ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে : প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত আবদুল্লাহ আল-হারুন : জার্মানিতে বাসরত বহুমুখী প্রতিভাধর বাংলাভাষী লেখক সড়ক সংস্কার করে দিলেন ফাহাদ হোসেন রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করার সক্ষমতা রাখে না সেই সরকার দেশ পরিবর্তন করবে কীভাবে : নাহিদ দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি সরকারের স্বচ্ছতার নিদর্শন : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মাদারগঞ্জে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে একজনের কারাদণ্ড

জামালপুরে গৃহকর্মীদের মানবাধিকার ও জীবন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

জামালপুর : গৃহকর্মীদের মানবাধিকার ও জীবন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে বক্তব্য রাখেন গৃহকর্মী উন্নয়ন প্লাটফরমের সদস্য জাকিলা বেগম। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মানুষ ও পেশার মর্যাদা প্রদানসহ গৃহকর্মীদের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং তাদের জীবন দক্ষতা উন্নয়নে জামালপুরে এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। বিএসআরএম এর অর্থ সহায়তায় উন্নয়ন সংঘের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন স্ক্রিপ্ট প্রকল্পের উদ্যোগে ২২ ডিসেম্বর, সোমবার উন্নয়ন সংঘের ডিটিআরসিতে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণে মুখ্য আলোচক ছিলেন জেলা হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম। প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন উন্নয়ন সংঘের স্ক্রিপ্ট প্রকল্পের ব্যবস্থাপক লিটন সরকার ও সংস্থার মনিটরিং ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম। সভায় সমাপনী বক্তব্য রাখেন গৃহকর্মী উন্নয়ন প্লাটফরমের সদস্য জাকিলা বেগম।

প্রশিক্ষণে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫ আলোকে আলোচনা করতে গিয়ে জাহাঙ্গীর সেলিম নীতিমালার ধারা উল্লেখ করেন বলেন, গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫’ প্রণয়ন করেছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশের গৃহশ্রমিকেরা তাদের কাজের জন্য সরকারি স্বীকৃতি পাবেন।

তিনি বলেন, ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫’ বাংলাদেশ সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক নীতিমালা যা চাকর বা চাকরানি অর্থাৎ গৃহকর্মী বা গৃহভৃত্যের জন্য প্রযোজ্য। এই নীতিমালা ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ২১ ডিসেম্বর তারিখে অনুমোদিত ও গৃহীত হয়। ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ৪ জানুয়ারি তারিখে একটি সরকারি গেজেটে এই নীতি প্রকাশ করা হয়। এ নীতির মাধ্যমে দেশের প্রায় ২৫ লাখেরও (তথ্যমতে) বেশি গৃহকর্মীর মানবাধিকার ও শ্রমাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাছাড়াও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা কর্তৃক গৃহীত গৃহকর্মী সম্পকিত কনভেনশন-১৮৯ অনুসমর্থনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া এটি একটি পদক্ষেপ।

জাহাঙ্গীর সেলিম নীতিমালার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শ্রম আইনের আলোকে প্রণীত এই নীতিতে গৃহপরিচারিকাদের শ্রমিক হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সুরক্ষা, কল্যাণ, অবকাশ, বিনোদন, ছুটিসহ তাঁদের সুষ্ঠু ও মর্যাদাসম্পন্ন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ১৪ বছরের নীচে গৃহপরিচারিকাদের হালকা কাজের জন্যে ও এবং ১৮ বছরের কম বয়সী গৃহপরিচারিকাদের ভারি কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

নিয়োগকারী/গৃহকর্তা এবং গৃহকর্মীর সাথে আলোচনার ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে গৃহকর্মীর মজুরি পরিশোধ করতে হবে।নিয়োগকারীকে গৃহকর্মীর কর্মঘণ্টা অনুযায়ী তার ঘুম ও বিশ্রামের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত স্থান নিশ্চিতকরণ এবং চিত্তবিনোদন ও ছুটির ব্যবস্থা করতে হবে। গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রীর অনুমতি নিয়ে গৃহকর্মী স্ববেতনে ছুটি ভোগ করতে পারবেন। সন্তানসম্ভবার ক্ষেত্রে ১৬ সপ্তাহ স্ববেতনে মাতৃত্ব ছুটি ভোগ করতে পারবেন। কোনক্রমেই গৃহকর্মীর প্রতি কোন ধরনের অশালীন আচরণ বা দৈহিক আঘাত, যৌন নিগ্রহ অথবা মানসিক নির্যাতন করা যাবে না।

