ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বকশীগঞ্জে বন্যার কবলে ৫ ইউনিয়ন, আন্তঃযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে!

কান্দাপাড়া গ্রামে বন্যার পানি। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

কান্দাপাড়া গ্রামে বন্যার পানি। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় বন্যার পানি বেড়েই চলেছে। এ উপজেলার সার্বিক বন্যার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সাধুরপাড়া ইউনিয়ন, মেরুরচর, বগারচর, নিলক্ষিয়া ও বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে। দ্বিতীয় দফা বন্যা পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির ফলে গ্রাম থেকে গ্রামের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সাধুরপাড়া ইউনিয়নের ২৪টি গ্রামের মধ্যে সবকটি গ্রামেই প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বিলের পাড়, কুতুবের চর, ঠান্ডার বন্দ, উত্তর আচ্চাকান্দি, চর কামালের বার্ত্তী, চর গাজীরপাড়া, গাজীরপাড়া, নিলেরচর, চর আইরমারী, আচ্চা কান্দি, মদনের চর, জোনাইবাড়ী গ্রাম পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের ৯০ ভাগ বাড়ি-ঘরে পানি উঠেছে।

এ ছাড়াও মেরুরচর ইউনিয়নের মাইছানির চর, ভাটি কলকিহারা, পূর্ব কলকিহারা, উজান কলকিহারা, মাদারের চর, চিনারচর, ঘুঘরাকান্দি , বগারচর ইউনিয়নের পেরিরচর, বালুরচর, আলীরপাড়া, সাতভিটা, টালিয়া পাড়া, গোপালপুর, নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের সাজিমারা, দক্ষিণ কুশলনগর, পাগলাপাড়া, গুমের চর এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের। এসব গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় গরু, মহিষ, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বন্যার্তরা।

বিশেষ করে অনেকের বাড়িতে চুলা পানিতে ডুবে যাওয়ায় রান্না করতে সমস্যায় পড়েছেন গৃহিনীরা। বানভাসিরা পানিবন্দির কারণে কোথাও বের হতে পারছেন না। শুধুমাত্র প্রয়োজনের তাগিদে অনেকেই নৌকা, ভেলা তৈরি করে চলাচল করছেন।

বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট, ফসল, রোপা আমণের বীজ তলা, সবজি খেত তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। বিশেষ করে গোখাদ্যের সংকট ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে বন্যার্ত এলাকায়। এদিকে বকশীগঞ্জ উপজেলা থেকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সকল সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

বকশীগঞ্জ থেকে খুটারচর, বকশীগঞ্জ থেকে মাদারেরচর হয়ে দেওয়ানগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাথে বিভিন্ন এলাকার আন্তঃযোগাযোগ বন্ধ হতে চলেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হাসান মাহবুব খান জানান, বন্যা, ঈদুল আযহা ও বিভিন্ন দুর্যোগ উপলক্ষে একটি পৌরসভা, ৭টি ইউনিয়নে ৪২৪ মেট্রিক চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সুবিধামত বন্যার্ত এলাকায় বিতরণের জন্য বলা হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বকশীগঞ্জে বন্যার কবলে ৫ ইউনিয়ন, আন্তঃযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে!

আপডেট সময় ০৭:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০
কান্দাপাড়া গ্রামে বন্যার পানি। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় বন্যার পানি বেড়েই চলেছে। এ উপজেলার সার্বিক বন্যার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সাধুরপাড়া ইউনিয়ন, মেরুরচর, বগারচর, নিলক্ষিয়া ও বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে। দ্বিতীয় দফা বন্যা পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির ফলে গ্রাম থেকে গ্রামের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সাধুরপাড়া ইউনিয়নের ২৪টি গ্রামের মধ্যে সবকটি গ্রামেই প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বিলের পাড়, কুতুবের চর, ঠান্ডার বন্দ, উত্তর আচ্চাকান্দি, চর কামালের বার্ত্তী, চর গাজীরপাড়া, গাজীরপাড়া, নিলেরচর, চর আইরমারী, আচ্চা কান্দি, মদনের চর, জোনাইবাড়ী গ্রাম পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের ৯০ ভাগ বাড়ি-ঘরে পানি উঠেছে।

এ ছাড়াও মেরুরচর ইউনিয়নের মাইছানির চর, ভাটি কলকিহারা, পূর্ব কলকিহারা, উজান কলকিহারা, মাদারের চর, চিনারচর, ঘুঘরাকান্দি , বগারচর ইউনিয়নের পেরিরচর, বালুরচর, আলীরপাড়া, সাতভিটা, টালিয়া পাড়া, গোপালপুর, নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের সাজিমারা, দক্ষিণ কুশলনগর, পাগলাপাড়া, গুমের চর এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের। এসব গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় গরু, মহিষ, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বন্যার্তরা।

বিশেষ করে অনেকের বাড়িতে চুলা পানিতে ডুবে যাওয়ায় রান্না করতে সমস্যায় পড়েছেন গৃহিনীরা। বানভাসিরা পানিবন্দির কারণে কোথাও বের হতে পারছেন না। শুধুমাত্র প্রয়োজনের তাগিদে অনেকেই নৌকা, ভেলা তৈরি করে চলাচল করছেন।

বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট, ফসল, রোপা আমণের বীজ তলা, সবজি খেত তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। বিশেষ করে গোখাদ্যের সংকট ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে বন্যার্ত এলাকায়। এদিকে বকশীগঞ্জ উপজেলা থেকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সকল সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

বকশীগঞ্জ থেকে খুটারচর, বকশীগঞ্জ থেকে মাদারেরচর হয়ে দেওয়ানগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাথে বিভিন্ন এলাকার আন্তঃযোগাযোগ বন্ধ হতে চলেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হাসান মাহবুব খান জানান, বন্যা, ঈদুল আযহা ও বিভিন্ন দুর্যোগ উপলক্ষে একটি পৌরসভা, ৭টি ইউনিয়নে ৪২৪ মেট্রিক চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সুবিধামত বন্যার্ত এলাকায় বিতরণের জন্য বলা হয়েছে।