ঢাকা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

জামালপুর জেলা বিএনপির সম্মেলন স্থগিতের দাবি জানালেন বিএনপিনেতা শামীম আহমেদ

জামালপুর : মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর জেলা বিএনপির শীর্ষ এক নেতার উদ্দেশ্যে জামালপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ আগামী ২৩ আগস্ট জামালপুর জেলা বিএনপির সম্মেলন আয়োজন প্রসঙ্গে বলেছেন, জামালপুরের ভোটাররা আপনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। জামালপুর জেলা বিএনপির সম্মেলন কোথায় করছেন? জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম মাঠ রয়েছে। জিলাস্কুল মাঠ রয়েছে। সিংহজানি হাইস্কুল মাঠ রয়েছে। যেখানে বারবার বিএনপির সম্মেলন হয়। নতুন হাইস্কুল মাঠ রয়েছে। এত মাঠ রেখে জামালপুরের শেষ প্রান্তে সম্মেলন করছেন কেন? কোথায় নিয়ে গেছেন জামালপুর জেলা বিএনপিকে? আপনার এত ভয় কেন?

১৭ আগস্ট, রবিবার দুপুরে জামালপুর শহরের সকাল বাজার এলাকায় প্রধান সড়কের পাশে বিএনপি ও সকল অঙ্গ সংগঠন, জামালপুর জেলা ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ।

শামীম আহমেদ বলেন, বর্তমান জেলা বিএনপির সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমরা তো পারছি না। তারা দলকে এমনভাবে গ্রাস করে রেখেছে। জেলা বিএনপিকে পেটের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলেছে। কথা বলতে গেলেই হয় বহিষ্কার। নয়ত তিরস্কার করেন। আপনি তো আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করেছেন। ফেসবুকে তো ভাইরাল এগুলো। তা আপনি কেমনে কাটায়ে উঠবেন। ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীর সাথে আঁতাত করে বাসস্ট্যান্ডকে হালুয়া রুটির মত ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। দলকে আমরা বিক্রি হতে দিব না। বিএনপি আপনার হাতে নিরাপদ না। শরীরের একবিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আমরা প্রতিবাদ করেই যাব।

তিনি বলেন, বিএনপি হল একটি নির্বাচনমুখী দল। বিএনপি সন্ত্রাসকে লালন করে না। বিএনপি একটি পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল। তারেক রহমানের নির্দেশে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সারাদেশে আন্দোলন হয়েছে। আমরা সেই আন্দোলনে জামালপুর শহরে বেশ সক্রিয় ছিলাম। তা জামালপুরবাসীই সাক্ষী দিবে। বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে ছানোয়ার হোসেনের আক্রমণের শিকার হয়েছি। বকুলতলা চত্বরে ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে গুলি ও বোমা মেরেছিল। অনেকেই আহত হয়েছিলেন। কিন্তু আমরা পিছপা হই নাই।

শামীম আহমেদ বলেন, তারেক রহমান সাহেবকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করব। জামালপুর জেলা বিএনপির কমিটি স্থগিত করে দেন। কিংবা জেলা কমিটি ভেঙে দেন। না হয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করেন। অথবা আহ্বায়ক কমিটি করে দেন। সেই কমিটির মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে আপনি একটি সুন্দর জামালপুর জেলা বিএনপির কমিটি দিবেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম খান, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল আপনারা এড়িয়ে যাবেন না। তাহলে ভুল করবেন। সেই ভুলের খেরাসত আপনাদের দিতেই হবে। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের এই আন্দোলন চলছেই চলবে। জামালপুর জেলা বিএনপিতে যাতে স্বৈরাচারি না হতে পারে। আর যেন মির্জা আজম সৃষ্টি না হতে পারে। এগুলো কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে দেখতে হবে।

শামীম আহমেদ প্রশ্ন রাখেন, মির্জা আজম, ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী ও ছানোয়ার হোসেন ছানু জামালপুর জেলায় উন্নয়নের নামে যে হরিলুট করেছেন। টাকা আত্মসাত করেছেন। উনাদের অসমাপ্ত কাজ এখন কার হাতে? ঠিকাদারি কাজ কার হাতে? তাদের বাড়িগাড়ি কার জিম্মায় আছে?

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান জিলানীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ফিরোজ আহাম্মেদ, বিএনপি নেতা আজম খান, জুলহাস সরদার ও শেখ ফরিদ মামুন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরামুল হক মানিক, জেলা যুবদলের সদস্য খায়রুল ইসলাম লিয়ন, জামালপুর শহর যুবদলের সাবেক যুগ্মআহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রানা, যুবদলনেতা আশিক পারভেজ রায়হান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক যুবদলনেতা রানা ম্যানসন, ছাত্রদলনেতা রিপন হোসেন হৃদয়, জিয়া সাইবার ফোর্স জেলা শাখার সভাপতি শুভ পাঠান প্রমুখ।

মানববন্ধনে বিএনপি ও সকল অঙ্গদলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে ভূমিসেবা মেলা সমাপ্ত

