ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ‘পবিত্র ঈদুল আজহা’ উপলক্ষ্যে নিম্নোল্লিখিত বাণী প্রদান করেছেন :

“ঈদ মোবারক।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

ঈদুল আজহা শুধু মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয় এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং হিংসা-বিদ্বেষ ও মনের পশুত্বকে কুরবানি করার এক মহিমান্বিত ও সর্বজনীন আহ্বান।

মহান আল্লাহ তা’য়ালার প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ, অবিচল আনুগত্য এবং সামাজিক সাম্যের অনুপম মহিমায় সমুজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আজহা আবারো আমাদের সামনে সমাগত। মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে হযরত ইবরাহিম (আঃ), তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ)-কে কুরবানি করতে প্রস্তুত হয়ে যে আত্মসমর্পণ, ধৈর্য, বিশ্বাস ও আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা মানবজাতির জন্য চিরন্তন আদর্শ হয়ে রয়েছে। এই মহান ঘটনা আমাদের আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়।

ঈদুল আজহায় কুরবানির হিস্যা আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে অংশীদারিত্ব, বৈষম্য হ্রাস, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। কুরবানির ঈদ গরিব মানুষের সারা বছরের আমিষ যোগানে সাহায্য করে। সার্বিক অর্থে দেশের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে চাঙ্গা করে। এক্ষণে আমি দেশবাসীকে অনুরোধ করবো, নির্ধারিত স্থানে কুরবানি করুন এবং কুরবানির বর্জ্য ফেলুন, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকুন। সমাজের সচ্ছল ও বিত্তবানদের আহ্বান জানাবো, তাঁরা যেন কুরবানির আনন্দ দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষ এবং অভাবগ্রস্তদের সঙ্গে যথাযথভাবে ভাগাভাগি করে নেন, মানব কল্যাণে এগিয়ে আসেন।

আসুন, পবিত্র ঈদুল আজহার মহান শিক্ষাকে ধারণ করে আমরা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সততা, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ত্যাগের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করি। বিভেদ নয়, সম্প্রীতি; হিংসা নয়, সৌহার্দ্য; স্বার্থপরতা নয়, উদারতা-এই চেতনা লালন করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন, কল্যাণমুখী মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাঁধে কাঁধ রেখে একযোগে কাজ করি।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলের কুরবানি কবুল করুন, দেশ ও জাতির উপর তাঁর অশেষ রহমত বর্ষণ করুন। ঈদুল আজহা সমগ্র বিশ্বে বয়ে আনুক শান্তি, স্থিতি, সম্প্রীতি ও অশেষ কল্যাণ।”  সূত্র : পিআইডি

জনপ্রিয় সংবাদ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির বাণী

আপডেট সময় ০৭:১৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ‘পবিত্র ঈদুল আজহা’ উপলক্ষ্যে নিম্নোল্লিখিত বাণী প্রদান করেছেন :

“ঈদ মোবারক।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

ঈদুল আজহা শুধু মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয় এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং হিংসা-বিদ্বেষ ও মনের পশুত্বকে কুরবানি করার এক মহিমান্বিত ও সর্বজনীন আহ্বান।

মহান আল্লাহ তা’য়ালার প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ, অবিচল আনুগত্য এবং সামাজিক সাম্যের অনুপম মহিমায় সমুজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আজহা আবারো আমাদের সামনে সমাগত। মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে হযরত ইবরাহিম (আঃ), তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ)-কে কুরবানি করতে প্রস্তুত হয়ে যে আত্মসমর্পণ, ধৈর্য, বিশ্বাস ও আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা মানবজাতির জন্য চিরন্তন আদর্শ হয়ে রয়েছে। এই মহান ঘটনা আমাদের আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়।

ঈদুল আজহায় কুরবানির হিস্যা আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে অংশীদারিত্ব, বৈষম্য হ্রাস, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। কুরবানির ঈদ গরিব মানুষের সারা বছরের আমিষ যোগানে সাহায্য করে। সার্বিক অর্থে দেশের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে চাঙ্গা করে। এক্ষণে আমি দেশবাসীকে অনুরোধ করবো, নির্ধারিত স্থানে কুরবানি করুন এবং কুরবানির বর্জ্য ফেলুন, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকুন। সমাজের সচ্ছল ও বিত্তবানদের আহ্বান জানাবো, তাঁরা যেন কুরবানির আনন্দ দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষ এবং অভাবগ্রস্তদের সঙ্গে যথাযথভাবে ভাগাভাগি করে নেন, মানব কল্যাণে এগিয়ে আসেন।

আসুন, পবিত্র ঈদুল আজহার মহান শিক্ষাকে ধারণ করে আমরা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সততা, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ত্যাগের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করি। বিভেদ নয়, সম্প্রীতি; হিংসা নয়, সৌহার্দ্য; স্বার্থপরতা নয়, উদারতা-এই চেতনা লালন করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন, কল্যাণমুখী মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাঁধে কাঁধ রেখে একযোগে কাজ করি।

মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলের কুরবানি কবুল করুন, দেশ ও জাতির উপর তাঁর অশেষ রহমত বর্ষণ করুন। ঈদুল আজহা সমগ্র বিশ্বে বয়ে আনুক শান্তি, স্থিতি, সম্প্রীতি ও অশেষ কল্যাণ।”  সূত্র : পিআইডি