জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় দশানী নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পড়েছে সাজেলের চর বাজার ও তিনটি উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র সেতু।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নে ডাকপাড়া, টেংরাকুড়া গ্রামের নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের মানুষ চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কৃষকদের বছরে একমাত্র অবলম্বন ফসলি জমিও একের পর এক নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে। বসতবাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হুমকির মধ্য রয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের সাজেলেরচর বাজার সংলগ্ন নদী তীরবর্তী মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্ক নেমে এসেছে। দশানী নদীর অব্যাহত ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে ঐতিহ্যবাহী সাজেলেরচর বাজার, সংযোগ সড়ক এবং নদী তীরবর্তী বহু বসতবাড়ি।
এছাড়াও বাজার ভেদ করে তিনটি উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র সংযোগ সেতুটির এপ্রোচের মাটি সরে গিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিসহ প্রতিনিয়তই চলাচলে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে সেতু ভেঙে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুতে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলে ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

ব্যবসায়ী কালাম মিয়া বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই সড়কে চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এতে কর্মহীন হয়ে যাব। স্থানীয় শিক্ষক মো. শাহিন ইসলাম বলেন, নদী ভাঙন এভাবে চলতে থাকলে আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও হুমকির মুখে পড়বে। দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হবে।
স্থানীয় ও জন প্রতিনিধিরা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দশানী নদীর ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এখনও স্থায়ীভাবে নদী সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ ও সেতুটি সংস্কার না হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে যাবে। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এই বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. জুবায়ের এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
লিয়াকত হোসাইন লায়ন : নিজস্ব প্রতিবেদক, ইসলামপুর, বাংলারচিঠিডটকম 


















