ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিক প্রবেশে কেন্দ্র সচিবের নিষেধাজ্ঞা মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন জামালপুরে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু মাদারগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের রুগ্নদশার অবসান চাই

মির্জা আজম দম্পতির সম্পদের পরিমাণ আন্দাজ করাও কঠিন : মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল

হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপিনেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির জলবায়ু বিষয়ক সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেছেন, মির্জা আজম এবং তার স্ত্রী আলেয়া আজমের বিরুদ্ধে দুদক থেকে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলার অভিযোগপত্রে দুদক বলেছে, ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত মির্জা আজম দম্পতি কেবলমাত্র বাংলাদেশের ব্যাংকের একাধিক অ্যাকাউন্টে ৯০৭ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। ব্যাংকেই যদি ৯০৭ কোটি টাকা লেনদেন করে থাকেন মির্জা আজম, তার স্ত্রী, সন্তানরা, গুণধর ভাইয়েরা, তাহলে তাদের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ কত হতে পারে একবার আন্দাজ করেন। মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, ঢাকা, কক্সবাজারে মির্জা আজম ও তার পরিবারের সদস্যদের কি পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি আছে। তা আপনারা আন্দাজ করে দেখেন তো। আন্দাজ করতে পারেন কিনা। আন্দাজ করাও কিন্তু কঠিন।

২৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির প্রথম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার বাড়ির চাকর জাহাঙ্গীর যদি ৪০০ কোটি টাকা নিয়ে পালায়ে থাকে। একবার চিন্তা করে দেখেন শেখ হাসিনা নিজে এবং উনার ছেলে জয় কি করেছে। বৃটিশ এমপি টিউলিপের বিরুদ্ধে বৃটিশ সরকার তদন্ত করতেছে। কেবলমাত্র রূপপুর প্রকল্প থেকে এই শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, জয়, টিউলিপরা তিন হাজার কোটি টাকা নিছে। আমরা শেখ হাসিনা, মির্জা আজম, ওয়াবায়দুল কাদেরদের ফেরত চাই। তাদের ফাঁসি চাই। চাই এই বাংলাদেশে আর যেন কেউ স্বৈরশাসন চালাতে না পারে। দুর্নীতি, লুটপাট করে অবৈধভাবে অর্থবিত্তের মালিক হতে না পারে কেউ। সেই দৃষ্টান্ত অন্তবর্তীকালীন সরকার ড. ইউনুছ করবেন আমরা সেটাই চাই।

বেগম খালেদা জিয়াকে নির্যাতন প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, গণতন্ত্রের মা, মাতৃতুল্যনেত্রী, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন। মিথ্যা, বানোয়াট মামলা দিয়ে, ক্যাঙ্গারু কোর্ট বসিয়ে, ফরমায়েসি রায় দিয়ে দশ বছরের সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে ছয় বছর ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এগুলো ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ১৬ বছর ধরে উনার পরিবার ছাড়া, দেশছাড়া, দলছাড়া হয়েছেন। আমাদের নেতা গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন যে, কবে এই বাংলাদেশে সকল আইনি প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করে উনি বাংলাদেশের মাটিতে দল ও পরিবারের কাছে ফিরতে পারবেন।

তিনি আও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যারা ওই ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দিয়েছে। যারা তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। জনাব তারেক রহমানকে নির্যাতন করে বিদেশে যেতে বাধ্য করেছে। যারা আরাফাত রহমান কোকোকে নির্যাতন করে অকালে মৃত্যুর শিকার করেছে। তার কি বদলা নিতে হবে না? ৫ আগস্টের পরে বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু যথেষ্ট বদলা নেয় নাই। আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেই নাই। আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাই না। কিন্তু যারা ১৬ বছর ধরে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানকে অত্যাচার করেছে। যারা বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। বদলা নিতে হবে না? বদলা নিতে কি আমরা সবাই তৈরি?

