জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বাগবাড়ী এলাকার কৃষক মো. সুরুজ্জামানের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী ও সানন্দবাড়ী কলেজের প্রভাষক মো. সুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ওই কৃষক সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দিয়ে মেলান্দহ থানা-পুলিশের সহায়তা চেয়েছেন। অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন কলেজ শিক্ষক মো. সুরুজ্জামান।
অভিযোগে জানা গেছে, মেলান্দহ উপজেলার বাগবাড়ী এলাকার মৃত জবেদ আলীর ছেলে মো. সুরুজ্জামান তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। জমির এক অংশে তিনি বেশ কিছু ইউক্যালিপটাস গাছের বাগানও করেছেন।
২৫ সেপ্টেম্বর সকালে তার প্রতিবেশী প্রতিপক্ষ কলেজশিক্ষক মো. সুরুজ্জামান ও তার ভাইয়েরা কৃষক মো. সুরুজ্জামানের ইউক্যালিপটাস বাগান উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। পরে ভুক্তভোগী কৃষক মো. সুরুজ্জামান ও তার পরিবারেরর সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তার ওপর আক্রমণের চেষ্টা করেন। এ সময় তার চিৎকারে আশেপাশের মানুষেরা সেখানে গিয়ে তাকে রক্ষা করেন। পরে প্রতিপক্ষ কলেজশিক্ষক মো. সুরুজ্জামান ও তার লোকজনেরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় তারা জমি ছাড়া করার হুমকি দিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেন কৃষক মো. সুরুজ্জামান।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষক মো. সুরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, আমার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি যেটি আমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসতেছি। হঠাৎ করে আজ প্রতিপক্ষ কলেজশিক্ষক মো. সুরুজ্জামান ও তার লোকজন আমার জমি দখল করার পাঁয়তারা চালায়। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ দেওয়ার আগে স্থানীয়দেরকে নিয়ে আমি এলাকায় শালিসি বৈঠকেরও আয়োজন করেছিলাম। শালিসে তার জমির দলিলপত্র দেখে গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে কলেজ শিক্ষক মো. সুরুজ্জামান এ প্রতিবেদককে বলেন, সেখানে ৫২ শতাংশ জমি আমরা চার ভাই প্রায় ৪৫ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু রেকর্ড হওয়ার সময় আমাদের নামে ২১ শতাংশ আর অভিযোগকারী কৃষক মো. সুরুজ্জামানের নামে হয় ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ। পরবর্তীতে আমরা রেকর্ড সংশোধনী চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, এই বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়ে ৯ অক্টোবর বুধবার দুই পক্ষকে নিয়ে মেলান্দহ থানায় বৈঠক হওয়ার পূর্ব নির্ধারিত তারিখ রয়েছে।
মেলান্দহ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, কৃষক মো. সুরুজ্জামানের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দুই পক্ষ থানায় এলে তাদের দলিলকাগজপত্র দেখে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম 



















