সমাজের দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুর্যোগ-সহনশীল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৫ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ। কৃষি ও পরিবেশের সুরক্ষায় ২০,০০০ কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখনন প্রকল্প। নদীর বা খালের স্বাভাবিক গতি ও পানিপ্রবাহ ঠিক রাখা। কৃষিজমিতে ঠিকমতো পানি দেওয়া এবং ফসল উৎপাদন বাড়ানো। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত বের করে দিয়ে জলাবদ্ধতা কমানো। মাছের বংশবৃদ্ধি এবং চারপাশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা। ৩ আর (Reduce, Reuse, Recycle) নীতি অনুসরণ করে আধুনিক বর্জ্য ও প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ। এসব উদ্যোগ কার্যকর ভাবে বাস্তবায়িত হলে একটি অধিক অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে।

দারিদ্র্য একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। দারিদ্র্যের কারণে মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সীমিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়। তাই দারিদ্র্য দূরীকরণে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ।

দারিদ্র্য নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর মূল পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও পরিকল্পিত অর্থনৈতিক সংস্কার। এর মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের ৪কোটি ১৭ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে নিপতিত। দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, অতি দারিদ্র্য প্রায় দ্বিগুণ। এমন বাস্তবাতায় তারেক রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসিন হয়েছেন। দারিদ্র্য কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; এটি একটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সংকট। দেশের প্রায় ৫৩ লাখ বিধবা নারী, ৪৬লাখ প্রতিবন্ধী, অসংখ্য নারী প্রধান পরিবার, ঋণে নিমজ্জিত পরিবার, দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত জনগোষ্ঠী এবং খাদ্য-নিরাপত্তাহীন মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বর্তমান সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী ও টেকসই নয়। এজন্য সরকার মানবিক, ন্যায়সঙ্গত ও মর্যাদা ভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছে, যেখানে রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে। সরকার পর্যায় ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষী ও প্রাণিসম্পদ খামারীদের ‘ স্মার্ট কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্যক্রম শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ড এর মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। বেকার ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।

দেশে প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০লাখ দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর আওতায় আসবে। আগামী ৪ বছরে পর্যায়ক্রমে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। এই কার্ড মূলত পরিবারের নারী প্রধান যথা আমাদের মা ও বোনদের নামে ইস্যু করা হচ্ছে। এইকার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে সরকার প্রতিমাসে ২,০০০/২,৫০০টাকার আর্থিক সহায়তা অথবা খাদ্য সুবিধা যথা: চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দিবে । এই কার্ড হবে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্তি ও নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার নিশ্চয়তা। বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ছিলেন, এখন তার পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এর মাধ্যমে তারা স্বল্পমূল্যে সার, উন্নত বীজ এবং কৃষি উপকরণ পাচ্ছেন। কৃষকদের ঝুঁকি কমাতে দেশব্যাপী কৃষি বা শস্য বীমা চালুর রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়াও সুপরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য দূর করার একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।

যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে ডিজিটাল অর্থনীতি ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ ও দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি পিছিয়ে পড়া,দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করে। বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা,মাতৃত্বকালীন সহায়তা এবং দুর্যোগকালীন খাদ্য ও নগদ সহায়তার মতো কর্মসূচি মানুষের জীবন মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এসব কর্মসূচির সুষ্ঠুবাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করলে সামাজিক সুরক্ষা আরও কার্যকর হতে পারে। সামাজিক সুরক্ষা খাতের বিদ্যমান আওতা সম্প্রসারণ করা হবে। সামাজিক সুরক্ষা খাতের বরাদ্দ অন্য কোনো খাতে নয়, শুধুমাত্র এই খাতের আওতাভুক্ত খাত গুলোতেই ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনের জন্য বৈষম্য হ্রাসের পাশাপাশি সুশাসন, আইনের শাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার সামাজিক সুরক্ষা খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। বিশেষভাতা ব্যবস্থাকে দুর্নীতি ও ত্রুটিমুক্তকরা হবে। সামাজিক সুরক্ষা সেবার উপকারভোগী নির্বাচন থেকে বাস্তবায়ন ও নজরদারি পর্যন্ত উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের হাতে আর্থিকও প্রশাসনিক ক্ষমতা ন্যস্ত করা হবে। সব নগদ আর্থিক সহায়তা নারীর অথবা পরিবারের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ডিজিটাল মাধ্যমে প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

