ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব জোরদার হয়েছে : হুমায়ুন ইলিশ ধরতে পদ্মা-মেঘনায় জেলেদের ভিড় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১ লাখ এতিম শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেয়া হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল গারো পাহাড়ে অর্ধলক্ষাধিক পুণ্যার্থীর আলোর মিছিল ৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সব জেলায় খাদ্যের মান পরীক্ষাগার স্থাপনে জাইকার সহযোগিতা প্রয়োজন : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা চার দিনের সফর শেষে টোকিও ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী আগামী সপ্তাহের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের

বসাকপাড়ার পুকুরটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

জামালপুর : বসাকপাড়া পুকুর। পরিবেশ দূষণের উৎসে পরিণত। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এ তল্লাটের মধ্যে বসাকপাড়ার এই একটি মাত্র পুকুর অবশিষ্ট আছে। দ্বিতীয় বারের মত প্রাণের পুকুরটি নিয়ে স্ট্যাটাস দিতে হল। এক সময়ের ব্যবহারযোগ্য পুকুরটি এখন ময়লার বাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর গৃহস্থালী থেকে শুরু করে সকল ধরণের ময়লা আবর্জনা ফেলার বড় একটা ডাস্টবিন হয়েছে এক সময়ের স্বচ্ছ জলের পুকুরটি।

আশপাশের কোন পুকুরের আর অস্থিত্ব নেই। জামালপুর শহরের বসাকপাড়া, দয়াময়ীপাড়া, বোসপাড়া, কাছারীপাড়া, মৃধাপাড়া, মুকুন্দবাড়ি, দড়িপাড়া, বকুলতলা, আমলাপাড়া, মিয়াপাড়া, দেওয়ানপাড়া, বাগানবাড়ি, নয়াপাড়া, সর্দারপাড়া,চালাপাড়া, পালপাড়া, বনপাড়া, স্টেশনপাড়া, বানিয়াবাজারসহ পৌর এলাকার প্রতিটি পাড়া, মহল্লায় একাধিক পুকুর ছিল।

এসব পুকুরে জলের আঁধার ছিল। শিশুরা অবাধে সাতার শিখত এবং মনের আনন্দে সাঁতার কাটত। সাঁতার প্রতিযোগিতার জন্য শৈশবে আমরা প্র্যাকটিস করতাম। বরশিতে মাছ ধরতাম। আমরা লোভী মানুষ এবং অবিবেচক কর্তৃপক্ষের দখলবাজির শিকার হয়ে প্রতিটি পুকুর ভরাট হয়ে গেছে। জামালপুর পৌর শহরেই এ যাবৎ শতাধিক পুকুর খেয়ে ফেলেছে স্বার্থান্ধ মানুষ। এখন ফায়ার সার্ভিসের জন্য পানি সংগ্রহের অবস্থাও নাই। এতে শহরে জলাবদ্ধতারও অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জামালপুর : বসাকপাড়া পুকুর। পরিবেশ দূষণের উৎসে পরিণত। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বসাকপাড়ার এ পুকুরটিকে গত সরকারের আমলে পৌর মেয়র সাহেব লাখ লাখ টাকা খরচ করে ব্যবহারোপযোগীসহ মনোরম সৌন্দর্য সৃষ্টির জন্য কাজ করেছিল। সময়ের বিবর্তনে এখন পুকুরটি শুধু পরিত্যক্তই হয়নি, পরিবেশ দূষণের সবধরনের ক্রিয়া এখানে করা হয়। পুকুরটিকে রক্ষা অথবা বাঁচাতে সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

আবারও পৌর প্রশাসক মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি- পুকুরটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নিন। প্রয়োজনে শর্তসাপেক্ষে লিজ দেওয়া যেতে। সুইমিং পুলও বানানো যেতে পারে। আপনি জামালপুর শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। এ পুকুটির দিকেও আপনার সুনজর পড়বে সহসায়।

