জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীর গায়েবানা জানাযা ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০ ডিসেম্বর, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বালিজুড়ী শাহ মাহমুদ ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা মাঠে এ জানাযা নামাজ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
জানাযায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ছাত্র-জনতার উদ্যোগে এই গায়েবানা জানাযা নামাজের আয়োজন করা হয়। জানাযা শেষে প্রয়াত শরিফ ওসমান হাদীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দোয়া করা হয়।
গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করেন উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা শেখ সাদিউর রহমান সাদি। দোয়া পরিচালনা করেন উপজেলা ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সম্পাদক মাওলানা আব্দুল বারী।
জানাযা নামাজের আগে শরিফ ওসমান হাদীর স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা নুরুল আমিন, উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্মআহবায়ক মোখলেছুর রহমান মোখলেস, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ফরহাদ হোসেন, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি শেখ সাদিউর রহমান সাদি, উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সমন্বয়কারী লেমন মিয়া, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহবায়ক হামিদুর রহমান, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির আতিকুর রহমান সেলিম, উপজেলা ইসলামি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মান্নান, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব রবিন চৌধুরী, জেলা যুব শক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সংগঠক সিয়াম আহমেদ, উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি রমজান আলী, উপজেলা ছাত্র শক্তির রকি রায়হান প্রমুখ।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, শরিফ ওসমান হাদীর মত একজন তরুণ মুখপাত্রকে গুলি করে হত্যা করা একটি ন্যাক্কারজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা। অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের আর কোন যুবক যেন শরিফ ওসমান হাদী মত হত্যার শিকার না হয় এবং কোন বিপ্লবীকে যেন জীবন দিতে না হয় সেই নিরাপত্তা দিতে হবে। অন্যথায় ছাত্র-জনতা রাজপথে আরও কঠোর ও ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর, শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদী। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর, সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
খাদেমুল ইসলাম : নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 



















