ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুরে মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিরোধে করণীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দেওয়ানগঞ্জে নাশকতা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্যের পিএস গ্রেপ্তার টাকা ফেরতের দাবিতে মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ঘেরাও, অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি ঘোষণা বকশীগঞ্জ সীমান্তে ৫৬৭টি ভারতীয় কসমেটিকস পণ্য জব্দ জামালপুরে যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল জামালপুর রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের ভাইস-চেয়ারম্যান জিলানী, লিয়ন সেক্রেটারি শ্রীবরদীতে ফলবান কলাগাছ কর্তন : গ্রেপ্তার ২ বুকের পাটা থাকলে এখনই আসেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না : তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান সরিষাবাড়ী উপজেলা যুব ইউনিয়ন কমিটিতে সভাপতি রানা, এনায়েত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত বকশীগঞ্জে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম

চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলার রায় : সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জামালপুর : রায় শেষে দণ্ডপ্রপ্ত আসামিদের নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরে আলোচিত চাচা-ভাতিজা জোড়া খুন মামলায় সাতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও সাতজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একই সাথে অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। ২০ আগস্ট, বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার দশ বছর পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন বাদীপক্ষ।

রায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে সাখাওয়াত (৩২), তহিজলের ছেলে মো. সোহেল (৩০), আছর শেখের ছেলে আল আমিন (৩০), মৃত ভোলা শেখের ছেলে সাদ্দাম (৩০), কামালের ছেলে উজ্জল (৩০), সোজা মিয়ার ছেলে অন্তর (৩০) ও শহিদুলের ছেলে ফয়জুর (৩২)।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামিরা হলেন- মাদারগঞ্জ উপজেলার একই এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে চাঁন মিয়া (৫০), আছর শেখের ছেলে মো. জিয়ার (৪৫), ভোলার ছেলে শাহ আলম (৪১), রফিকুল ইসলামের ছেলে কাওসার (২৯), তারা মিয়ার ছেলে রিফাত (৩১), আব্বাস আলীর ছেলে সুমন (৩১) ও মৃত নাটু শেখের ছেলে মোস্তফা (৪৯)।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার জানান, ২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক ও আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে ওই বছরের ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে যায় পুলিশ।

মোস্তফার বাড়ি চিনতে না পেরে প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে মোস্তফার বাড়ির অবস্থান জানতে চায় পুলিশ। তাদের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করে মোস্তফা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মোস্তফার সহযোগী সাখাওয়াত ও সোহেল। পরে আরেক সহযোগী সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার কথা বলে হত্যার উদ্দেশ্যে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় মোস্তফার লোকজন।

সেখানে মোস্তফার লোকজন মহর আলী ও তার ভাজিতা স্বপন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পরে জবাই করে হত্যা করে। ঘটনার তিন দিন পর পাটখেত থেকে দুই জনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মহর আলী (১৯) গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে। সে স্থানীয় মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো। ভাতিজা স্বপন মিয়া (১৬) একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সে সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সম্পর্কে তারা আপন চাচা-ভাতিজা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার আরও বলেন, এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তদন্তে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় বাকি আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। মামলায় ৪২ জনের মধ্যে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

তিনি আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়া শেষে দীর্ঘ দশ বছর পর আজ রায় ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন। রায়ে সাতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তাছাড়া অপর সাত আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আদালাত যে রায় দিয়েছেন তাতে আমি খুশি। আমি সরকারের কাছে আবেদন করি সরকার যেন দ্রুত এই রায় কার্যকর করেন।

মামলায় আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমান উল্লাহ আকাশ, নওয়াব আলী ও নজরুল ইসলাম। চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ দুইবার পেছনো হয়। আজ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়।

জামালপুরে মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিরোধে করণীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলার রায় : সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৯:২২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

জামালপুরে আলোচিত চাচা-ভাতিজা জোড়া খুন মামলায় সাতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও সাতজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একই সাথে অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। ২০ আগস্ট, বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার দশ বছর পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন বাদীপক্ষ।

রায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে সাখাওয়াত (৩২), তহিজলের ছেলে মো. সোহেল (৩০), আছর শেখের ছেলে আল আমিন (৩০), মৃত ভোলা শেখের ছেলে সাদ্দাম (৩০), কামালের ছেলে উজ্জল (৩০), সোজা মিয়ার ছেলে অন্তর (৩০) ও শহিদুলের ছেলে ফয়জুর (৩২)।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামিরা হলেন- মাদারগঞ্জ উপজেলার একই এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে চাঁন মিয়া (৫০), আছর শেখের ছেলে মো. জিয়ার (৪৫), ভোলার ছেলে শাহ আলম (৪১), রফিকুল ইসলামের ছেলে কাওসার (২৯), তারা মিয়ার ছেলে রিফাত (৩১), আব্বাস আলীর ছেলে সুমন (৩১) ও মৃত নাটু শেখের ছেলে মোস্তফা (৪৯)।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার জানান, ২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক ও আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে ওই বছরের ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে যায় পুলিশ।

মোস্তফার বাড়ি চিনতে না পেরে প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে মোস্তফার বাড়ির অবস্থান জানতে চায় পুলিশ। তাদের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করে মোস্তফা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মোস্তফার সহযোগী সাখাওয়াত ও সোহেল। পরে আরেক সহযোগী সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার কথা বলে হত্যার উদ্দেশ্যে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় মোস্তফার লোকজন।

সেখানে মোস্তফার লোকজন মহর আলী ও তার ভাজিতা স্বপন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পরে জবাই করে হত্যা করে। ঘটনার তিন দিন পর পাটখেত থেকে দুই জনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মহর আলী (১৯) গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে। সে স্থানীয় মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো। ভাতিজা স্বপন মিয়া (১৬) একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সে সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সম্পর্কে তারা আপন চাচা-ভাতিজা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার আরও বলেন, এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তদন্তে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় বাকি আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। মামলায় ৪২ জনের মধ্যে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

তিনি আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়া শেষে দীর্ঘ দশ বছর পর আজ রায় ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন। রায়ে সাতজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তাছাড়া অপর সাত আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আদালাত যে রায় দিয়েছেন তাতে আমি খুশি। আমি সরকারের কাছে আবেদন করি সরকার যেন দ্রুত এই রায় কার্যকর করেন।

মামলায় আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমান উল্লাহ আকাশ, নওয়াব আলী ও নজরুল ইসলাম। চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ দুইবার পেছনো হয়। আজ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়।