ঢাকা ০২:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকদের জানিয়ে শেরপুর সদর আসনে মাঠে নামলেন ইলিয়াস উদ্দিন

শেরপুর : সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ইলিয়াস উদ্দিন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসীল ঘোষণা না হলেও মাঠে এখন জোর নির্বাচনী হাওয়া বইছে। এ হাওয়ায় গা ভাসাতে সাংবাদিকদের জানিয়ে শেরপুর-১ (সদর) আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে নাতনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডাক্তার সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে মাঠে নামলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস উদ্দিন।

৪ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার বিকালে শহরের নিউ মার্কেটে অবস্থিত একটি পত্রিকার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মো. ইলিয়াস উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আমি দীর্ঘ সময় জনগণের পাশে থেকে জনসেবা করে এসেছি। ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকতে চাই। দীর্ঘ ৫০ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যেতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমার মধ্যেও দোষ গুণ রয়েছে। পথ চলতে মাঝে-মধ্যেই হোঁচট খেয়েছি। তবে সব সামলে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছি। বিভিন্ন এলাকায় গেলে মা-বোনসহ ভোটার ভাইয়েরা আমাকে নির্বাচনে দাঁড়াবার জন্য তাদের ভালবাসার অকুন্ঠ সমর্থন জানান। তাই তাঁদের ভালোবাসার মর্যাদা দিতেই আমি নির্বাচনের মাঠে থাকতে চাই। এ ব্যাপারে আমি সাংবাদিক বন্ধুদেরও সহযোগিতা কামনা করছি।

তিনি আরও বলেন, শেরপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক ভোটার তাদের বিশ্বস্ত  প্রার্থী না পাওয়ায় আমাকে নির্বাচনের মাঠে চাচ্ছেন বিধায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে আমি নির্বাচনী মাঠে নামতে বাধ্য হচ্ছি।

ইলিয়াস উদ্দিন বলেন, ৪০ বছর আমি সততার সাথে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিত্ব করেছি। জীবনের শেষ সময়ে এসে যাকে জাতীয় পার্টিতে এনেছিলাম তিনিই আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে অবৈধ টাকার গরমে আমাকেই দল থেকে আউট করে দেয়। অথচ তিনি বিগত সংসদ নির্বাচনে ভোট পায় মাত্র দুই হাজার ৩০৭টি।

তিনি বলেন, ৩ ডিসেম্বর, বুধবার জুলাই হত্যা মামলাসহ একাধিক হত্যা, প্রতারণা ও জমি-প্লট জালিয়াতি মামলার আসামি শেরপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও উদয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওই বিশ্বাসঘাতক মো. মাহমুদুল হক মনিকে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, বিশ্বাসঘাতকদের পরিণতি এমনই হয়। ইতিহাস তাই বলে।

প্রসঙ্গত, ইলিয়াস উদ্দিন ১৯৯৩ সালে প্রথম ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে তিনি কারাগারে থাকাকালীন অবস্থায় দু’বার ইউপি চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হন। তিনি মোট ছয় বার ইউপি চেয়ারম্যান এবং একবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিকদের জানিয়ে শেরপুর সদর আসনে মাঠে নামলেন ইলিয়াস উদ্দিন

আপডেট সময় ১০:০৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসীল ঘোষণা না হলেও মাঠে এখন জোর নির্বাচনী হাওয়া বইছে। এ হাওয়ায় গা ভাসাতে সাংবাদিকদের জানিয়ে শেরপুর-১ (সদর) আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে নাতনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডাক্তার সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে মাঠে নামলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস উদ্দিন।

৪ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার বিকালে শহরের নিউ মার্কেটে অবস্থিত একটি পত্রিকার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মো. ইলিয়াস উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আমি দীর্ঘ সময় জনগণের পাশে থেকে জনসেবা করে এসেছি। ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকতে চাই। দীর্ঘ ৫০ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যেতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমার মধ্যেও দোষ গুণ রয়েছে। পথ চলতে মাঝে-মধ্যেই হোঁচট খেয়েছি। তবে সব সামলে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছি। বিভিন্ন এলাকায় গেলে মা-বোনসহ ভোটার ভাইয়েরা আমাকে নির্বাচনে দাঁড়াবার জন্য তাদের ভালবাসার অকুন্ঠ সমর্থন জানান। তাই তাঁদের ভালোবাসার মর্যাদা দিতেই আমি নির্বাচনের মাঠে থাকতে চাই। এ ব্যাপারে আমি সাংবাদিক বন্ধুদেরও সহযোগিতা কামনা করছি।

তিনি আরও বলেন, শেরপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক ভোটার তাদের বিশ্বস্ত  প্রার্থী না পাওয়ায় আমাকে নির্বাচনের মাঠে চাচ্ছেন বিধায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে আমি নির্বাচনী মাঠে নামতে বাধ্য হচ্ছি।

ইলিয়াস উদ্দিন বলেন, ৪০ বছর আমি সততার সাথে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিত্ব করেছি। জীবনের শেষ সময়ে এসে যাকে জাতীয় পার্টিতে এনেছিলাম তিনিই আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে অবৈধ টাকার গরমে আমাকেই দল থেকে আউট করে দেয়। অথচ তিনি বিগত সংসদ নির্বাচনে ভোট পায় মাত্র দুই হাজার ৩০৭টি।

তিনি বলেন, ৩ ডিসেম্বর, বুধবার জুলাই হত্যা মামলাসহ একাধিক হত্যা, প্রতারণা ও জমি-প্লট জালিয়াতি মামলার আসামি শেরপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও উদয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওই বিশ্বাসঘাতক মো. মাহমুদুল হক মনিকে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, বিশ্বাসঘাতকদের পরিণতি এমনই হয়। ইতিহাস তাই বলে।

প্রসঙ্গত, ইলিয়াস উদ্দিন ১৯৯৩ সালে প্রথম ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে তিনি কারাগারে থাকাকালীন অবস্থায় দু’বার ইউপি চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হন। তিনি মোট ছয় বার ইউপি চেয়ারম্যান এবং একবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হন।