“নারায়ে তাকবীর-আল্লাহু আকবার, নারায়ে রিসালাত-ইয়া রাসূলাল্লাহ (দঃ)” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে পবিত্র ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী (দঃ) উদযাপন উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জামালপুর দরবার শরিফের উদ্যােগে ধর্মীয় শান্তিপূর্ণ আনন্দ শুকরিয়া মিছিল জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৬ আগস্ট, বুধবার সকালে শহরের পিটিআই মোড় হতে ধর্মীয় শান্তিপূর্ণ আনন্দ শুকরিয়া মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হযরত শাহ্ জামাল (রহ.) মাজার শরিফ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয় জশনে জুলুসের মিছিল। আনন্দ শুকরিয়া মিছিলে জেলার বিভিন্ন দরবার শরিফসহ নবীপ্রেমে উজ্জীবিত মুসলমানেরা অংশ নেন। জশনে জুলুসে সারা শহরের ঢল নামে ধর্মপ্রাণ মানুষের।
জামালপুর দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা ও গদ্দীনশীন শাহ্ ছুফী আলহাজ হযরত মাওলানা নূরুল ইসলাম জামালপুরী মাইজভান্ডারী (মা.জি.আ) (বি এ অনার্স, এম. এ)-এর একমাত্রপুত্র জামালপুর দরবার শরিফের একমাত্র সাহেবজাদা হযরত মাওলানা রওনকুল ইসলাম (মা. জি.আ.) মাইজভান্ডারী ধর্মীয় শান্তিপূর্ণ আনন্দ ও শুকরিয়া মিছিলের নেতৃত্ব দেন।
মিছিল শেষে জামালপুর দরবার শরিফের একমাত্র সাহেবজাদা হযরত মাওলানা রওনকুল ইসলাম (মা.জি.আ.) মাইজভান্ডারী দেশ, জাতি ও বিশ্ববাসীর কল্যাণে বক্তব্য রাখেন ও দোয়া প্রার্থনা করেন।
জামালপুর দরবার শরিফের একমাত্র সাহেবজাদা হযরত মাওলানা রওনকুল ইসলাম (মা.জি. আ.) মাইজভান্ডারী তার বক্তব্যে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার আদর্শ অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণকর সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন। রাসূলকে অনুসরণ করাই একমাত্র সুপথ।
তিনি আরও বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে এই দিনে (১২ রবিউল আউয়াল) আরবের মক্কা নগরীর সভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। ২৫ বছর বয়সে মহানবী বিবি খাদিজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি নবুয়ত লাভ করেন।
এ সময় জেসিসিআই’র সাবেক সহ-সভাপতি ইকরামুল হক নবীন, মো. মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জশনে জুলুছে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (দঃ) উপলক্ষে অনুষ্ঠিত র্ধমীয় শান্তিপূর্ণ আনন্দ ও শুকরিয়া মিছিলে নান্দিনার হযরত খাজা ইউনুছিয়া পাক দরবার শরিফ, কুটামনির খাজায়েনে দরবার শরিফসহ বিভিন্ন দরবার শরিফের আশেকান- জাকেরানসহ ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা স্বতঃর্স্ফূতভাবে অংশ নিয়ে নবীপ্রেমে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
এরপর রাত ৯টায় শহরের তমালতলা মোড়ে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জশনে জুলুছে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত র্ধমীয় শান্তিপূর্ণ আনন্দ ও শুকরিয়া মিছিলে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নির্বিশেষে সকলেই স্বতঃর্স্ফুতভাবে অংশ নিয়ে নবীপ্রেমে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন জামালপুর পাক দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা শাহেনশাহে বাবা নূরুল ইসলাম জামালপুরীর একমাত্র সাহেবজাদা, বর্তমান গদ্দীনিশিন হযরত মাওলানা রওনকুল ইসলাম জামালপুরী (মা: জি: আ:) মাইজভান্ডারী।
ওয়াজ মাহফিলে আরও ওয়াজ ফরমান গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী দরবার শরিফের খলিফা আলহাজ হযরত মাওলানা আল-হাসান মাইজভান্ডারী, মুফফি এনায়েত হোসেন ফকির সাহেব আলমোজাদ্দেদী, মাওলানা বুলবুল ইসলাম সাহেব আলমোজাদ্দেদী, মুসলিমাবাদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা আবুল হাশেম সাহেব।
এছাড়াও ওয়াজ মাহফিলে ওয়াহীদ তাউসিফ তাবিব, জেসিসিআই’র সাবেক সহ-সভাপতি ইকরামুল হক নবীন, মিরাজুল ইসলাম কামাল, মো. তারিকুল ইসলাম, মো. সাইখুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ছদারত শেষে জামালপুর দরবার শরিফের একমাত্র সাহেবজাদা হযরত মাওলানা রওনকুল ইসলাম (মা: জি: আ:) মাইজভান্ডারী ওয়াজ মাহফিলে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নির্বিশেষে অসংখ্য ভক্ত অনুরাগী জশনে জুলুছে সমবেত হয়। সেই সাথে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের বিভিন্ন দরবার শরিফের আশেকান ও ভক্তবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য শ্রবণ করেন।
এ সময় তারা বক্তাগণের বক্তব্য শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে মিলাদ কিয়াম ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিল শেষ হয়।
মো. আলমগীর : নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর, বাংলারচিঠিডটকম 


















