ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও প্রেরণা বিএনপিকে পথ দেখায়: মির্জা ফখরুল শিক্ষকদের অবসর সুবিধার টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিন : জামালপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিনে ইসলামপুরে বিএনপির দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত যমুনা নদীতে পিটিয়ে হত্যা আদালতের ডিক্রিপ্রাপ্ত জমি বেদখলের চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ গণশুনানি : জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনের বিভিন্ন অভিযোগ, সমস্যার কথা শুনলেন ডিআরএম তারেক রহমানের প্রত্যয় : বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন: দারিদ্র্যমুক্ত ও টেকসই রাষ্ট্র গঠন জামালপুরে স্ক্রিপ্ট প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন

গণশুনানি : জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনের বিভিন্ন অভিযোগ, সমস্যার কথা শুনলেন ডিআরএম

জামালপুর : গণশুনানিতে বক্তব্য রাখেন ডিআরএম এবিএম কামরুজ্জামান। ছবি : মোস্তফা মনজু

বাংলাদেশ রেলওয়ে সেবা সম্পর্কে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জামালপুর টাউন জংশন রেলওয়ে স্টেশনে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২ আগস্ট, বুধবার দুপুরে রেলওয়ে স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এবিএম কামরুজ্জামান এই গণশুনানিতে সাংবাদিক ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জামালপুর জংশন রেলওয়ে স্টেশন ভিত্তিক এবং এই সেকশনে চালু থাকা আন্ত:নগর এক্সপ্রেস ট্রেনসহ বিভিন্ন ট্রেনে যাত্রীদের সেবা সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবি সম্পর্কে অবহিত হন।

 

জামালপুর : কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টারের কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন করেন ডিআরএম এবিএম কামরুজ্জামান। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

গণশুনানিতে আলাউদ্দিন নামের স্থানীয় একজন জামালপুর রেলওয়ে থানায় লাশঘর না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং প্ল্যাটফর্মে পর্যাপ্ত বাতির ব্যবস্থা করার দাবি জানান। এ সময় ডিআরএম আশ্বস্ত করেন যে সমস্যাগুলোর দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গণশুনানি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- জামালপুর টাউন জংশন রেলওয়ে স্টেশন ভবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টারের কক্ষ খুবই ছোট পরিসরের। এতে সেখানে দায়িত্ব পালনের খুবই সমস্যা হয়। এই কক্ষটির আয়তন বড় করাসহ আধুনিকায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়।

জামালপুর : গণশুনানির আগে রেলওয়ের জামালপুর সেকশনের কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার কথা শুনেন ডিআরএম এবিএম কামরুজ্জামান। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এছাড়া বৃষ্টির পানিতে এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম সয়লাব হয়ে যাওয়া, এক নম্বর প্ল্যাটফর্মের পশ্চিম প্রান্তের দুটি শেডের নিচের অবৈধভাবে বসা দোকানপাট সমস্যা, বন্ধ বুকস্টল সরিয়ে ফেলা, স্টেশন ইয়ার্ডের জলাবদ্ধতা সমস্যা, পাবলিক টয়লেটের সাথে সুপেয় খাবার পানির কর্নার সমস্যা, স্টেশনের পার্সেল বুকিং অফিসের ওজন মাপার মেশিন না থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। দুটি প্লাটফর্ম শেডের নিচে ট্রেনযাত্রীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা, টিকিট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যের কথাও তুলে ধরা হয়।

এছাড়াও জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে পিডিবির বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনকে দুটি ফিডারের সাথে যুক্ত করে স্টেশনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা, রেলওয়ের জামালপুর সেকশনের ভূসম্পত্তি বেদখলে থাকা, স্টেশন ইয়ার্ডের সীমানা দেয়াল না থাকা এবং এই সেকশনে চালু থাকা বিভিন্ন আন্ত:নগর ট্রেনের বিভিন্ন সমস্যায় যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্রও তুলে ধরা হয়।

জামালপুর : গণশুনানিতে বক্তব্য রাখেন জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন তত্ত্বাবধায়ক (স্টেশন মাস্টার) মো. মাহমুদুল হাসান। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

