জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছপালা উপড়ে পড়ায় ২১ মে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পুরো উপজেলা।
২১ মে সকাল ৮টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায় বিভিন্ন এলাকা। এতে ধান, পাটসহ বিভিন্ন ফসলের খেত নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বীর চরপাকেরদহ, ফাজিলপুর, পাকরুল, ঝাড়কাটা, গুনারীতলা, গোপালপুর, চাঁদপুর, গোলাবাড়ি, তেঘরিয়া, সুখনগরী, হাটমাগুড়া, লালডোবা, জোনাইল, বালিজুড়ী পালপাড়া ও বালিজুড়ী পূর্বপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক টিনের ঘরের চাল উড়ে গেছে। কোথাও গাছ ভেঙে ঘরের উপর পড়ে বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
ফাজিলপুর মাথাভাঙ্গা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত শাহ আলম বলেন, সকালের ঝড়ে আমার ঘরের উপর একটি গাছ ভেঙে পড়ে। পরিবারের সবাই তখন মাঠে কাজ করছিলাম। এজন্য প্রাণে বেঁচে গেছি।
ক্ষতিগ্রস্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, একটি শিমুল গাছ ঘরের উপর উপড়ে পড়ে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তখন ঘরের ভেতরেই ছিলাম। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন। তবে ঘর ভেঙে যাওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে।
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, ঝড়ের বাতাসে ঘরের চাল ভেঙে গেছে। ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও কাপড়চোপড় বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান, পাট ও সবজিখেতের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন এ প্রতিবেদককে বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন আমাদের কর্মীরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খাদেমুল ইসলাম : নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 


















