জামালপুরে দশ হাজার টাকার জন্য অটোরিকশা ছিনতাই করে নিরীহ এক চালককে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। নিহত অটোরিকশাচালক নায়েব আলী মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের কাজাইকাটা গ্রামের হোসেন আলী গাইরেলের ছেলে।
২৪ জুন, বুধবার বিকালে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, ২৩ জুন, মঙ্গলবার মধ্যরাতে ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের ডেফলা ব্রিজ এলাকায় একটি ধান ক্ষেত্র থেকে লাগেজবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যাক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের স্বজনেরা ইসলামপুর থানায় গিয়ে নায়েব আলীর মরদেহ শনাক্ত করেন।
ওই রাতে নিহত নায়েব আলীর ছেলে মো. মমিন বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ২৩ জুন রাতে মেলান্দহ উপজেলার চাকদহ সদারবাড়ী এলাকা থেকে মো. নাহিদুল ইসলাম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার কুদরত উল্লাহর ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদুল ইসলাম ঘটনার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানান পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত। নিহাদুল ইসলামের স্বীকারোক্তি বর্ননা দিয়ে তিনি জানান, তার সংসারের জন্য ১০ হাজার টাকার প্রয়োজনে অটোরিকশা চুরির পরিকল্পনা করেন। পরে তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগীদের নিয়ে ২১ জুন, রবিবার রাতে যাত্রী সেজে নায়েব আলীর অটোরিকশায় উঠেন। তাকে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করেন। পরে নায়েব আলীর মরদেহ একটি ব্যাগে ভরে ফেলে দেন।

পরে নিহাদুল ইসলাম সেই অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে প্রায় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এরপর পিবিআই জেলার বিভিন্ন অটোরিকশার দোকানে অভিযান পরিচালনা করে একটি মোবাইল ফোন ও সেই অটোরিকশার চারটি ব্যাটারি, একটি কন্ট্রোলার, তিনটি চাকা, মোটর ডিপেন্সিয়াল, দুটি সকেট বাম্পার, অটোরিকশার সামনের গ্লাসসহ লোহার বডির বিভিন্ন কাটা অংশ উদ্ধার করা হয়। চোরাই মালামাল ক্রয়ের সাথে জড়িত থাকায় সোলাইমান কবির, শফিকুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, রাসেল হোসেন ও সাগর পাশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পংকজ দত্ত আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ২৪ জুন দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নাহিদুল ইসলামের অন্য সহযোগীদের এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মুত্তাছিম বিল্লাহ : নিজস্ব প্রতিবেদক, মেলান্দহ 


















