ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নকলায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম

নকলা : শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর আলম। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

পৌষের হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশায় যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন নিভৃতপল্লীর অসহায় মানুষের দুয়ারে উষ্ণতার বার্তা নিয়ে হাজির হলেন শেরপুরের নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম। দিনে ও রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে তিনি নিজে হাতে শীতার্তদের গায়ে কম্বল মুড়িয়ে দেন।

দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে যখন সবাই ঘরের উষ্ণতায় নিরাপদ, ঠিক তখন এই সরকারি কর্মকর্তা বেরিয়ে পড়েন এক অন্যরকম মিশনে। উদ্দেশ্য- প্রচণ্ড শীতে কষ্ট পাওয়া ছিন্নমূল, বয়োবৃদ্ধ এবং প্রতিবন্ধী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আশ্রয়নের ঘরে থাকা অসহায় ও ভবঘুরে থেকে শুরু করে জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে থাকা বৃদ্ধা-কেউই বাদ যাননি তার এই মানবিক দৃষ্টি থেকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চরবসন্তী গুচ্ছগ্রাম, দেবুয়ারচর, পাঠাকাটার বিভিন্ন আশ্রয়ন, টালকি পশ্চিম, সাইলামপুর, রুনিগাও, গৌড়দ্বার বাজার, পিছলাকুড়ি, দরপট, ধামনা, সিংগুয়া, ধনাকুশা ধনারপাড়, বিহারীরপাড়, মেদিরপাড়, গনপদ্দী আশ্রয়ন, মোজারবাজার প্রভৃতি স্থান এবং পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তার পাশে বা খোলা বারান্দায় শুয়ে থাকা মানুষদের ঘুম ভাঙিয়ে পরম মমতায় কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছেন ইউএনও। হঠাৎ মাঝরাতে সরকারি কর্মকর্তাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লæত হয়ে পড়েন অনেক অসহায় মানুষ।

নকলা : ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর আলম অন্যান্যদের সাথে কম্বল হাতে শীতার্ত কয়েকজন নারী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নকলা পৌরসভা এলাকার সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা আবেগের সাথে বলেন, বাপরে, এই জাড়ের (শীতের) মধ্যে কেউ আমগরে খোঁজ নেয় না। সাহেব আইসা নিজের হাতে কম্বলটা গায়ে দিয়া দিলো, অহন একটু শান্তিতে ঘুমাইতে পারমু।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব। এই তীব্র শীতে অনেক মানুষ কষ্টে আছেন। মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রাপ্ত কম্বল ইতিমধ্যে সকল ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। সেজন্য সামর্থ্যবান প্রতিটি মানুষকে উদ্যোগী হয়ে শীতার্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিৎ। আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে যাতে উপজেলার কোনো মানুষ শীতে কষ্ট না পায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

নকলায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম

আপডেট সময় ১০:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

পৌষের হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশায় যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন নিভৃতপল্লীর অসহায় মানুষের দুয়ারে উষ্ণতার বার্তা নিয়ে হাজির হলেন শেরপুরের নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম। দিনে ও রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে তিনি নিজে হাতে শীতার্তদের গায়ে কম্বল মুড়িয়ে দেন।

দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে যখন সবাই ঘরের উষ্ণতায় নিরাপদ, ঠিক তখন এই সরকারি কর্মকর্তা বেরিয়ে পড়েন এক অন্যরকম মিশনে। উদ্দেশ্য- প্রচণ্ড শীতে কষ্ট পাওয়া ছিন্নমূল, বয়োবৃদ্ধ এবং প্রতিবন্ধী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আশ্রয়নের ঘরে থাকা অসহায় ও ভবঘুরে থেকে শুরু করে জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে থাকা বৃদ্ধা-কেউই বাদ যাননি তার এই মানবিক দৃষ্টি থেকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চরবসন্তী গুচ্ছগ্রাম, দেবুয়ারচর, পাঠাকাটার বিভিন্ন আশ্রয়ন, টালকি পশ্চিম, সাইলামপুর, রুনিগাও, গৌড়দ্বার বাজার, পিছলাকুড়ি, দরপট, ধামনা, সিংগুয়া, ধনাকুশা ধনারপাড়, বিহারীরপাড়, মেদিরপাড়, গনপদ্দী আশ্রয়ন, মোজারবাজার প্রভৃতি স্থান এবং পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তার পাশে বা খোলা বারান্দায় শুয়ে থাকা মানুষদের ঘুম ভাঙিয়ে পরম মমতায় কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছেন ইউএনও। হঠাৎ মাঝরাতে সরকারি কর্মকর্তাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লæত হয়ে পড়েন অনেক অসহায় মানুষ।

নকলা : ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর আলম অন্যান্যদের সাথে কম্বল হাতে শীতার্ত কয়েকজন নারী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নকলা পৌরসভা এলাকার সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা আবেগের সাথে বলেন, বাপরে, এই জাড়ের (শীতের) মধ্যে কেউ আমগরে খোঁজ নেয় না। সাহেব আইসা নিজের হাতে কম্বলটা গায়ে দিয়া দিলো, অহন একটু শান্তিতে ঘুমাইতে পারমু।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব। এই তীব্র শীতে অনেক মানুষ কষ্টে আছেন। মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রাপ্ত কম্বল ইতিমধ্যে সকল ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। সেজন্য সামর্থ্যবান প্রতিটি মানুষকে উদ্যোগী হয়ে শীতার্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিৎ। আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে যাতে উপজেলার কোনো মানুষ শীতে কষ্ট না পায়।