জামালপুরের মাদারগঞ্জে স্থানীয় নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৫ মার্চ, রবিবার ও ১৬ মার্চ, সোমবার ব্র্যাকের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি, জামালপুরের উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার (দাবি) সেন্ট্রাল-২ মো. নজরুল ইসলাম। “চেনা হাতে অচেনা ফসল” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন ময়মনসিংহ হর্টিকালচার সেন্টারের মাশরুম বিশেষজ্ঞ সিহাবুন সাদিক।
কর্মশালার প্রথম দিনে অংশগ্রহণকারীদের মাশরুম চাষের আধুনিক পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় উপকরণ, রোগবালাই প্রতিরোধ এবং বাজারজাতকরণ নিয়ে তাত্ত্বিক প্রশিক্ণে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দিনে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা হাতে-কলমে মাশরুম চাষের বিভিন্ন কলাকৌশল শিখেছেন।
ময়মনসিংহ হর্টিকালচার সেন্টারের মাশরুম বিশেষজ্ঞ সিহাবুন সাদিক অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাশরুম উৎপাদনের সহজ, কার্যকর এবং লাভজনক একটি পদ্ধতি। স্বল্প ব্যয়ে অধিক লাভবান হওয়ূ সম্ভব। তিনি চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে জামালপুরের রিজিওনাল ম্যানেজার (দাবি) সিমসন হালদার, সেন্ট্রাল-২ এর ডিভিশনাল সেক্টর স্পেশালিস্ট (কৃষি ও বীমা ইউনিট) মো. রাশেদুজ্জামান, জামালপুরের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (কৃষি ও বীমা ইউনিট) এ. এস. এম মাহবুবুল আলম, মাদারগঞ্জের এলাকা ব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম এবং শাখা ব্যবস্থাপক মো. মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার (দাবি) নজরুল ইসলাম বলেন, মাশরুম শুধুমাত্র পুষ্টিকর খাদ্য নয়, এটি নারীদের জন্য একটি লাভজনক আয়ের উৎস। স্বল্প জায়গায়, কম খরচে এবং অল্প সময়ে মাশরুম চাষ করে পরিবারের আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব।
অংশগ্রহণকারী নারীরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তারা ভবিষ্যতে মাশরুম চাষকে একটি স্থায়ী আয়ের উৎস হিসাবে গ্রহণ করতে আগ্রহী।
আয়োজকেরা জানান, এ এলাকার মাটি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সচেতনতার অভাবে মাশরুমের মত উচ্চমূল্যের ফসল এখনও তেমনভাবে চাষ হয়নি। ব্র্যাকের ক্রেডিট প্লাস কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে মাশরুম চাষের জন্য প্রয়োজনীয় কিট ও নির্দেশিকা বিতরণ করা হয়। প্রশিক্ষণে মোট ৩৬ জন নারী সদস্য অংশ নেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলারচিঠিডটকম 



















