ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মাদারগঞ্জে শসা-ক্ষীরা চাষে ভাগ্য ফিরছে চরাঞ্চলের চাষিদের

মাদারগঞ্জ : চরাঞ্চলে শসা- ক্ষীরা তোলার কাজে ব্যস্ত একজন চাষি। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলে এবার শসা ও ক্ষীরার আশাতীত ফলন হয়েছে। কম খরচ ও স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় শসা-ক্ষীরা চাষে ঝুঁকছেন এই উপজেলার চাষিরা। বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। গত বছরের লোকসান কাটিয়ে কৃষকেরা এবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন। ফলে বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১০ হেক্টর বেশি। এছাড়াও তিন হেক্টর জমিতে ক্ষীরা চাষ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও হয়েছে সন্তোষজনক। উৎপাদিত শসা-ক্ষীরা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা ও ক্ষীরা বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চরপাকেরদহ, বালিজুড়ী, জোড়খালী ও সিধুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপকভাবে শসা চাষ হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষীরার চাষও করেছেন চাষিরা। চাষিরা শসা ও ক্ষীরা গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ গাছে কীটনাশক স্প্রে করছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ পরিপক্ব শসা ও ক্ষীরা সংগ্রহ করছেন।

নব্যচর এলাকার কৃষক চান মিয়া বলেন, এ বছর ৩৩ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করেছি। বাজারে দাম ভালো থাকায় খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হবে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ হাজার টাকার শসা বিক্রি করেছি।

মাদারগঞ্জ : চরাঞ্চলে এবার ব্যাপক শসা-ক্ষীরার আবাদ হয়েছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুখনগরী এলাকার ক্ষীরা চাষি আব্দুল খালেক বলেন, ২৫ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে ক্ষীরা চাষ করেছি। ভালো ফলন হয়েছে। রমজানের বাজারে ক্ষীরার ভালো চাহিদা আছে। বাজারদর ভালো থাকায় তিনি লাভের আশা করছেন।
ফুলজোড় এলাকার কৃষক তাজুল ইসলাম জানান, পাইকারদের কাছে প্রতি মণ শসা ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন। পাইকাররা প্রতিদিন ট্রাকে করে শসা নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকায়। শসা চাষ করে অনেক চাষি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন শসা ও ক্ষীরার উৎপাদন হয়েছে। চাষিরা আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শসা-ক্ষীরার আবাদ করছেন। এতে জমির আর্দ্রতা ধরে রাখা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ এবং সার ব্যবহারে সাশ্রয় হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমেছে। ফলনও হচ্ছে ভালো। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন শসা ও ক্ষীরা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা থেকে প্রতিদিন শসাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি দেশের বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ মেট্রিকটন শসা ও ক্ষীরা স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। শসার পাশাপাশি ক্ষীরা চাষেও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে তারা বৈচিত্র্যময় সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে আরও বেশি আয় করতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুকুরে ডুবে শিশু আলিফের মৃত্যু

মাদারগঞ্জে শসা-ক্ষীরা চাষে ভাগ্য ফিরছে চরাঞ্চলের চাষিদের

আপডেট সময় ১০:২২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলে এবার শসা ও ক্ষীরার আশাতীত ফলন হয়েছে। কম খরচ ও স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় শসা-ক্ষীরা চাষে ঝুঁকছেন এই উপজেলার চাষিরা। বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। গত বছরের লোকসান কাটিয়ে কৃষকেরা এবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন। ফলে বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১০ হেক্টর বেশি। এছাড়াও তিন হেক্টর জমিতে ক্ষীরা চাষ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও হয়েছে সন্তোষজনক। উৎপাদিত শসা-ক্ষীরা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা ও ক্ষীরা বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চরপাকেরদহ, বালিজুড়ী, জোড়খালী ও সিধুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপকভাবে শসা চাষ হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষীরার চাষও করেছেন চাষিরা। চাষিরা শসা ও ক্ষীরা গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ গাছে কীটনাশক স্প্রে করছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ পরিপক্ব শসা ও ক্ষীরা সংগ্রহ করছেন।

নব্যচর এলাকার কৃষক চান মিয়া বলেন, এ বছর ৩৩ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করেছি। বাজারে দাম ভালো থাকায় খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হবে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ হাজার টাকার শসা বিক্রি করেছি।

মাদারগঞ্জ : চরাঞ্চলে এবার ব্যাপক শসা-ক্ষীরার আবাদ হয়েছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুখনগরী এলাকার ক্ষীরা চাষি আব্দুল খালেক বলেন, ২৫ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে ক্ষীরা চাষ করেছি। ভালো ফলন হয়েছে। রমজানের বাজারে ক্ষীরার ভালো চাহিদা আছে। বাজারদর ভালো থাকায় তিনি লাভের আশা করছেন।
ফুলজোড় এলাকার কৃষক তাজুল ইসলাম জানান, পাইকারদের কাছে প্রতি মণ শসা ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন। পাইকাররা প্রতিদিন ট্রাকে করে শসা নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকায়। শসা চাষ করে অনেক চাষি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন শসা ও ক্ষীরার উৎপাদন হয়েছে। চাষিরা আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শসা-ক্ষীরার আবাদ করছেন। এতে জমির আর্দ্রতা ধরে রাখা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ এবং সার ব্যবহারে সাশ্রয় হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমেছে। ফলনও হচ্ছে ভালো। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন শসা ও ক্ষীরা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা থেকে প্রতিদিন শসাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি দেশের বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ মেট্রিকটন শসা ও ক্ষীরা স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। শসার পাশাপাশি ক্ষীরা চাষেও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে তারা বৈচিত্র্যময় সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে আরও বেশি আয় করতে পারেন।