সরকারের নির্দেশনা মেনে ভবিষ্যতে আর যেন কোন পুকুর ভরাট করা না হয়। বিদ্যমান পুকুরগুলোতকে আর যেন অযত্ন অবহেলা করা না হয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে আনবেন বলে আমরা গভীরভাবে প্রত্যাশা করছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব জোরদার হয়েছে : হুমায়ুন

বসাকপাড়ার পুকুরটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

আপডেট সময় ১০:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

এ তল্লাটের মধ্যে বসাকপাড়ার এই একটি মাত্র পুকুর অবশিষ্ট আছে। দ্বিতীয় বারের মত প্রাণের পুকুরটি নিয়ে স্ট্যাটাস দিতে হল। এক সময়ের ব্যবহারযোগ্য পুকুরটি এখন ময়লার বাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর গৃহস্থালী থেকে শুরু করে সকল ধরণের ময়লা আবর্জনা ফেলার বড় একটা ডাস্টবিন হয়েছে এক সময়ের স্বচ্ছ জলের পুকুরটি।

আশপাশের কোন পুকুরের আর অস্থিত্ব নেই। জামালপুর শহরের বসাকপাড়া, দয়াময়ীপাড়া, বোসপাড়া, কাছারীপাড়া, মৃধাপাড়া, মুকুন্দবাড়ি, দড়িপাড়া, বকুলতলা, আমলাপাড়া, মিয়াপাড়া, দেওয়ানপাড়া, বাগানবাড়ি, নয়াপাড়া, সর্দারপাড়া,চালাপাড়া, পালপাড়া, বনপাড়া, স্টেশনপাড়া, বানিয়াবাজারসহ পৌর এলাকার প্রতিটি পাড়া, মহল্লায় একাধিক পুকুর ছিল।

এসব পুকুরে জলের আঁধার ছিল। শিশুরা অবাধে সাতার শিখত এবং মনের আনন্দে সাঁতার কাটত। সাঁতার প্রতিযোগিতার জন্য শৈশবে আমরা প্র্যাকটিস করতাম। বরশিতে মাছ ধরতাম। আমরা লোভী মানুষ এবং অবিবেচক কর্তৃপক্ষের দখলবাজির শিকার হয়ে প্রতিটি পুকুর ভরাট হয়ে গেছে। জামালপুর পৌর শহরেই এ যাবৎ শতাধিক পুকুর খেয়ে ফেলেছে স্বার্থান্ধ মানুষ। এখন ফায়ার সার্ভিসের জন্য পানি সংগ্রহের অবস্থাও নাই। এতে শহরে জলাবদ্ধতারও অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জামালপুর : বসাকপাড়া পুকুর। পরিবেশ দূষণের উৎসে পরিণত। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বসাকপাড়ার এ পুকুরটিকে গত সরকারের আমলে পৌর মেয়র সাহেব লাখ লাখ টাকা খরচ করে ব্যবহারোপযোগীসহ মনোরম সৌন্দর্য সৃষ্টির জন্য কাজ করেছিল। সময়ের বিবর্তনে এখন পুকুরটি শুধু পরিত্যক্তই হয়নি, পরিবেশ দূষণের সবধরনের ক্রিয়া এখানে করা হয়। পুকুরটিকে রক্ষা অথবা বাঁচাতে সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

আবারও পৌর প্রশাসক মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি- পুকুরটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নিন। প্রয়োজনে শর্তসাপেক্ষে লিজ দেওয়া যেতে। সুইমিং পুলও বানানো যেতে পারে। আপনি জামালপুর শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। এ পুকুটির দিকেও আপনার সুনজর পড়বে সহসায়।

সরকারের নির্দেশনা মেনে ভবিষ্যতে আর যেন কোন পুকুর ভরাট করা না হয়। বিদ্যমান পুকুরগুলোতকে আর যেন অযত্ন অবহেলা করা না হয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে আনবেন বলে আমরা গভীরভাবে প্রত্যাশা করছি।