ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেওয়ানগঞ্জে অসময়ে নদী ভাঙনে বিলীন ফসলি জমি বসতবাড়ি সড়ক

দেওয়ানগঞ্জ : চিকাজানি ইউনিয়নের যমুনা নদীভাঙন কবলিত কেশোর মোড় এলাকা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় অসময়ে যমুনা নদী ভাঙনে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গ্রাম গ্রাস করছে। ধান, মরিচ, বাদাম, সবজিসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসলের কয়েকশ’ হেক্টর জমি ও বসতবাড়ি ও খোলাবাড়ি দেওয়ানগঞ্জ প্রধান সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি গ্রাম। দিশাহারা হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষ।

ঝুঁকিতে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরাবাদ নৌ-থানাসহ মাদরাসা, মসজিদ, হাট-বাজার, ব্রিজ ও কয়েক হাজার বসতভিটা। যেভাবে যমুনায় ভাঙন দেখা দিয়েছে তাতে চিকাজানি ইউনিয়নের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার চিকাজানি ইউনিয়নের যমুনা নদী গত ৩০ বছরে ইউনিয়টির ১০ কিলোমিটারের বেশি ভূখণ্ড ভেঙে ফেলেছে। ভাঙনের খেলায় থেমে নেই ব্রহ্মপুত্র। ৩৪.৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ইউনিয়নটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড এখন নদীতে। স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা না করার ফলেই পুরো ইউনিয়নটি যমুনায় বিলীন হতে যাচ্ছে।

ইউনিয়নবাসীর চলাচলের একমাত্র পাকা সড়কটির হুদার মোড় এলাকা অংশ বিশেষ যমুনায় চলে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ফসলি জমির মধ্য দিয়ে চলাচল করত কয়েকটি গ্রামের মানুষসহ নৌ-থানা পুলিশ।

নদীভাঙন এলাকার মাসুদ আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, গত ত্রিশ বছরে যমুনা নদীতে বিলিন হয়েছে খোলাবাড়ি, চর ডাকাতিয়া, চর মাগুরিহাট পশ্চিমপাড়া, চর মাগুরিহাট আদর্শ গ্রাম। ২০ একর জমিতে গড়ে উঠেছিল আদর্শগ্রামটি, তিন থোবা, পাগলার চর, খাটিয়ামাড়ি, হুদার মোড় এলাকা।

২৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে চিকাজানী ইউনিয়নের কেশোর মোড়, চর ডাকাতিয়াপাড়া, মন্ডল বাজার, বাহাদুরাবাদ নৌ-থানা, খানপাড়া, বড়খাল, মাঝিপাড়া, পলাশপুর গ্রাম। এ ছাড়া হুমকিতে আছে কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হরিণধরা বাঁধের প্রায় সাত কিলোমিটার ও দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, খোলাবাড়ি চর মাগুরিহাট কমিউনিটি ক্লিনিক, চর মাগুরিহাট সড়কের উপর নির্মিত একটি সেতু।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবিনা খাতুন বলেন, ফসলি জমি সব নদীতে গেছে। নদী ঘরের কোনায় এসেছে। যেকোনো সময় ভিটে ভেঙে নিয়ে যাবে। এরপর কোথায় গিয়ে বসবাস করব দুশ্চিন্তায় দিনরাত কাটছে।

খোলাবাড়ী গ্রামের সোনা মিয়া বলেন, এক সময় শুধু বর্ষা মৌসুমেই নদী ভাঙন ছিল। এখন সারা বছর নদী ভাঙছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থায়ী নদী শাসন ব্যাবস্থা না করা হলে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যেই চিকাজানি ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

দেওয়ানগঞ্জ : চিকাজানী ইউনিয়নের যমুনা নদীভাঙন কবলিত কেশোর মোড় এলাকা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

চিকাজানী ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম আক্কাস এ প্রতিবেদককে বলেন. ইউনিয়নবাসীর চলাচলের একমাত্র পাকা সড়কটির প্রায় এক হাজার ফুট সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওওয়া ফলে জনসাধারণ ও পুলিশ বিভাগের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়াও সড়কটি ভাঙার কারণে পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার সঙ্গে নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, যমুনা নদীর ভাঙন বিষয়ে জেলায় অবহতিকরণ করা হয়েছে। নদীপাড়ের গভীরতা ২০-২৫ মিটারের বেশি। ভাঙন রোধে বড় প্রকল্পের প্রয়োজন। অস্থায়ী ভাঙন রোধ করতে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিগগির প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান এ প্রতিবেদককে বলেন, চিকাজানি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন অস্থায়ীভাবে রোধ করতে ৮০০ মিটার জিও ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্পের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন হলে কাজ শুরু করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেওয়ানগঞ্জে অসময়ে নদী ভাঙনে বিলীন ফসলি জমি বসতবাড়ি সড়ক

