বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী, বরেণ্য রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ২০ আগস্ট।
বরেণ্য এই রাজনীতিবিদ ১৯৩৬ সালের ৪ নভেম্বর জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার মুলবাড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত তালুকদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। জনগণের নাগরিক অধিকার তথা বাক, ব্যক্তি, চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সংগ্রামে ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার এর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। ছাত্রজীবন থেকে প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা ও অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তিনি সবসময় থেকেছেন গণআন্দোলনের সম্মুখ কাতারে।
৮০’র দশকে স্বৈরশাসনের অবসানের লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বেগবান করতে বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে লিয়াজোঁ কমিটির প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সালাম তালুকদার ছিলেন স্পষ্টবাদী, ঋজু ও নানা বিরোধীতার মুখেও নিজ কর্তব্যে দৃঢ় একজন উচ্চ মানের রাজনৈতিক নেতা। তিনি এ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন মার্জিত ও সংস্কৃতবান রাজনীতিবিদ হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। বিএনপি মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকালে সালাম তালুকদার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করেছেন। জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দুই মেয়াদে মন্ত্রী হিসেবেও তিনি দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শনকে প্রতিষ্ঠিত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারের কবল থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণে ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের অবদান জাতি ও তার দল আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্বরণ রাখবে।
১৯৯৯ সালের ২০ আগস্ট হার্টের বাইপাস সার্জারি করানোর জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার পথে শাহজালাল (রহ:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মারা যান তিনি।
ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ভাতিজা জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম এই প্রতিবেদককে জানান, প্রয়াত এই নেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জাতীয়, দলীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাচ ধারণ, শোকর্যালি, কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসাগুলোতে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
মমিনুল ইসলাম কিসমত : নিজস্ব প্রতিবেদক, সরিষাবাড়ী, বাংলারচিঠিডটকম 


