গণশুনানি শেষে ডিআরএম এবিএম কামরুজ্জামান তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, আমি খুবই আনন্দিত আপনারা খুব সুন্দরভাবে জামালপুর রেলওয়ের বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেছেন। আপনারা শুধু নিজেদের কথাই বলেননি। আমাদের রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও বলেছেন। আপনারা সবাই টিকিট করে ভ্রমণ করবেন। যেসব স্টেশনে টিকিট বেশি বিক্রি হয়। আয় ভাল হয়। আমরা সেখানে আরও বেশি সার্ভিস দিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, জামালপুর হল একটি ভাল জেলা এবং ঐতিহ্যবাহী জেলা। একটা সময় জগন্নাথগঞ্জ ঘাট ও বাহাদুরাবাদ ঘাট ছিল। হয়ত আগামীতে এই গুরুত্বটা আরও বাড়বে। বর্তমান সরকার দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের চিন্তাভাবনা করছেন। তখন হয়ত এই রেলপথের গুরুত্ব আরও বাড়বে। আপনাদের সাথে রেলওয়ের সম্পর্ক আরও বাড়বে। আমরা মনে করি, সরকার, রেলওয়ে এবং আপনারা জনগণ সবাই মিলে কাজ করলে এই দেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি জানান, জামালপুর শহরের প্রধান সড়কের গেটপাড় রেলওয়ে লেভেল ক্রসিংয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার হয়ে গেছে। আশা করছি খুব শিগগির সেখানে কাজ শুরু হবে।

গণশুনানি শেষে ডিআরএম এবিএম কামরুজ্জামান জামালপুর রেলওয়ের স্টেশনের সমস্যাগুলো সরজমিনে পরদির্শন করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, কিছু সমস্যা এখানেই সমাধান করা হবে। আর কিছু সমস্যা ঢাকায় ফিরে গিয়ে বাংলাদেশে রেলওয়ের উর্ধ্বতম কর্মকর্তাদেরর সাথে আলোচনা করে পরবর্তীতের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

গণশুনানিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় বাণিজ্যিক, প্রকৌশল, টেলিকম ও ভূসম্পত্তি কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন। গণশুনানি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এবং কিছু অতিপ্রয়োজনীয় সমস্যার কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন তত্ত্বাবধায়ক (স্টেশন মাস্টার) মো. মাহমুদুল হাসান।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

গণশুনানি : জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনের বিভিন্ন অভিযোগ, সমস্যার কথা শুনলেন ডিআরএম

আপডেট সময় ১০:১২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ে সেবা সম্পর্কে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জামালপুর টাউন জংশন রেলওয়ে স্টেশনে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২ আগস্ট, বুধবার দুপুরে রেলওয়ে স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এবিএম কামরুজ্জামান এই গণশুনানিতে সাংবাদিক ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জামালপুর জংশন রেলওয়ে স্টেশন ভিত্তিক এবং এই সেকশনে চালু থাকা আন্ত:নগর এক্সপ্রেস ট্রেনসহ বিভিন্ন ট্রেনে যাত্রীদের সেবা সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবি সম্পর্কে অবহিত হন।

 

জামালপুর : কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টারের কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন করেন ডিআরএম এবিএম কামরুজ্জামান। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

গণশুনানিতে আলাউদ্দিন নামের স্থানীয় একজন জামালপুর রেলওয়ে থানায় লাশঘর না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং প্ল্যাটফর্মে পর্যাপ্ত বাতির ব্যবস্থা করার দাবি জানান। এ সময় ডিআরএম আশ্বস্ত করেন যে সমস্যাগুলোর দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গণশুনানি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- জামালপুর টাউন জংশন রেলওয়ে স্টেশন ভবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টারের কক্ষ খুবই ছোট পরিসরের। এতে সেখানে দায়িত্ব পালনের খুবই সমস্যা হয়। এই কক্ষটির আয়তন বড় করাসহ আধুনিকায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়।