কর্মক্ষেত্রে গৃহকর্মীর কোনো ক্ষতি হলে মালিককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কোনো গৃহকর্মী শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হলে তিনি সরকারি ব্যয়ে আইনি সহায়তা পাবেন। কর্মক্ষেত্রে অসুস্থ হলে নিয়োগদাতাকে চিকিৎসার খরচ দিতে হবে। গৃহকর্মী কোনোভাবেই কর্মরত পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি বা বৃদ্ধদের উপর নির্যাতন, অবহেলা বা পীড়াদায়ক আচরণ করতে পারবেন না। চাকরি থেকে অপসারণের ক্ষেত্রে একমাস আগে জানাতে হবে। না জানালে কর্মীকে ৩০ দিনের মজুরি দিতে হবে। গৃহকর্মীরা চাকরি ছাড়তে চাইলে, নিয়োগকারীকে ও তা এক মাস আগে জানাতে হবে।

এই নীতিতে মালিকপক্ষের জন্যও কিছু সুবিধা রাখা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে: নিয়োগকারীকে না জানিয়ে কোন কর্মী চাকরি ছেড়ে দিলে বা বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে মালিক সংশ্লিষ্ট থানায় ডায়েরি করতে পারবেন। কর্মীর কর্মস্থল ত্যাগের সময় কোন কিছু হারিয়ে গেলে বা মালামাল সঙ্গে নিয়ে গেলে দেশের প্রচলিত আইনে মামলা করা যাবে। গৃহকর্মী কোনভাবেই কর্মরত পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি বা বৃদ্ধদের উপর নির্যাতন, অবহেলা বা পীড়াদায়ক আচরণ করতে পারবেন না। এরকম করলে মালিক তার নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন। আইনের আশ্রয়ও নিতে পারবেন।

প্রশিক্ষণে অধিকার, নৈতিক ও আইনগত অধিকার, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, মৌলিক অধিকার ও মান্যবাধিকার সম্বন্ধে সচেতন থাকার গুরুত্ব, নারীর আইনগত অধিকারসমূহ, গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ কার্যক্রম, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ যৌতুক বিষয়ে সম্যক ধারণা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে ৩০ জন গৃহকর্মী অংশ নেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে : প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত

জামালপুরে গৃহকর্মীদের মানবাধিকার ও জীবন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ০৭:৪৫:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

মানুষ ও পেশার মর্যাদা প্রদানসহ গৃহকর্মীদের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং তাদের জীবন দক্ষতা উন্নয়নে জামালপুরে এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। বিএসআরএম এর অর্থ সহায়তায় উন্নয়ন সংঘের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন স্ক্রিপ্ট প্রকল্পের উদ্যোগে ২২ ডিসেম্বর, সোমবার উন্নয়ন সংঘের ডিটিআরসিতে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণে মুখ্য আলোচক ছিলেন জেলা হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম। প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন উন্নয়ন সংঘের স্ক্রিপ্ট প্রকল্পের ব্যবস্থাপক লিটন সরকার ও সংস্থার মনিটরিং ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম। সভায় সমাপনী বক্তব্য রাখেন গৃহকর্মী উন্নয়ন প্লাটফরমের সদস্য জাকিলা বেগম।

প্রশিক্ষণে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫ আলোকে আলোচনা করতে গিয়ে জাহাঙ্গীর সেলিম নীতিমালার ধারা উল্লেখ করেন বলেন, গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫’ প্রণয়ন করেছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশের গৃহশ্রমিকেরা তাদের কাজের জন্য সরকারি স্বীকৃতি পাবেন।

