ঢাকা ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী : মানবিক ও নিরাপদ দেশ গড়ার আহ্বান আগামীকাল ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস একটি অসহায় পরিবারের পাশে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা দুর্গম যমুনার চরে হেকমত আতঙ্কে অবরুদ্ধ অসহায় এক পরিবার শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৎপরতা শুরু স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এআই টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখছে গুগল গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

দুর্নীতির দায়ে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সাজ্জাতুল বরখাস্ত

দেওয়ানগঞ্জ : বরখাস্তকৃত ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাতুল হক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাতুল হককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন।

সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর জাল করে ভূমির নামজারি ও হোল্ডিং খোলাসহ নানা অনিয়ম ও ঘুষ-দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের আর্থিক সুবিধা বা বকেয়া প্রাপ্য না পাওয়ারও আদেশ জারি করা  হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, এনডিসি স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তার বিরুদ্ধে গুরুদণ্ড হিসাবে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।

ওই অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চিকাজানি  ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাতুল হক জামালপুর পৌর ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালে ২০২৩ সালে এসিল্যান্ড শিহাবুল আরিফ, সার্ভেয়ার নূর-এ-আহম্মেদ, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইমান আলীর স্বাক্ষর জাল করা, ভুয়া নামজারি ও ডিসিআরের মাধ্যমে হোল্ডিং খোলাসহ সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ নেয়াসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। সে সময় তার ঘুষ দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩ (খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এবং ৩ (ঘ) অনুযায়ী ‘দুর্নীতিপরায়ণ’-এর অভিযোগে জেলা প্রশাসক, জামালপুর কর্তৃক বিভাগীয় মামলা (০৪/২০২৪) রুজু করা হয়।

পরবর্তীতে ওই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত শুনানি সন্তোষজনক না হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৭ (২) (ঘ) নং বিধি মোতাবেক অভিযোগ তদন্তের জন্য জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী পরিচালক চৌধুরী বিশ্বনাথ আনন্দকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সার্বিক তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরে গত ১২ জানুয়ারি ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪ (৬) নং বিধি মোতাবেক গুরুদণ্ড প্রদানের সুপারিশসহ জামালপুর জেলা প্রশাসক বিভাগীয় কমিশনার বরাবর প্রস্তাব পাঠান।

পরে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩ (খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এবং ৩ (ঘ) অনুযায়ী ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ এর অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগের প্রকৃতি, গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিক সব বিষয় বিবেচনায় একই বিধিমালার ৪ (৩) (গ) নং বিধি মোতাবেক মো. সাজ্জাতুল হককে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী (২৯ এপ্রিল) স্বাক্ষরিত পত্রে ‘চাকরি হতে অপসারণ’ সূচক ‘গুরুদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি কোন ধরনের সরকারি আর্থিক সুবিধা ও বকেয়া পাবেন না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয় সাজ্জাতুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলে তিনি সাড়া দেননি।

২ মে, শনিবার সকালে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ২৯ এপ্রিল বিভাগীয় কমিশনার অফিস থেকে ওই কর্মকর্তার বরখাস্তের আদেশ পাই। অফিস খোলার পর ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে ফাইলপত্র বুঝে নিয়ে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল

দুর্নীতির দায়ে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সাজ্জাতুল বরখাস্ত

আপডেট সময় ১০:১৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাতুল হককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন।

সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর জাল করে ভূমির নামজারি ও হোল্ডিং খোলাসহ নানা অনিয়ম ও ঘুষ-দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের আর্থিক সুবিধা বা বকেয়া প্রাপ্য না পাওয়ারও আদেশ জারি করা  হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, এনডিসি স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তার বিরুদ্ধে গুরুদণ্ড হিসাবে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।

ওই অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চিকাজানি  ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাতুল হক জামালপুর পৌর ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালে ২০২৩ সালে এসিল্যান্ড শিহাবুল আরিফ, সার্ভেয়ার নূর-এ-আহম্মেদ, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইমান আলীর স্বাক্ষর জাল করা, ভুয়া নামজারি ও ডিসিআরের মাধ্যমে হোল্ডিং খোলাসহ সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ নেয়াসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। সে সময় তার ঘুষ দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩ (খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এবং ৩ (ঘ) অনুযায়ী ‘দুর্নীতিপরায়ণ’-এর অভিযোগে জেলা প্রশাসক, জামালপুর কর্তৃক বিভাগীয় মামলা (০৪/২০২৪) রুজু করা হয়।

পরবর্তীতে ওই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত শুনানি সন্তোষজনক না হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৭ (২) (ঘ) নং বিধি মোতাবেক অভিযোগ তদন্তের জন্য জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী পরিচালক চৌধুরী বিশ্বনাথ আনন্দকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সার্বিক তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরে গত ১২ জানুয়ারি ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪ (৬) নং বিধি মোতাবেক গুরুদণ্ড প্রদানের সুপারিশসহ জামালপুর জেলা প্রশাসক বিভাগীয় কমিশনার বরাবর প্রস্তাব পাঠান।

পরে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩ (খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এবং ৩ (ঘ) অনুযায়ী ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ এর অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগের প্রকৃতি, গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিক সব বিষয় বিবেচনায় একই বিধিমালার ৪ (৩) (গ) নং বিধি মোতাবেক মো. সাজ্জাতুল হককে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী (২৯ এপ্রিল) স্বাক্ষরিত পত্রে ‘চাকরি হতে অপসারণ’ সূচক ‘গুরুদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি কোন ধরনের সরকারি আর্থিক সুবিধা ও বকেয়া পাবেন না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয় সাজ্জাতুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলে তিনি সাড়া দেননি।

২ মে, শনিবার সকালে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ২৯ এপ্রিল বিভাগীয় কমিশনার অফিস থেকে ওই কর্মকর্তার বরখাস্তের আদেশ পাই। অফিস খোলার পর ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে ফাইলপত্র বুঝে নিয়ে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।