ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিল বাংলা চিনিকলে আখ মাড়াই শুরু

দেওয়ানগঞ্জ : বক্তব্য রাখেন সদর দপ্তরের যুগ্মসচিব ও পরিচালক ড. আব্দুল আলীম খান। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ জিল বাংলা চিনিকলের ৬৫৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের ৬৮তম আখ মৌসুমের মাড়াই কার্যক্রম ২৮ নভেম্বর, শুক্রবার বিকাল থেকে শুরু হয়েছে।

আখ মাড়াই উদ্বোধন উপলক্ষে জিল বাংলা চিনিকল কতৃৃপক্ষ ক্যান কেরিয়ার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। পরে চিনিকলের ডোঙ্গায় আখ ফেলে মাড়াই কার্যক্রম শুরু করা হয়। আলোচনা সভায় ভারচুয়ালি বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও চেয়ারম্যান রশিদুল হাসান।

জিল বাংলা চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিকুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যে মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর দপ্তরের যুগ্মসচিব ও ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা পরিচালক ড. আব্দুল আলীম খান, এফআইসি সদর দপ্তরের ড. জেবুন নাহার ফেরদৌস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহামুদুল ইসলাম, দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শ্যামল চন্দ্, সাদেক আক্তার নেওয়াজি টফি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা, পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান সাজু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আমীর মাহবুবুর রহমান তালুকদার, প্রবীণ আখচাষী দলিলুর রহমান প্রমুখ।

দেওয়ানগঞ্জ : জিল বাংলা চিনিকলের ডোঙ্গায় আখ ফেলে মাড়াই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সদর দপ্তরের যুগ্মসচিব ও পরিচালক ড. আব্দুল আলীম খান বলেন, নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে জিল বাংলা চিনিকল এই অবস্থানে এসে দাড়িয়েছে। এখনও যে এই চিনিকলটি চালু রয়েছে তার জন্য এলাকাবাসীদের ধন্যবাদ জানাই। শ্রমিকদের কিছু দাবি দাওয়া উঠেছে। তা আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জিলবাংলা চিনিকল রক্ষা করতে হলে বেশি বেশি আখ চাষ করতে হবে। চাষীরা আমাদের প্রাণ। আখচাষীদের সময় মত আখ চাষে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

জানা গেছে, ৬৮তম আখ মাড়াই মৌসুমে ৭৮ দিনে ৭০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে চার হাজার ৯০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনেরন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনি উৎপাদনের হার রিকোভারি শতকরা ৭ ভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিদিন এক হাজার ১৬ টন আখ মাড়াই এবং ১০ হাজার ১৫০ টন চিনি উৎপাদন করা হবে। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেড ১৯৫৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় স্থাপিত হয়।

তখন এর নাম ছিল জিল পাক সুগার মিলস লিমিটেড। স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেড করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের অধীনে মিলটি পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম তিনটি চিনিকলের একটি। ১৯৫৮-৫৯সালে প্রথম আখ মাড়াই কার্যক্রম শুরু হয়।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জিল বাংলা সুগার মিলকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসাবে ঘোষণা করা হয়। যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত চিনিকলটি ৬৭টি মৌসুমে আখ মাড়াই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে লাভের মুখ দেখেছে মাত্র ১৮টি মৌসুমে। চিনিকলের সিন্ডিকেট আর নানা জটিলতায় প্রতি বছর বাড়ছে লোকসানের পরিমাণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

জিল বাংলা চিনিকলে আখ মাড়াই শুরু

আপডেট সময় ১০:৩৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ জিল বাংলা চিনিকলের ৬৫৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের ৬৮তম আখ মৌসুমের মাড়াই কার্যক্রম ২৮ নভেম্বর, শুক্রবার বিকাল থেকে শুরু হয়েছে।

আখ মাড়াই উদ্বোধন উপলক্ষে জিল বাংলা চিনিকল কতৃৃপক্ষ ক্যান কেরিয়ার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। পরে চিনিকলের ডোঙ্গায় আখ ফেলে মাড়াই কার্যক্রম শুরু করা হয়। আলোচনা সভায় ভারচুয়ালি বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও চেয়ারম্যান রশিদুল হাসান।

জিল বাংলা চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিকুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যে মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর দপ্তরের যুগ্মসচিব ও ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা পরিচালক ড. আব্দুল আলীম খান, এফআইসি সদর দপ্তরের ড. জেবুন নাহার ফেরদৌস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহামুদুল ইসলাম, দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শ্যামল চন্দ্, সাদেক আক্তার নেওয়াজি টফি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ সাদা, পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান সাজু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আমীর মাহবুবুর রহমান তালুকদার, প্রবীণ আখচাষী দলিলুর রহমান প্রমুখ।

দেওয়ানগঞ্জ : জিল বাংলা চিনিকলের ডোঙ্গায় আখ ফেলে মাড়াই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সদর দপ্তরের যুগ্মসচিব ও পরিচালক ড. আব্দুল আলীম খান বলেন, নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে জিল বাংলা চিনিকল এই অবস্থানে এসে দাড়িয়েছে। এখনও যে এই চিনিকলটি চালু রয়েছে তার জন্য এলাকাবাসীদের ধন্যবাদ জানাই। শ্রমিকদের কিছু দাবি দাওয়া উঠেছে। তা আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জিলবাংলা চিনিকল রক্ষা করতে হলে বেশি বেশি আখ চাষ করতে হবে। চাষীরা আমাদের প্রাণ। আখচাষীদের সময় মত আখ চাষে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

জানা গেছে, ৬৮তম আখ মাড়াই মৌসুমে ৭৮ দিনে ৭০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে চার হাজার ৯০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনেরন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনি উৎপাদনের হার রিকোভারি শতকরা ৭ ভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিদিন এক হাজার ১৬ টন আখ মাড়াই এবং ১০ হাজার ১৫০ টন চিনি উৎপাদন করা হবে। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেড ১৯৫৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় স্থাপিত হয়।

তখন এর নাম ছিল জিল পাক সুগার মিলস লিমিটেড। স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেড করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের অধীনে মিলটি পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম তিনটি চিনিকলের একটি। ১৯৫৮-৫৯সালে প্রথম আখ মাড়াই কার্যক্রম শুরু হয়।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জিল বাংলা সুগার মিলকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসাবে ঘোষণা করা হয়। যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত চিনিকলটি ৬৭টি মৌসুমে আখ মাড়াই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে লাভের মুখ দেখেছে মাত্র ১৮টি মৌসুমে। চিনিকলের সিন্ডিকেট আর নানা জটিলতায় প্রতি বছর বাড়ছে লোকসানের পরিমাণ।