ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের আশ্বাস দিল ইরান জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার সাংবাদিক প্রবেশে কেন্দ্র সচিবের নিষেধাজ্ঞা মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন

সংবিধান সংশোধনে সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জামালপুর : সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ ধারায় জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এ বিষয়ে সর্বদলীয় সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এই কমিটির মাধ্যমে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে সংসদে উত্থাপন করা সম্ভব হবে।

তিনি ৩১ মার্চ, মঙ্গলবার সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ ধারায় জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫) সংসদে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

সংসদে মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত প্রস্তাবের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ওই আদেশের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ, যেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের বিধান রয়েছে। তবে তার মতে, এই পরিষদের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি সংবিধানের ৭২ ও ৭৩ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও ভাষণ প্রদান করেছেন, যা সংবিধানসম্মত। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুস্পষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো বর্তমানে বিদ্যমান নেই বলে তিনি মত দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় রাষ্ট্রপতির আদেশ বৈধতা পেয়েছিল এবং পরবর্তীতে সংবিধানের বিভিন্ন তফসিলে তা স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল প্রথম সংসদ অধিবেশন বসার পর রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান আদেশের আইনগত অবস্থান পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো উদ্যোগ টেকসই হতে পারে না। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস- এ বিষয়টি স্মরণ রেখে যেকোনো সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রশ্ন প্রণয়ন ও উপস্থাপনার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা থাকা প্রয়োজন। তিনি ইঙ্গিত দেন, কিছু ক্ষেত্রে একাধিক বিষয় একত্রে উপস্থাপনের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

মন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি মহল বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর প্রতি বিএনপির সমর্থন রয়েছে এবং দলটি সংবিধান সংস্কারের পক্ষে।

তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জনগণের ম্যান্ডেট গুরুত্বপূর্ণ এবং সংসদের মাধ্যমেই সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট আদেশ ও গণভোটের বৈধতা ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং বিষয়টি বিচারাধীন।

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আমাদের সংস্কারের পথে এগোতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ সূত্র : বাসস

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

সংবিধান সংশোধনে সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট সময় ১১:৩৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এ বিষয়ে সর্বদলীয় সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এই কমিটির মাধ্যমে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে সংসদে উত্থাপন করা সম্ভব হবে।

তিনি ৩১ মার্চ, মঙ্গলবার সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ ধারায় জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫) সংসদে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

সংসদে মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত প্রস্তাবের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ওই আদেশের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ, যেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের বিধান রয়েছে। তবে তার মতে, এই পরিষদের সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি সংবিধানের ৭২ ও ৭৩ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও ভাষণ প্রদান করেছেন, যা সংবিধানসম্মত। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুস্পষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো বর্তমানে বিদ্যমান নেই বলে তিনি মত দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় রাষ্ট্রপতির আদেশ বৈধতা পেয়েছিল এবং পরবর্তীতে সংবিধানের বিভিন্ন তফসিলে তা স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল প্রথম সংসদ অধিবেশন বসার পর রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান আদেশের আইনগত অবস্থান পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো উদ্যোগ টেকসই হতে পারে না। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস- এ বিষয়টি স্মরণ রেখে যেকোনো সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের মতামত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রশ্ন প্রণয়ন ও উপস্থাপনার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা থাকা প্রয়োজন। তিনি ইঙ্গিত দেন, কিছু ক্ষেত্রে একাধিক বিষয় একত্রে উপস্থাপনের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

মন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি মহল বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর প্রতি বিএনপির সমর্থন রয়েছে এবং দলটি সংবিধান সংস্কারের পক্ষে।

তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জনগণের ম্যান্ডেট গুরুত্বপূর্ণ এবং সংসদের মাধ্যমেই সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট আদেশ ও গণভোটের বৈধতা ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং বিষয়টি বিচারাধীন।

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আমাদের সংস্কারের পথে এগোতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ সূত্র : বাসস