জন্ম দাতা মা-বাবাকে নির্যাতন ও বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর দুঃখজনক প্রবণতা নিরোধ কল্পে পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন, ২০১৩ পর্যালোচনা করে এর দুর্বলতা গুলি দূর করা ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া সমাজের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী,অবহেলিত গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়কে (যেমন: তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী, বেদে ইত্যাদি) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে আসা হবে। ভাসমানও আভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। গৃহকর্মী ওগিগ ওয়ার্কারদের জন্য আইনগত স্বীকৃতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। হত দরিদ্র এতিম শিশুদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভরণপোষণ তহবিল গঠন ও তাদের বিনা মূল্যে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ মৌলিক সেবা সমূহ নিশ্চিত করা হবে।

প্রবীণ মানুষের অবহেলা না করে, বরং তাদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, স্বেচ্ছাব্রতী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষার আওতায় রেখে প্রবীণ জন গোষ্ঠীকে সক্রিয় রাখা হবে এবং তাদের উন্নয়ন সাধনক রা হবে।

দেশের উন্নয়ন নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া অসম্পূর্ণ। নারী অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় অর্জন সহজ হবে। সরকার নারীদের তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সুরক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সমাজে তাদের সম্পৃক্ততা এবং ক্ষমতাকে দৃঢ় করবে। দেশের সুষম উন্নয়নের জন্য তারেক রহমানের সরকার সকল কর্মকাণ্ডে নারী সমাজকে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্তক করবে।

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়া-লেখার সুযোগ সৃষ্টি করবে সরকার। মেয়েদের জন্য একাডেমিক ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে, যাতে গ্রাম বা শহর, যেখানেই হোক, প্রতিটি মেয়ে দক্ষতা অর্জন করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে পারে। উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়া এদেশে নারী শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখে ছিলেন।

একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শক্তি হলো নারীর অংশগ্রহণ। পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রে নারীদের স্থান নিশ্চিত করা হলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন দ্রুত দৃশ্যমান হয়। স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানে নারীদের অগ্রাধিকার ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা হলে তারা শুধু অর্থনৈতিক ভাবেই স্বাবলম্বী হন না, বরং পরিবার ও সমাজের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পারিবারিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি ও সন্তানদের শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করা একটি উন্নত জাতি গঠনের পূর্বশর্ত। নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা এবং সমান সুযোগ পেলে প্রতিটি মেয়ে আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

নারীদের কর্মস্থলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র (ডে-কেয়ার) যুগোপযোগি করা হবে। পাশাপাশি, গার্মেন্টসসহ সব শিল্পকারখানা, অফিসও আদালতে কর্মরত মায়েদের জন্য ‘ব্রেস্টফিডিং কর্ণার’ স্থাপন করার ব্যবস্থা নেয়া হবে,যেখানে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে মা তার নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন।

বাংলাদেশের দারিদ্র্যপীড়িত, দুঃস্থ ও পশ্চাৎপদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলো জরিপের ভিত্তিতে চিহ্নিত করে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে এসব এলাকায় উল্লেখিত বিষয় গুলোর উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রতিবন্ধী বান্ধব জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বাস, ট্রেন ও লঞ্চে বিনা ভাড়ায় বা বিশেষ ভাড়া-সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ও মর্যাদার সঙ্গে চলাচল করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যয় এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে সমাজের সকলের জন্য সুযোগ, বৈষম্যে রোধ এবং দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে দারিদ্র্য হ্রাস পাবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে এবং দেশ টেকসই উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যাবে।

একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও চলমান প্রক্রিয়া এবং বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে সমাজের সকল মানুষের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি, বৈষম্য হ্রাস এবং দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার একটি মানবিকরাষ্ট্র ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি ও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে দারিদ্র্য আরও কমবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাবে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে তারেক রহমানের সরকার।

লেখক : মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, সিনিয়র তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদফতর, বাংলাদেশ সচিবালয়।