ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আবৃত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জামালপুরের মারিয়া জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি জানালো দেওয়ানগঞ্জবাসী পুড়িয়ে হত্যা : আসামির মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ : আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড জামালপুরে বাল্যবিবাহ-শিশুশ্রম প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সঙ্গে এপির মতবিনিময় বীর মুক্তিযোদ্ধা বারী মণ্ডল আর নেই, তাঁর প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন জামালপুরে অংশীজনদের সাথে সমঝোতা স্মারক ও কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ বিএনপিনেতা জিএস ফিরোজ মিয়ার গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ সংসদ সদস্য শামীম তালুকদারের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল বকশীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু

পুড়িয়ে হত্যা : আসামির মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ : আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জামালপুর : মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামি রাজিব হোসেন জেলা হাজতে নিয়ে যায় জামালপুর কোর্ট পুলিশ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায়ে আসামি স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড ও মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার রায়ে একজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৭ জুন, বুধবার দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুানাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম দুটি মামলার রায় দেন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আলাল সেক (৫৩) দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামের মো. মজর উদ্দিনের ছেলে। অপর মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাজীব হোসেন (৩৮) একই উপজেলার বাঘারচর গ্রামের জসিজল হকের ছেলে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামে ২০০৮ সালের ২৬ মে রাত থেকে ২৭ মে সকালের মধ্যে কোন এক সময় আলাল সেক তার স্ত্রী নাইফুল বেগমকে যৌতুকের জন্য মারধর করে গুরুত্র আহত করেন। পরে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল খালেক বাদী হয়ে ২০০৮ সালের ৫ জুন আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় নয়জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ রায় ঘোষণা করেন বিচারক। আসামি আলাল সেক পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই রায় দেওয়া হয়। রায়ে আলাল সেককে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। মামলায় আসামি পক্ষে কোন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

অপরদিকে দশম শ্রেণির মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় রাজীব হোসেন নামের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন একই আদালত।

এই মামলা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, ২০১৫ সালের ৭ জুন গভীর রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘারচর গ্রামে ঘরের জানালা খুলে এক মাদরাসাছাত্রীর শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন প্রতিবেশী রাজীব হোসেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে তাকে জোর করে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর চিৎকারে পরিবার ও স্বজনেরা সেখানে গিয়ে রাজীব হোসেনকে হাতেনাতে আটক করেন। কিন্তু এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তিতে রাজিব হোসেন পালিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ১১ জুন দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ আসামি রাজীব হোসেনের উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এই মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান লিটন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আবৃত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জামালপুরের মারিয়া

পুড়িয়ে হত্যা : আসামির মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ : আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় ১০:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

জামালপুরে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায়ে আসামি স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড ও মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার রায়ে একজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৭ জুন, বুধবার দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুানাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম দুটি মামলার রায় দেন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আলাল সেক (৫৩) দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামের মো. মজর উদ্দিনের ছেলে। অপর মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাজীব হোসেন (৩৮) একই উপজেলার বাঘারচর গ্রামের জসিজল হকের ছেলে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামে ২০০৮ সালের ২৬ মে রাত থেকে ২৭ মে সকালের মধ্যে কোন এক সময় আলাল সেক তার স্ত্রী নাইফুল বেগমকে যৌতুকের জন্য মারধর করে গুরুত্র আহত করেন। পরে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল খালেক বাদী হয়ে ২০০৮ সালের ৫ জুন আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় নয়জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ রায় ঘোষণা করেন বিচারক। আসামি আলাল সেক পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই রায় দেওয়া হয়। রায়ে আলাল সেককে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। মামলায় আসামি পক্ষে কোন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

অপরদিকে দশম শ্রেণির মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় রাজীব হোসেন নামের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন একই আদালত।

এই মামলা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, ২০১৫ সালের ৭ জুন গভীর রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘারচর গ্রামে ঘরের জানালা খুলে এক মাদরাসাছাত্রীর শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন প্রতিবেশী রাজীব হোসেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে তাকে জোর করে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর চিৎকারে পরিবার ও স্বজনেরা সেখানে গিয়ে রাজীব হোসেনকে হাতেনাতে আটক করেন। কিন্তু এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তিতে রাজিব হোসেন পালিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ১১ জুন দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ আসামি রাজীব হোসেনের উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকার অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এই মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান লিটন।