জামালপুর জেলা বিএনপির সম্মেলন স্থগিতের দাবি জানালেন বিএনপিনেতা শামীম আহমেদ

আপডেট সময় ১১:৪৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

জামালপুর জেলা বিএনপির শীর্ষ এক নেতার উদ্দেশ্যে জামালপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ আগামী ২৩ আগস্ট জামালপুর জেলা বিএনপির সম্মেলন আয়োজন প্রসঙ্গে বলেছেন, জামালপুরের ভোটাররা আপনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। জামালপুর জেলা বিএনপির সম্মেলন কোথায় করছেন? জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম মাঠ রয়েছে। জিলাস্কুল মাঠ রয়েছে। সিংহজানি হাইস্কুল মাঠ রয়েছে। যেখানে বারবার বিএনপির সম্মেলন হয়। নতুন হাইস্কুল মাঠ রয়েছে। এত মাঠ রেখে জামালপুরের শেষ প্রান্তে সম্মেলন করছেন কেন? কোথায় নিয়ে গেছেন জামালপুর জেলা বিএনপিকে? আপনার এত ভয় কেন?

১৭ আগস্ট, রবিবার দুপুরে জামালপুর শহরের সকাল বাজার এলাকায় প্রধান সড়কের পাশে বিএনপি ও সকল অঙ্গ সংগঠন, জামালপুর জেলা ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ।

শামীম আহমেদ বলেন, বর্তমান জেলা বিএনপির সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমরা তো পারছি না। তারা দলকে এমনভাবে গ্রাস করে রেখেছে। জেলা বিএনপিকে পেটের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলেছে। কথা বলতে গেলেই হয় বহিষ্কার। নয়ত তিরস্কার করেন। আপনি তো আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করেছেন। ফেসবুকে তো ভাইরাল এগুলো। তা আপনি কেমনে কাটায়ে উঠবেন। ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীর সাথে আঁতাত করে বাসস্ট্যান্ডকে হালুয়া রুটির মত ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। দলকে আমরা বিক্রি হতে দিব না। বিএনপি আপনার হাতে নিরাপদ না। শরীরের একবিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আমরা প্রতিবাদ করেই যাব।

তিনি বলেন, বিএনপি হল একটি নির্বাচনমুখী দল। বিএনপি সন্ত্রাসকে লালন করে না। বিএনপি একটি পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল। তারেক রহমানের নির্দেশে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সারাদেশে আন্দোলন হয়েছে। আমরা সেই আন্দোলনে জামালপুর শহরে বেশ সক্রিয় ছিলাম। তা জামালপুরবাসীই সাক্ষী দিবে। বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে ছানোয়ার হোসেনের আক্রমণের শিকার হয়েছি। বকুলতলা চত্বরে ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে গুলি ও বোমা মেরেছিল। অনেকেই আহত হয়েছিলেন। কিন্তু আমরা পিছপা হই নাই।

শামীম আহমেদ বলেন, তারেক রহমান সাহেবকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করব। জামালপুর জেলা বিএনপির কমিটি স্থগিত করে দেন। কিংবা জেলা কমিটি ভেঙে দেন। না হয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করেন। অথবা আহ্বায়ক কমিটি করে দেন। সেই কমিটির মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে আপনি একটি সুন্দর জামালপুর জেলা বিএনপির কমিটি দিবেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম খান, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল আপনারা এড়িয়ে যাবেন না। তাহলে ভুল করবেন। সেই ভুলের খেরাসত আপনাদের দিতেই হবে। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের এই আন্দোলন চলছেই চলবে। জামালপুর জেলা বিএনপিতে যাতে স্বৈরাচারি না হতে পারে। আর যেন মির্জা আজম সৃষ্টি না হতে পারে। এগুলো কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে দেখতে হবে।

শামীম আহমেদ প্রশ্ন রাখেন, মির্জা আজম, ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী ও ছানোয়ার হোসেন ছানু জামালপুর জেলায় উন্নয়নের নামে যে হরিলুট করেছেন। টাকা আত্মসাত করেছেন। উনাদের অসমাপ্ত কাজ এখন কার হাতে? ঠিকাদারি কাজ কার হাতে? তাদের বাড়িগাড়ি কার জিম্মায় আছে?

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান জিলানীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ফিরোজ আহাম্মেদ, বিএনপি নেতা আজম খান, জুলহাস সরদার ও শেখ ফরিদ মামুন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরামুল হক মানিক, জেলা যুবদলের সদস্য খায়রুল ইসলাম লিয়ন, জামালপুর শহর যুবদলের সাবেক যুগ্মআহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রানা, যুবদলনেতা আশিক পারভেজ রায়হান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক যুবদলনেতা রানা ম্যানসন, ছাত্রদলনেতা রিপন হোসেন হৃদয়, জিয়া সাইবার ফোর্স জেলা শাখার সভাপতি শুভ পাঠান প্রমুখ।

মানববন্ধনে বিএনপি ও সকল অঙ্গদলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।