জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় রুবিনা আক্তার বন্যা (২৭) নামের এক গৃহবধূকে গলা ও হাত কেটে করে হত্যার করার অভিযোগ উঠেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের উত্তর জোড়খালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের গৃহবধূর মামা সোহেলকে ১৩ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। ১৪ ফেব্রুয়ারি, শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
নিহতের স্বজনেরা জানান, বন্যা ছোটবেলা থেকেই তার নানাবাড়ি উত্তর জোড়খালী এলাকায় বাস করতেন। প্রথমে তার চাচাত ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়। একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। প্রায় তিন মাস আগে বন্যার বিয়ে হয় মেলান্দহ উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও মালয়েশিয়া ফেরত সুমন মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের পর তাদের সংসার ভালই চলছিল।
স্বজনদের মতে, সম্প্রতি বন্যা জানতে পারেন যে তার স্বামী সুমন মিয়া প্রবাসে যেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এ সময়ে তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি জানার পর বন্যা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। স্বামীকে অটোরিকশা কিনতে নিষেধ করেন। কিন্তু সুমন তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। এতে বন্যা আরও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
ঘটনার আগের রাতে বন্যার মামা, খালা ও নানি তাকে বোঝান যে জীবিকার জন্য কাজ করায় কোন অসম্মান নেই। পরে সবাই তাকে সান্ত্বনা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে পরিবারের সকলেই ভোট কেন্দ্রে গেলে বন্যা বাড়িতে একা ছিলেন। বাড়ি ফিরে তার মামা সোহেল ঘরের ভেতর অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান। পরে দরজা খুলে রক্তাক্ত অবস্থায় বন্যাকে দেখতে পান। দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।
স্বজনরা আরও জানান, গত ২০-২৫ দিন ধরে বন্যা মাথাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তার চিকিৎসাও চলছিল।
স্বজরদের দাবি, বন্যার মামা হত্যাকান্ডের মত এমন কাজ করতে পারেন না। তিনি বন্যাকে নিজের মেয়ের মত দেখতেন।
নিহতের স্বামী সুমন মিয়া বলেন, তিনি অটোরিকশা চালাতে পারেন না। কোন অটোরিকশা কেনেননি। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর সংসারে সুখের মুখ দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু এ ঘটনায় তিনি ভেঙে পড়েছেন। তিনি দাবি করেন, যদি এটি হত্যাকাণন্ড হয় তবে দোষীদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হোক। আর যদি আত্মহত্যা হয়, তবে তার কোন দাবি নেই। বন্যার অসুস্থতার কথা স্বীকার করে সুমন মিয়া বলেন, সে একটু অসুস্থ ছিল, তবে এতটা নয় যে আত্মহত্যা করতে পারে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা নয়। বরং হত্যাকান্ড। ঘরের দরজা ভাঙা ছাড়া বাইরে থেকে খোলা সম্ভব নয়। ঘটনাস্থলে দরজা ভাঙার কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। গলা ও হাতে কাটার গভীরতা পর্যালোচনা করে এটি হত্যাকান্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহভাজন হিসাবে নিহতের মামা সোহেলকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহত গৃহবধূ বন্যার স্বামী ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলমান রয়েছে।
খাদেমুল ইসলাম : নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 



















