ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যে স্মারকগ্রন্থে আবারও জীবন্ত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা-ছেলের মৃত্যু, দাদি আহত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামী নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে : ওয়ারেছ আলী মামুন ইসলামপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত জামালপুরে রাজিব বাসচাপায় অটোরিকশার চার যাত্রী নিহত, আহত ২০ শিশুবান্ধব সমাজ গঠনই হোক আমাদের অঙ্গীকার : সংসদ সদস্য মামুন মাদারগঞ্জে কেমিক্যালের ড্রাম কাটতে গিয়ে বিস্ফোরণ, ওয়েল্ডিং মিস্ত্রির মৃত্যু মাদারগঞ্জে কিশোরী রূপসী হত্যা : প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর অপহরণ করে ধর্ষণ, ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড

শেরপুরের চরাঞ্চলে ব্রিজ ও পাকা রাস্তা নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

শেরপুর : চরাঞ্চলে ব্রিজ ও পাকা রাস্তা নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন।ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুর সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের চারটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা স্থানীয় দশানী নদীর উপর ব্রিজসহ পাকা রাস্তা নির্মাণ এবং বিভিন্ন উন্নয়নের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে।

১৯ এপ্রিল, রবিবার দুপুরে শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের কামারের চর বাজার থেকে ৪ নম্বর চর পর্যন্ত বন্যামুক্ত উঁচু পাকা রাস্তা নির্মাণ, দশআনী নদীর উপর পাকা ব্রিজ নির্মাণ, গোয়ালপাড়া মোড় থেকে ৬ নম্বর চর তিন নদীর মোহনা হয়ে ভাটিপাড়া খেয়াঘাট পর্যন্ত বন্যামুক্ত পাকা রাস্তা নির্মাণ, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৬ নম্বর চর, গোয়ালপাড়া ও পয়াস্তিরচরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে এই মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দশানী নদীর পাড় থেকে কামারেরচর বাজার অভিমুখী সড়কের প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার শিশু ও অশীতিপর বৃদ্ধ এবং চরাঞ্চলের একমাত্র বাহন দুই শতাধিক ঘোড়ার গাড়ি অংশ নেয়।

এ সময় তারা পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, ব্যানারে চরাঞ্চলের বিভিন্ন দুর্ভোগ চিত্র ও উন্নয়ন দাবি তুলে ধরেন এবং ব্রিজ ও রাস্তাঘাটসহ নানা উন্নয়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।

কামারেরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নওয়াব আলীর সভাপতিত্বে দশানি নদীর পাড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক এ. কে. এম শরীফুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ, জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান কামাল, ঢাকা গণপূর্ত প্রকল্প সার্কেল-১ এর এর সহকারী প্রকৌশলী মো. সাফায়েত জামিল, প্রভাষক মো. শাহরিয়ার জামিল, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর সেকশন অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রভাষক শফিউল আলম, সার্জেন্ট (অব) মো. জহুরুল হক, এএসআই মো. আল আমিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

শেরপুর : চরাঞ্চলে ব্রিজ ও পাকা রাস্তা নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মানববন্ধনে কামারেরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নওয়াব আলী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বৃহত্তর চলাঞ্চলের মানুষ অবহেলিত হয়ে আসছে। বর্ষায় প্রায় ছয় মাস এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানির নীচে নিমজ্জিত থাকে। বাকি ছয় মাস ব্রিজ ও পাকা রাস্তা না থাকায় এই অঞ্চলের মানুষের কর্মক্ষেত্র ও স্কুল- কলেজে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পহাতে হয়। সেই সাথে এই অঞ্চলের কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য শহরের বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। শুধু তাই নয়, পণ্য পরিবহন ব্যয় অনেকাংশে বেড়ে যায়। ফলে কৃষক তার পণ্যের উৎপাদন খরচ উঠাতে হিমশিম খান।

তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের চার গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষসহ এই সড়কে পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার ইসলামপুর ও মেলান্দহ উপজেলার আংশিক কয়েকটি গ্রামের আরও প্রায় বিশ হাজার মানুষ এইসব পথে চলাচল করে। ফলে এই সড়ক পাকা করণ এবং ব্রিজ নির্মাণ অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত এই সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানান। অন্যথায় তারা পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন।

যে স্মারকগ্রন্থে আবারও জীবন্ত তিনি

শেরপুরের চরাঞ্চলে ব্রিজ ও পাকা রাস্তা নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় ১০:২১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

শেরপুর সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের চারটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা স্থানীয় দশানী নদীর উপর ব্রিজসহ পাকা রাস্তা নির্মাণ এবং বিভিন্ন উন্নয়নের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে।

১৯ এপ্রিল, রবিবার দুপুরে শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের কামারের চর বাজার থেকে ৪ নম্বর চর পর্যন্ত বন্যামুক্ত উঁচু পাকা রাস্তা নির্মাণ, দশআনী নদীর উপর পাকা ব্রিজ নির্মাণ, গোয়ালপাড়া মোড় থেকে ৬ নম্বর চর তিন নদীর মোহনা হয়ে ভাটিপাড়া খেয়াঘাট পর্যন্ত বন্যামুক্ত পাকা রাস্তা নির্মাণ, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৬ নম্বর চর, গোয়ালপাড়া ও পয়াস্তিরচরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে এই মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দশানী নদীর পাড় থেকে কামারেরচর বাজার অভিমুখী সড়কের প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার শিশু ও অশীতিপর বৃদ্ধ এবং চরাঞ্চলের একমাত্র বাহন দুই শতাধিক ঘোড়ার গাড়ি অংশ নেয়।

এ সময় তারা পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, ব্যানারে চরাঞ্চলের বিভিন্ন দুর্ভোগ চিত্র ও উন্নয়ন দাবি তুলে ধরেন এবং ব্রিজ ও রাস্তাঘাটসহ নানা উন্নয়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।

কামারেরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নওয়াব আলীর সভাপতিত্বে দশানি নদীর পাড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক এ. কে. এম শরীফুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ, জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান কামাল, ঢাকা গণপূর্ত প্রকল্প সার্কেল-১ এর এর সহকারী প্রকৌশলী মো. সাফায়েত জামিল, প্রভাষক মো. শাহরিয়ার জামিল, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর সেকশন অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রভাষক শফিউল আলম, সার্জেন্ট (অব) মো. জহুরুল হক, এএসআই মো. আল আমিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

শেরপুর : চরাঞ্চলে ব্রিজ ও পাকা রাস্তা নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মানববন্ধনে কামারেরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নওয়াব আলী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বৃহত্তর চলাঞ্চলের মানুষ অবহেলিত হয়ে আসছে। বর্ষায় প্রায় ছয় মাস এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানির নীচে নিমজ্জিত থাকে। বাকি ছয় মাস ব্রিজ ও পাকা রাস্তা না থাকায় এই অঞ্চলের মানুষের কর্মক্ষেত্র ও স্কুল- কলেজে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পহাতে হয়। সেই সাথে এই অঞ্চলের কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য শহরের বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। শুধু তাই নয়, পণ্য পরিবহন ব্যয় অনেকাংশে বেড়ে যায়। ফলে কৃষক তার পণ্যের উৎপাদন খরচ উঠাতে হিমশিম খান।

তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের চার গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষসহ এই সড়কে পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার ইসলামপুর ও মেলান্দহ উপজেলার আংশিক কয়েকটি গ্রামের আরও প্রায় বিশ হাজার মানুষ এইসব পথে চলাচল করে। ফলে এই সড়ক পাকা করণ এবং ব্রিজ নির্মাণ অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত এই সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানান। অন্যথায় তারা পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন।