ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জামালপুরে ৫টি সংসদীয় আসনের ৩০ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী তার পছন্দের প্রতীক না পাওয়ায় তিনি প্রতীক গ্রহণ করেননি।
২১ জানুয়ারি, বুধবার সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সভাকক্ষে প্রতীক বরাদ্দের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় জামালপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রার্থী ও তাদের এজেন্টগণ উপস্থিত ছিলেন। শুরুতেই নির্বাচনী আচরণবিধি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
এ সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, লেফটেনেন্ট কর্নেল আশরাফ ফেরদৌস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক বক্তব্য রাখেন। আচরণবিধি ভঙ্গ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন। পরে পাঁচটি সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন দলের ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
প্রতীক প্রাপ্ত প্রার্থীরা হলেন- জামালপুর- ১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে বিএনপির এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ধানের শীষ, জামায়াতের মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী দাড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুর রউফ তালুকদার হাতপাখা, জাতীয় পার্টির এ. কে. এম ফজলুল হক লাঙল।
জামালপুর- ২ (ইসলামপুর) আসনে বিএনপির এ. ই সুলতান মাহমুদ বাবু ধানের শীষ, জামায়াতের মো. ছামিউল হক ফারুকী (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুলতান মাহমুদ সিরাজী হাতপাখা।
জামালপুর- ৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে বিএনপির মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ধানের শীষ, জামায়াতের মো. মজিবুর রহমান আজাদী দাড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির মীর সামসুল আলম লিপটন লাঙল, গণসংহতি আন্দোলনের ফিদেল নঈম মাথাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ দৌলতুজ্জামান আনছারী হাতপাখা, গণঅধিকার পরিষদের লিটন মিয়া ট্রাক, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারজানা ফরিদ ফুটবল, স্বতন্ত্র হিসাবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ কাপ-পিরিচ, স্বতন্ত্র প্রার্থী শিবলুল বারী রাজু (সূর্যমুখী ফুল)।
জামালপুর- ৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে বিএনপির মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার ধানের শীষ, জামায়াতের মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল দাড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আলী আকবর হাতপাখা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির মো. মাহবুব জামান জুয়েল কাস্তে, গণঅধিকার পরিষদের মো. ইকবাল হোসেন ট্রাক, নাগরিক ঐক্যের মো. কবির হাসান কেতলি।

জামালপুর- ৫ (সদর) আসনে বিএনপির শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন ধানের শীষ, জামায়াতের মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার দাড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৈয়দ ইউনুছ আহাম্মদ হাতপাখা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির শেখ মো. আক্কাস আলী কাস্তে, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম ডাব, জাতীয় পার্টি-জেপির মো. বাবর আলী খান বাইসাইকেল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির মো. আমির উদ্দিন তারা, গণঅধিকার পরিষদের জাকির হোসেন ট্রাক। প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকার করেন প্রার্থীরা।
জামালপুর- ২ (ইসলামপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্নব ওয়ারেস খান প্রতীক হিসেবে বাঘ মার্কা দাবি করেন। কিন্তু বাঘ প্রতীক নিয়ে আইনগত জটিলতার কারণে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্য কোন প্রতীক পছন্দ করতে বললে স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্নব ওয়ারেছ খান বাঘ মার্কা ছাড়া অন্য কোন প্রতীক গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। পছন্দের প্রতীক না পাওয়ায় অন্য কোন প্রতীক তিনি গ্রহণ করেননি।
এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্নব ওয়ারেস খান বলেন, বাঘ প্রতীক চেয়েছি, কিন্তু আমাকে দেয়া হয়নি। বাঘ প্রতীক না পেলে আমি নির্বাচন করব না। আমি এখনও অপেক্ষায় আছি।
এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক বলেন, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বাঘ ব্যাতীত অন্যকোন প্রতীক গ্রহণ করবেন না। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যে আদেশ দিবেন সেভাবেই প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, বৈধ প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। আচরণবিধি ও কিভাবে প্রচার-প্রচারণা করবে তা প্রার্থীদেরকে অবহিত করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে সাত উপজেলায় দু’জন করে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি পাঁচটি আসনে পাঁচজন দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে প্রতিদিন আমাদের টিম মাঠে কাজ করবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, আনসারসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহীনির সদস্যরা কাজ করবেন।
আসমাউল আসিফ : নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম 



















