যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধায় পালিত হলো উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা এনজিও জগতের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব মরহুম সামছুল হুদার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ৭ জুলাই, মঙ্গলবার উন্নয়ন সংঘের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ডিটিআরসিতে দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন উন্নয়ন সংঘের নির্বাহী পরিচালক ফাহাদ মাহমুদ ইবনে হুদা। এতে অন্যান্যের মধ্যে উন্নয়ন সংঘের উপদেষ্টা মো. রফিকুল আলম মোল্লা, মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম, পরিচালক কর্মসূচি মুর্শেদ ইকবাল, এপি ম্যানেজার মিনারা পারভীন, স্ক্রিপ্ট প্রজেক্ট ম্যানেজার লিটন সরকার, এমএন্ডই ম্যানেজার রেজাউল করিম, এসএমপি ম্যানেজার শাহজাহান মিয়া, ডিটিআরসির আরএমও ফেরদৌস আলম, এইচআরডি নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব আরজু মিয়া, কল প্রকল্পের উপজেলা ম্যানেজার মাসুদ আলম, এফএফ মজনু মিয়া, চাইল্ড সিটির সুপারভাইজার মাজহারুল ইসলাম, অফিস সহায়ক রাধা রানী প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।
উন্নয়ন সংঘের সাবেক নির্বাহী পরিচালক বর্তমান উপদেষ্টা মো. রফিকুল আলম মোল্লা মরহুম সামছুল হুদার সাথে ৩৩ বছর একসাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি ছিলেন কর্মপাগল, নির্লোভ এবং কর্মীবান্ধব একজন মানুষ। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা পথ চলার চেষ্টা করি।
তিনি আরও বলেন, আজকে তার প্রতিষ্ঠিত সংস্থা উন্নয়ন সংঘের ছায়াতলে দাঁড়িয়ে লাখো মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকার পাচ্ছে। পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবিকায়ন, গৃহায়ন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, মানবাধিকার, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, আয়মুখী বিভিন্ন কার্যক্রমসহ টেকসই উন্নয়নে উন্নয়ন সংঘ নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।
স্মরণসভার আলোচনা শেষে প্রয়াত সামছুল হুদার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে উন্নয়ন সংঘের জামালপুরে কর্মরত কর্মীরা অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, প্রয়াত সামছুল হুদা ১৯৩৭ সালে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার বর্তমান শেরপুর জেলার বলাইরচর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র হিসাবে সাফল্যের সাথে অনার্স, মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা চাকরির অফার ফিরিয়ে দিতে বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যাকে দীর্ঘ দিন কাজ করেন। পরে বাংলাদেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনপদ জামালপুর জেলার দরিদ্র মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ব্রত নিয়ে ১৯৮০ সালে উন্নয়ন সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি বয়সের কথা বিবেচনা করে ২০১১ সালে দায়িত্ব থেকে স্ব ইচ্ছায় অব্যহতি নেন। ২০১৯ সালে ৭ জুলাই মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি সংস্থার উপদেষ্টা হিসাবে উন্নয়ন সংঘের ক্যাম্পাসেই অবস্থান করেন। মৃত্যুর পর তার কোন ব্যাংক ব্যালেন্স খুঁজে পাওয়া যায়নি। সারাজীবন তিনি মানবতা ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে কাজ করে গেছেন। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গেছেন।
প্রয়াত সামছুল হুদার স্ত্রী মুর্শেদা হুদা ছায়সঙ্গী হিসাবে তার ব্যক্তি জীবন ও উন্নয়ন সংঘের এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রেরণা যুগিয়েছেন।
প্রয়াত সামছুল হুদার বড় ছেলে অধ্যাপক ডা. মাহমুদ উল হুদা প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসাবে শুধু জামালপুর নয়, জেলার বাইরেও সুনাম ছড়াচ্ছেন। তিনি এখন জামালপুর মেডিকেল কলেজে অধ্যাপনার পাশাপাশি জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মেঝো ছেলে মাহবুব উল হুদা প্রকৌশলী। তিনি বর্তমানে স্বপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। একমাত্র মেয়ে সাবের হুদা এমবিএ করে দেশের সুনাম ধন্য প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবিতে কর্মরত।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 

















