মাদক ছেড়ে খেলার মাঠে, শিশু কিশোর আয়না ছুটে। সড়ক সংস্কার কারেন্ট বাতি, জলাবদ্ধতার হবে গতি– এসব প্রতিপাদ্যের আলোকে জামালপুর পৌরসভার উন্নয়নে ওয়ার্ডভিত্তিক সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে জামালপুর পৌরসভার দক্ষিণাঞ্চলে একটা মিনি স্টেডিয়াম গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক হাছিনা বেগম।
পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুনিয়া বড় মাসজিদ সংলগ্ন একটি কেজি স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক জলাবদ্ধতা নিরসনে জামালপুর পৌর প্রশাসকের কার্যক্রমে প্রশংসা করে বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দূর্বলতা, পলিথিন, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন ব্রহ্মপুত্র এবং ঝিনাই নদে পানি নাই। অথচ সামান্য বর্ষায় গোটা শহর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, গবাখালি খাল ও বংশখাল সংস্কারে আমরা মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। আশা করি তা অনুমোদন হয়ে যাবে। একই সাথে তিনি জন্ম নিবন্ধনের গুরুত্ব, বাল্যবিয়ের কুফলসহ বিভিন্ন ইস্যুর বিশ্লেষণমুখী আলোচনা করেন।

পৌর প্রশাসক এ কে এম আব্দুল্লুাহ বিন রশিদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. রফিকুল ইসলাম (পিপিএম সেবা)। ওয়ার্ড পর্যায়ে সভার সমন্বয়ক মানবাধিকার সংগঠক জাহাঙ্গীর সেলিম ও আইনজীবী আনিছুর রহমান মানিকের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজনীতি ও শিক্ষাবিদ আমির উদ্দিন, শ্রমিক সংগঠক ও জামালপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর দিদারুল আলম কালা, চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এনামুল হক খান মিলন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আছির উদ্দিন প্রমুখ। এর আগে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আটটি গ্রামের আটজন প্রতিনিধি স্ব স্ব এলাকার বিদ্যমান সমস্যা, অসঙ্গতি তুলে ধরে সমাধানের দাবি জানান।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স উল্লেখ করে পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. রফিকুল ইসলাম (পিপিএম সেবা) বলেন, মাদক কারবারি ও মাদকাসক্তদের ভয় করার দরকার নাই। ভয়কে জয় করে পুলিশের উপর ভরসা রাখুন। ওদের সম্পর্কে পুলিশের কাছে তথ্য দেন। পুলিশ অফিসার কোন পদক্ষেপ না নিলে ওই পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, ২৬ লাখ মানুষের জন্য জামালপুরে মাত্র এক হাজার ৩০০ পুলিশ আছে। এর মধ্যে শান্তি, শৃঙ্খলাসহ নানাবিদ কাজে ব্যস্ত থাকে অনেক পুলিশ সদস্য।
পুলিশ সুপার কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আপনারা সহায়তা করলে মাদক, জুয়া, নারী, শিশু নির্যাতনসহ অপরাধমুক্ত জামালপুর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

পৌর প্রশাসক এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ পূজার পর সড়ক বাতি ও সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দেন। তিনি শিশুদের হাতে ফুটবল তুলে দেন।
প্রসঙ্গত, সড়ক, সংস্কার, সড়ক বাতি লাগানো, জলাবদ্ধতা নিরসন, বাল্যবিয়ে নিরোধ, জন্ম নিবন্ধন করা, বৃক্ষরোপণসহ ১১টি ইস্যু নিয়ে জামালপুর পৌরসভায় প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক সভার উদ্যোগ নিয়েছে জামালপুর পৌরসভা। এ কাজে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন মানবাধিকার ও উন্নয়নকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
বিশেষ প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 



