জামালপুর : গণশুনানির আগে রেলওয়ের জামালপুর সেকশনের কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার কথা শুনেন ডিআরএম এবিএম কামরুজ্জামান। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এছাড়া বৃষ্টির পানিতে এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম সয়লাব হয়ে যাওয়া, এক নম্বর প্ল্যাটফর্মের পশ্চিম প্রান্তের দুটি শেডের নিচের অবৈধভাবে বসা দোকানপাট সমস্যা, বন্ধ বুকস্টল সরিয়ে ফেলা, স্টেশন ইয়ার্ডের জলাবদ্ধতা সমস্যা, পাবলিক টয়লেটের সাথে সুপেয় খাবার পানির কর্নার সমস্যা, স্টেশনের পার্সেল বুকিং অফিসের ওজন মাপার মেশিন না থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। দুটি প্লাটফর্ম শেডের নিচে ট্রেনযাত্রীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা, টিকিট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যের কথাও তুলে ধরা হয়।

এছাড়াও জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে পিডিবির বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনকে দুটি ফিডারের সাথে যুক্ত করে স্টেশনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা, রেলওয়ের জামালপুর সেকশনের ভূসম্পত্তি বেদখলে থাকা, স্টেশন ইয়ার্ডের সীমানা দেয়াল না থাকা এবং এই সেকশনে চালু থাকা বিভিন্ন আন্ত:নগর ট্রেনের বিভিন্ন সমস্যায় যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্রও তুলে ধরা হয়।

জামালপুর : গণশুনানিতে বক্তব্য রাখেন জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন তত্ত্বাবধায়ক (স্টেশন মাস্টার) মো. মাহমুদুল হাসান। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

গণশুনানি শেষে ডিআরএম এবিএম কামরুজ্জামান তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, আমি খুবই আনন্দিত আপনারা খুব সুন্দরভাবে জামালপুর রেলওয়ের বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেছেন। আপনারা শুধু নিজেদের কথাই বলেননি। আমাদের রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও বলেছেন। আপনারা সবাই টিকিট করে ভ্রমণ করবেন। যেসব স্টেশনে টিকিট বেশি বিক্রি হয়। আয় ভাল হয়। আমরা সেখানে আরও বেশি সার্ভিস দিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, জামালপুর হল একটি ভাল জেলা এবং ঐতিহ্যবাহী জেলা। একটা সময় জগন্নাথগঞ্জ ঘাট ও বাহাদুরাবাদ ঘাট ছিল। হয়ত আগামীতে এই গুরুত্বটা আরও বাড়বে। বর্তমান সরকার দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের চিন্তাভাবনা করছেন। তখন হয়ত এই রেলপথের গুরুত্ব আরও বাড়বে। আপনাদের সাথে রেলওয়ের সম্পর্ক আরও বাড়বে। আমরা মনে করি, সরকার, রেলওয়ে এবং আপনারা জনগণ সবাই মিলে কাজ করলে এই দেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি জানান, জামালপুর শহরের প্রধান সড়কের গেটপাড় রেলওয়ে লেভেল ক্রসিংয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার হয়ে গেছে। আশা করছি খুব শিগগির সেখানে কাজ শুরু হবে।

গণশুনানি শেষে ডিআরএম এবিএম কামরুজ্জামান জামালপুর রেলওয়ের স্টেশনের সমস্যাগুলো সরজমিনে পরদির্শন করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, কিছু সমস্যা এখানেই সমাধান করা হবে। আর কিছু সমস্যা ঢাকায় ফিরে গিয়ে বাংলাদেশে রেলওয়ের উর্ধ্বতম কর্মকর্তাদেরর সাথে আলোচনা করে পরবর্তীতের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

গণশুনানিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় বাণিজ্যিক, প্রকৌশল, টেলিকম ও ভূসম্পত্তি কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন। গণশুনানি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এবং কিছু অতিপ্রয়োজনীয় সমস্যার কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন তত্ত্বাবধায়ক (স্টেশন মাস্টার) মো. মাহমুদুল হাসান।