তিনি বলেন, ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫’ বাংলাদেশ সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক নীতিমালা যা চাকর বা চাকরানি অর্থাৎ গৃহকর্মী বা গৃহভৃত্যের জন্য প্রযোজ্য। এই নীতিমালা ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ২১ ডিসেম্বর তারিখে অনুমোদিত ও গৃহীত হয়। ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ৪ জানুয়ারি তারিখে একটি সরকারি গেজেটে এই নীতি প্রকাশ করা হয়। এ নীতির মাধ্যমে দেশের প্রায় ২৫ লাখেরও (তথ্যমতে) বেশি গৃহকর্মীর মানবাধিকার ও শ্রমাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাছাড়াও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা কর্তৃক গৃহীত গৃহকর্মী সম্পকিত কনভেনশন-১৮৯ অনুসমর্থনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া এটি একটি পদক্ষেপ।

জাহাঙ্গীর সেলিম নীতিমালার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শ্রম আইনের আলোকে প্রণীত এই নীতিতে গৃহপরিচারিকাদের শ্রমিক হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সুরক্ষা, কল্যাণ, অবকাশ, বিনোদন, ছুটিসহ তাঁদের সুষ্ঠু ও মর্যাদাসম্পন্ন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ১৪ বছরের নীচে গৃহপরিচারিকাদের হালকা কাজের জন্যে ও এবং ১৮ বছরের কম বয়সী গৃহপরিচারিকাদের ভারি কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

নিয়োগকারী/গৃহকর্তা এবং গৃহকর্মীর সাথে আলোচনার ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে গৃহকর্মীর মজুরি পরিশোধ করতে হবে।নিয়োগকারীকে গৃহকর্মীর কর্মঘণ্টা অনুযায়ী তার ঘুম ও বিশ্রামের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত স্থান নিশ্চিতকরণ এবং চিত্তবিনোদন ও ছুটির ব্যবস্থা করতে হবে। গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রীর অনুমতি নিয়ে গৃহকর্মী স্ববেতনে ছুটি ভোগ করতে পারবেন। সন্তানসম্ভবার ক্ষেত্রে ১৬ সপ্তাহ স্ববেতনে মাতৃত্ব ছুটি ভোগ করতে পারবেন। কোনক্রমেই গৃহকর্মীর প্রতি কোন ধরনের অশালীন আচরণ বা দৈহিক আঘাত, যৌন নিগ্রহ অথবা মানসিক নির্যাতন করা যাবে না।

কর্মক্ষেত্রে গৃহকর্মীর কোনো ক্ষতি হলে মালিককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কোনো গৃহকর্মী শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হলে তিনি সরকারি ব্যয়ে আইনি সহায়তা পাবেন। কর্মক্ষেত্রে অসুস্থ হলে নিয়োগদাতাকে চিকিৎসার খরচ দিতে হবে। গৃহকর্মী কোনোভাবেই কর্মরত পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি বা বৃদ্ধদের উপর নির্যাতন, অবহেলা বা পীড়াদায়ক আচরণ করতে পারবেন না। চাকরি থেকে অপসারণের ক্ষেত্রে একমাস আগে জানাতে হবে। না জানালে কর্মীকে ৩০ দিনের মজুরি দিতে হবে। গৃহকর্মীরা চাকরি ছাড়তে চাইলে, নিয়োগকারীকে ও তা এক মাস আগে জানাতে হবে।

এই নীতিতে মালিকপক্ষের জন্যও কিছু সুবিধা রাখা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে: নিয়োগকারীকে না জানিয়ে কোন কর্মী চাকরি ছেড়ে দিলে বা বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে মালিক সংশ্লিষ্ট থানায় ডায়েরি করতে পারবেন। কর্মীর কর্মস্থল ত্যাগের সময় কোন কিছু হারিয়ে গেলে বা মালামাল সঙ্গে নিয়ে গেলে দেশের প্রচলিত আইনে মামলা করা যাবে। গৃহকর্মী কোনভাবেই কর্মরত পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি বা বৃদ্ধদের উপর নির্যাতন, অবহেলা বা পীড়াদায়ক আচরণ করতে পারবেন না। এরকম করলে মালিক তার নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন। আইনের আশ্রয়ও নিতে পারবেন।

প্রশিক্ষণে অধিকার, নৈতিক ও আইনগত অধিকার, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, মৌলিক অধিকার ও মান্যবাধিকার সম্বন্ধে সচেতন থাকার গুরুত্ব, নারীর আইনগত অধিকারসমূহ, গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ কার্যক্রম, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ যৌতুক বিষয়ে সম্যক ধারণা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে ৩০ জন গৃহকর্মী অংশ নেন।