আপডেট সময় ০৯:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় অসময়ে যমুনা নদী ভাঙনে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গ্রাম গ্রাস করছে। ধান, মরিচ, বাদাম, সবজিসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসলের কয়েকশ’ হেক্টর জমি ও বসতবাড়ি ও খোলাবাড়ি দেওয়ানগঞ্জ প্রধান সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি গ্রাম। দিশাহারা হয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষ।

ঝুঁকিতে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরাবাদ নৌ-থানাসহ মাদরাসা, মসজিদ, হাট-বাজার, ব্রিজ ও কয়েক হাজার বসতভিটা। যেভাবে যমুনায় ভাঙন দেখা দিয়েছে তাতে চিকাজানি ইউনিয়নের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার চিকাজানি ইউনিয়নের যমুনা নদী গত ৩০ বছরে ইউনিয়টির ১০ কিলোমিটারের বেশি ভূখণ্ড ভেঙে ফেলেছে। ভাঙনের খেলায় থেমে নেই ব্রহ্মপুত্র। ৩৪.৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ইউনিয়নটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড এখন নদীতে। স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা না করার ফলেই পুরো ইউনিয়নটি যমুনায় বিলীন হতে যাচ্ছে।

ইউনিয়নবাসীর চলাচলের একমাত্র পাকা সড়কটির হুদার মোড় এলাকা অংশ বিশেষ যমুনায় চলে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ফসলি জমির মধ্য দিয়ে চলাচল করত কয়েকটি গ্রামের মানুষসহ নৌ-থানা পুলিশ।

নদীভাঙন এলাকার মাসুদ আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, গত ত্রিশ বছরে যমুনা নদীতে বিলিন হয়েছে খোলাবাড়ি, চর ডাকাতিয়া, চর মাগুরিহাট পশ্চিমপাড়া, চর মাগুরিহাট আদর্শ গ্রাম। ২০ একর জমিতে গড়ে উঠেছিল আদর্শগ্রামটি, তিন থোবা, পাগলার চর, খাটিয়ামাড়ি, হুদার মোড় এলাকা।

২৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে চিকাজানী ইউনিয়নের কেশোর মোড়, চর ডাকাতিয়াপাড়া, মন্ডল বাজার, বাহাদুরাবাদ নৌ-থানা, খানপাড়া, বড়খাল, মাঝিপাড়া, পলাশপুর গ্রাম। এ ছাড়া হুমকিতে আছে কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হরিণধরা বাঁধের প্রায় সাত কিলোমিটার ও দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, খোলাবাড়ি চর মাগুরিহাট কমিউনিটি ক্লিনিক, চর মাগুরিহাট সড়কের উপর নির্মিত একটি সেতু।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবিনা খাতুন বলেন, ফসলি জমি সব নদীতে গেছে। নদী ঘরের কোনায় এসেছে। যেকোনো সময় ভিটে ভেঙে নিয়ে যাবে। এরপর কোথায় গিয়ে বসবাস করব দুশ্চিন্তায় দিনরাত কাটছে।

খোলাবাড়ী গ্রামের সোনা মিয়া বলেন, এক সময় শুধু বর্ষা মৌসুমেই নদী ভাঙন ছিল। এখন সারা বছর নদী ভাঙছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থায়ী নদী শাসন ব্যাবস্থা না করা হলে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যেই চিকাজানি ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

দেওয়ানগঞ্জ : চিকাজানী ইউনিয়নের যমুনা নদীভাঙন কবলিত কেশোর মোড় এলাকা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

চিকাজানী ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম আক্কাস এ প্রতিবেদককে বলেন. ইউনিয়নবাসীর চলাচলের একমাত্র পাকা সড়কটির প্রায় এক হাজার ফুট সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওওয়া ফলে জনসাধারণ ও পুলিশ বিভাগের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়াও সড়কটি ভাঙার কারণে পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার সঙ্গে নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, যমুনা নদীর ভাঙন বিষয়ে জেলায় অবহতিকরণ করা হয়েছে। নদীপাড়ের গভীরতা ২০-২৫ মিটারের বেশি। ভাঙন রোধে বড় প্রকল্পের প্রয়োজন। অস্থায়ী ভাঙন রোধ করতে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিগগির প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান এ প্রতিবেদককে বলেন, চিকাজানি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন অস্থায়ীভাবে রোধ করতে ৮০০ মিটার জিও ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্পের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন হলে কাজ শুরু করা হবে।