ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ৩ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ঘাটতি নেই : শামা নকলায় চলন্ত বাসে যাত্রী তোলা নিয়ে মারামারি, পথচারী নিহত যৌতুক : স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা মামলার রায়ে আসামি স্বামীর মৃত্যুদণ্ড বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে ডাক কর্মচারীদের ধর্মঘট জামালপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত সীমান্তে সড়ক সংস্কারে এলজিইডিকে নির্দেশ দিলেন বিভাগীয় কমিশনার প্রতিশ্রুতির বন্যা : জনসেবা নাকি ভোটের রাজনীতি? মাদারগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের দায়ে পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি

দেওয়ানগঞ্জ : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি। ছবি :বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় গত কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

১৮ জুন, ​বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে নদীভাঙনের এই নির্মম চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরেরচর বাজারের পূর্ব পাশে এবং দক্ষিণ গোয়ালকান্দা গ্রামে নদীভাঙন মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে বিলীন হচ্ছে গরিব ও অসহায় মানুষের বসতভিটা। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পরিবারের ঘরবাড়ি। তীব্র ভাঙন-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীর তীরবর্তী শত শত মানুষ। অনেক বাড়িঘর এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে।

ভাঙনের শিকার তারা মিয়া জানান, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে মাত্র দুই দিনের মধ্যে তাদের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় আলী আহমদ, জরিনা বেগম, রশিদ, হাফেজ ও জহুরুলও একই আক্ষেপ করেন। তারা বলেন, আমরা ত্রাণ বা সাহায্য চাই না। আমরা স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ চাই।

​উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সারোয়ার আলম বলেন, গত বছরও একইভাবে বহু ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হলেও ভাঙন রোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বিভিন্ন সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত নদী রক্ষা বাঁধ বা ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে শুধু বসতবাড়িই নয়, ঐতিহাসিক পাথরেরচর বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, মসজিদ, সড়ক ও খেলার মাঠও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

দেওয়ানগঞ্জ : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

​এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরেরচর ও গোয়ালকান্দা এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডে ইতোমধ্যে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ ও অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।

​জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেককে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। আমাদের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আশা করছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে খুব দ্রুতই ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি

আপডেট সময় ১১:২৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় গত কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

১৮ জুন, ​বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে নদীভাঙনের এই নির্মম চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরেরচর বাজারের পূর্ব পাশে এবং দক্ষিণ গোয়ালকান্দা গ্রামে নদীভাঙন মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে বিলীন হচ্ছে গরিব ও অসহায় মানুষের বসতভিটা। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পরিবারের ঘরবাড়ি। তীব্র ভাঙন-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীর তীরবর্তী শত শত মানুষ। অনেক বাড়িঘর এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে।

ভাঙনের শিকার তারা মিয়া জানান, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে মাত্র দুই দিনের মধ্যে তাদের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় আলী আহমদ, জরিনা বেগম, রশিদ, হাফেজ ও জহুরুলও একই আক্ষেপ করেন। তারা বলেন, আমরা ত্রাণ বা সাহায্য চাই না। আমরা স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ চাই।

​উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সারোয়ার আলম বলেন, গত বছরও একইভাবে বহু ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হলেও ভাঙন রোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বিভিন্ন সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত নদী রক্ষা বাঁধ বা ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে শুধু বসতবাড়িই নয়, ঐতিহাসিক পাথরেরচর বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, মসজিদ, সড়ক ও খেলার মাঠও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

দেওয়ানগঞ্জ : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

​এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরেরচর ও গোয়ালকান্দা এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডে ইতোমধ্যে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ ও অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।

​জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেককে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। আমাদের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আশা করছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে খুব দ্রুতই ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।