ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরিষাবাড়ীতে কাঁচা মরিচের দাম প্রতি কেজি ৫০০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা

আরামনগর বাজারে প্রতিদিন প্রচুর সবজি উঠে। একজন সবজি বিক্রেতা তার দোকানের সবজিগুছিয়ে নিচ্ছেন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু সবজির দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এক সপ্তাহ ব্যবধানে কাঁচামরিচ ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০০ টাকা। এহেন পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সরকারের কাছে বাজার নিয়ন্ত্রণের জোর দাবি জানান।

বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথার্থ বাজার মনিটরিং না থাকায় সবজি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চড়া দামে সবজি বিক্রি করছেন। তবে সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন চড়া দামে কেনা কারণে চড়া দামে বিক্রি করছেন।

১২ অক্টোবর শনিবার বিকালে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আরামনগর, শিমলা, বাউসি ও সানাকৈর বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আলু ৬০ টাকা, মরিচ ৫০০, ফুলকপি ১৯০, বেগুন ১২০, করলা ৯০, পটল ৮০, ঢেড়শ ৯০, পেঁপে ৩০, রসুন ২২০ ও আদা ১৬০, দেশি শসা ১২০, পেঁয়াজ ১১০, মিষ্টি কুমড়া ৮০/৯০ টাকা, ধুন্দল ৮০, ঝিঙে ৮০, কঁচুমুখী ৭০ ও বাঁধাকপি ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মাঝারি লাউ ১০০ ও বড় জাতের লাউ ১৫০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরামনগর বাজারের এক ক্রেতা পলাশ মিয়া বলেন, গত তিন দিন আগে বেগুন কিনেছি ৫০ টাকা কেজি আজ ১২০ টাকা কেজি। কাঁচামরিচ এক সপ্তাহ আগে ছিল ২২০ টাকা কেজি এখন ৫০০ টাকা কেজি। তাই বাজার না করে দুই কেজি পেঁপে নিয়ে বাড়ি ফিরেছি।

ক্রেতার অপেক্ষায় একজন সবজি বিক্রেতা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মহাদান ইউনিয়নের সানাকৈর বাজারের কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা হলে তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রয়োজন মোতাবেক বাজার থেকে সবজিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয় করতে পারলাম না। সারাদিন পরিশ্রম করে যা উপার্জন করি সে টাকা দিয়ে বাজার করা বড়ই মুশকিল হয়ে পড়েছে। আমাদের মতো নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারদের এখন মরণ ছাড়া কোনো উপায় নেই।

আরামনগর বাজারের খুচরা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবজির চাহিদা বেশি কিন্তু আমদানি কম থাকায় সবজির দাম বেশি। আমাদের আগের চেয়ে দিগুণ দামে কিনতে হয় তাই দিগুণ দামে বিক্রি করছি। এক সপ্তাহ আগে বেগুন কিনেছি ৪০/৪৫ কেজি এখন কিনতে হয় ১১০/১১৫ কেজি। তাই বিক্রিও বেশি দামে করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জামালপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার তদারকি করছি। কিছু অসৎ ব্যবসায়ীদের জরিমানাও করছি।বন্যায় বেগুন চাষে ক্ষতি হওয়ায় বেগুনের দাম একটু বেশি। তবে ১২০ টাকা হওয়ার কথা না। বাজার মনিটরিং করতে আমাদের লোক প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরিষাবাড়ীতে কাঁচা মরিচের দাম প্রতি কেজি ৫০০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা

আপডেট সময় ১১:২১:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৪

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু সবজির দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এক সপ্তাহ ব্যবধানে কাঁচামরিচ ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০০ টাকা। এহেন পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সরকারের কাছে বাজার নিয়ন্ত্রণের জোর দাবি জানান।

বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথার্থ বাজার মনিটরিং না থাকায় সবজি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চড়া দামে সবজি বিক্রি করছেন। তবে সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন চড়া দামে কেনা কারণে চড়া দামে বিক্রি করছেন।

১২ অক্টোবর শনিবার বিকালে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আরামনগর, শিমলা, বাউসি ও সানাকৈর বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আলু ৬০ টাকা, মরিচ ৫০০, ফুলকপি ১৯০, বেগুন ১২০, করলা ৯০, পটল ৮০, ঢেড়শ ৯০, পেঁপে ৩০, রসুন ২২০ ও আদা ১৬০, দেশি শসা ১২০, পেঁয়াজ ১১০, মিষ্টি কুমড়া ৮০/৯০ টাকা, ধুন্দল ৮০, ঝিঙে ৮০, কঁচুমুখী ৭০ ও বাঁধাকপি ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মাঝারি লাউ ১০০ ও বড় জাতের লাউ ১৫০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরামনগর বাজারের এক ক্রেতা পলাশ মিয়া বলেন, গত তিন দিন আগে বেগুন কিনেছি ৫০ টাকা কেজি আজ ১২০ টাকা কেজি। কাঁচামরিচ এক সপ্তাহ আগে ছিল ২২০ টাকা কেজি এখন ৫০০ টাকা কেজি। তাই বাজার না করে দুই কেজি পেঁপে নিয়ে বাড়ি ফিরেছি।

ক্রেতার অপেক্ষায় একজন সবজি বিক্রেতা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মহাদান ইউনিয়নের সানাকৈর বাজারের কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা হলে তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রয়োজন মোতাবেক বাজার থেকে সবজিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয় করতে পারলাম না। সারাদিন পরিশ্রম করে যা উপার্জন করি সে টাকা দিয়ে বাজার করা বড়ই মুশকিল হয়ে পড়েছে। আমাদের মতো নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারদের এখন মরণ ছাড়া কোনো উপায় নেই।

আরামনগর বাজারের খুচরা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে সবজির চাহিদা বেশি কিন্তু আমদানি কম থাকায় সবজির দাম বেশি। আমাদের আগের চেয়ে দিগুণ দামে কিনতে হয় তাই দিগুণ দামে বিক্রি করছি। এক সপ্তাহ আগে বেগুন কিনেছি ৪০/৪৫ কেজি এখন কিনতে হয় ১১০/১১৫ কেজি। তাই বিক্রিও বেশি দামে করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জামালপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার তদারকি করছি। কিছু অসৎ ব্যবসায়ীদের জরিমানাও করছি।বন্যায় বেগুন চাষে ক্ষতি হওয়ায় বেগুনের দাম একটু বেশি। তবে ১২০ টাকা হওয়ার কথা না। বাজার মনিটরিং করতে আমাদের লোক প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।