ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে চাচা-ভাতিজা হত্যা, রায়ের অপেক্ষায় দুই পরিবার হাসপাতালে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেয়া নোভিদ পেল জিপিএ-৫ ইসলামপুরে ৯ শিক্ষকের বিদ্যালয়ে ৩ পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের মৃত্যুদণ্ড বৈলডাঙ্গা বিলের প্রকৃতিতে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে লাল শাপলা ইসলামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে বাঁশির শব্দে ছুটল ঘোড়া, উল্লাসে মাতল হাজারো দর্শক জামালপুরে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক এপির বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬ : বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে মর্যাদা ও অধিকার চাই

হাসপাতালে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেয়া নোভিদ পেল জিপিএ-৫

মা চলে গেছেন বছরখানেক আগে। এসএসসি পরীক্ষার মাঝেই বাবাকেও হারায় মেধাবী শিক্ষার্থী সাদিক হোসেন নোভিদ। তবে বাবার মৃত্যুর খবর গোপন রেখেই তাকে পরীক্ষার কেন্দ্রে পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে জানতে পারে, ‘বাবাও আর নেই।’ মায়ের পর বাবাকে শেষবারের মতো দেখে বিদায় জানিয়ে বুকভরা শোক নিয়ে আবারও বসতে হয় পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। সেই কঠিন সময়কে জয় করে বাবা-মা হারা নোভিদ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

নোভিদ জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের পলিশা গ্রামের প্রয়াত শিক্ষক দম্পতি সুজাউদ্দিন সুজা ও কামরুন্নাহার এলিনার একমাত্র ছেলে। বাবা সুজাউদ্দিন সুজা পলিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক এবং মা কামরুন্নাহার এলিনা মেলান্দহের চরসগুনা এস এম মোখলেছুর রহমান লাভলু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। এক বছর আগে অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান নোভিদের মা।

মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠার আগেই এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে বাবাকেও হারায় নোভিদ। সে জামালপুরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

গত ১৯ মে রাতে স্ট্রোকজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন নোভিদের বাবা সুজাউদ্দিন সুজা। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ২০ মে নোভিদের জীববিজ্ঞান পরীক্ষার দিন সকাল ৮টার দিকে মারা যান সুজাউদ্দিন সুজা।

ছেলের পরীক্ষা যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য পরিবারের সদস্যরা নোভিদকে বাবার মৃত্যুর খবর জানাননি। এমনকি মৃত্যুর প্রায় দুই ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ করা হয়, যাতে নোভিদ কোনোভাবে বিষয়টি জানতে না পারে।

জীববিজ্ঞান পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর নোভিদ জানতে পারে, তার বাবা আর পৃথিবীতে নেই। বাবার জানাজা ও দাফন শেষে শেষ বিদায় জানিয়ে আবারও পড়াশোনায় মন দেয় সে। বুকের ভেতর বাবা-মা হারানোর গভীর কষ্ট নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে নোভিদ।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে নোভিদ বলে, বাবা-মা বেঁচে থাকলে আমার ফলাফল দেখে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। সবাই আমার বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারি, আমার জন্যও দোয়া করবেন।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এই প্রতিবেদককে বলেন, নোভিদের জিপিএ-৫ অর্জনের খবর অত্যন্ত আনন্দের। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে থাকবে। তার উচ্চশিক্ষার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারগঞ্জে চাচা-ভাতিজা হত্যা, রায়ের অপেক্ষায় দুই পরিবার

হাসপাতালে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেয়া নোভিদ পেল জিপিএ-৫

আপডেট সময় ১০:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

মা চলে গেছেন বছরখানেক আগে। এসএসসি পরীক্ষার মাঝেই বাবাকেও হারায় মেধাবী শিক্ষার্থী সাদিক হোসেন নোভিদ। তবে বাবার মৃত্যুর খবর গোপন রেখেই তাকে পরীক্ষার কেন্দ্রে পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে জানতে পারে, ‘বাবাও আর নেই।’ মায়ের পর বাবাকে শেষবারের মতো দেখে বিদায় জানিয়ে বুকভরা শোক নিয়ে আবারও বসতে হয় পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। সেই কঠিন সময়কে জয় করে বাবা-মা হারা নোভিদ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

নোভিদ জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের পলিশা গ্রামের প্রয়াত শিক্ষক দম্পতি সুজাউদ্দিন সুজা ও কামরুন্নাহার এলিনার একমাত্র ছেলে। বাবা সুজাউদ্দিন সুজা পলিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক এবং মা কামরুন্নাহার এলিনা মেলান্দহের চরসগুনা এস এম মোখলেছুর রহমান লাভলু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। এক বছর আগে অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান নোভিদের মা।

মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠার আগেই এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে বাবাকেও হারায় নোভিদ। সে জামালপুরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

গত ১৯ মে রাতে স্ট্রোকজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন নোভিদের বাবা সুজাউদ্দিন সুজা। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ২০ মে নোভিদের জীববিজ্ঞান পরীক্ষার দিন সকাল ৮টার দিকে মারা যান সুজাউদ্দিন সুজা।

ছেলের পরীক্ষা যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য পরিবারের সদস্যরা নোভিদকে বাবার মৃত্যুর খবর জানাননি। এমনকি মৃত্যুর প্রায় দুই ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ করা হয়, যাতে নোভিদ কোনোভাবে বিষয়টি জানতে না পারে।

জীববিজ্ঞান পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর নোভিদ জানতে পারে, তার বাবা আর পৃথিবীতে নেই। বাবার জানাজা ও দাফন শেষে শেষ বিদায় জানিয়ে আবারও পড়াশোনায় মন দেয় সে। বুকের ভেতর বাবা-মা হারানোর গভীর কষ্ট নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে নোভিদ।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে নোভিদ বলে, বাবা-মা বেঁচে থাকলে আমার ফলাফল দেখে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। সবাই আমার বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আমার বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারি, আমার জন্যও দোয়া করবেন।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এই প্রতিবেদককে বলেন, নোভিদের জিপিএ-৫ অর্জনের খবর অত্যন্ত আনন্দের। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে থাকবে। তার উচ্চশিক্ষার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।