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, জুলাই-আগস্ট মাসের ৩৬ দিনে যারা ক্ষমতার মসনদকে টিকিয়ে রাখবার জন্য অন্তত হাজার দুয়েক ছাত্র, শ্রমিক জনতাকে নৃশংসভাবে মেরেছেন। অন্তত ৫০ হাজার ছাত্র-জনতাকে যারা আহত করলো। শত শত ভাই আজকে অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ব বরণ করলো। যারা আমার ভাইদের হত্যা করছে। যারা আমার ভাইবোন, শিশু, নারী-পুরুষকে খুন করছে। আহত করছে। তাদেরকে কি মাফ করে দেওয়া যায়? এই বাংলাদেশের জমিনে যারা ১৫-১৬ বছর অত্যাচার করছে। জুলুম করছে। যারা খুন করছে। আহত করছে। সেই খুনিদের এই বাংলাদেশের মাটিতে আমরা আর দেখতে চাই না।

হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির সম্মেলন মঞ্চে বিএনপিনেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বিএনপিনেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ভোটাধিকার প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ভোট চাই। নির্বাচন চাই। ১৫-১৬ বছরের লড়াই সংগ্রামের ধারাবাহিকতার পটভূমিতে এই জুলাই আগস্টে অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এইটা আপনা আপনি সংঘটিত হয় নাই। জুলাই আগস্ট আসমান থেকে পড়ে নাই। মানুষ চায় নির্বাচন। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি থাকবে যে, বাংলাদেশের মানুষের মনের কথাগুলো পড়ার চেষ্টা করেন। মানুষের মনোজগতে একবার ঢুকবার চেষ্টা করবেন। অনির্বাচিত সরকার বছরের পর বছর দেশ পরিচালনা করবে এইটা দেশের মানুষ চায় না। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। পছন্দ মতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে এমপি বানাতে চাই। সরকার বানাতে চাই। তাই প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা নেন। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক সরকার কায়েম করেন। অবশ্যই বাংলাদেশে স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী শাহ মো, ওয়ারেছ আলী মামুন।

হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শফিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজিব, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন কর্নেল, মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনোয়ার হাওলাদার, সদস্য সচিব নূরুল আলম সিদ্দিকী, হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব শাহ তালাত মাহমুদসহ পৌর বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

পরে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মো. ইসমাইল হোসেনকে সভাপতি ও শাহ তালাত মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করে হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়তে পারেন : মির্জা আজম সাহেব কেন পালিয়েছেন : শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক প্রবেশে কেন্দ্র সচিবের নিষেধাজ্ঞা

মির্জা আজম দম্পতির সম্পদের পরিমাণ আন্দাজ করাও কঠিন : মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল

আপডেট সময় ১০:৩০:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির জলবায়ু বিষয়ক সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেছেন, মির্জা আজম এবং তার স্ত্রী আলেয়া আজমের বিরুদ্ধে দুদক থেকে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলার অভিযোগপত্রে দুদক বলেছে, ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত মির্জা আজম দম্পতি কেবলমাত্র বাংলাদেশের ব্যাংকের একাধিক অ্যাকাউন্টে ৯০৭ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। ব্যাংকেই যদি ৯০৭ কোটি টাকা লেনদেন করে থাকেন মির্জা আজম, তার স্ত্রী, সন্তানরা, গুণধর ভাইয়েরা, তাহলে তাদের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ কত হতে পারে একবার আন্দাজ করেন। মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, ঢাকা, কক্সবাজারে মির্জা আজম ও তার পরিবারের সদস্যদের কি পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি আছে। তা আপনারা আন্দাজ করে দেখেন তো। আন্দাজ করতে পারেন কিনা। আন্দাজ করাও কিন্তু কঠিন।

২৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির প্রথম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার বাড়ির চাকর জাহাঙ্গীর যদি ৪০০ কোটি টাকা নিয়ে পালায়ে থাকে। একবার চিন্তা করে দেখেন শেখ হাসিনা নিজে এবং উনার ছেলে জয় কি করেছে। বৃটিশ এমপি টিউলিপের বিরুদ্ধে বৃটিশ সরকার তদন্ত করতেছে। কেবলমাত্র রূপপুর প্রকল্প থেকে এই শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, জয়, টিউলিপরা তিন হাজার কোটি টাকা নিছে। আমরা শেখ হাসিনা, মির্জা আজম, ওয়াবায়দুল কাদেরদের ফেরত চাই। তাদের ফাঁসি চাই। চাই এই বাংলাদেশে আর যেন কেউ স্বৈরশাসন চালাতে না পারে। দুর্নীতি, লুটপাট করে অবৈধভাবে অর্থবিত্তের মালিক হতে না পারে কেউ। সেই দৃষ্টান্ত অন্তবর্তীকালীন সরকার ড. ইউনুছ করবেন আমরা সেটাই চাই।

বেগম খালেদা জিয়াকে নির্যাতন প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, গণতন্ত্রের মা, মাতৃতুল্যনেত্রী, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন। মিথ্যা, বানোয়াট মামলা দিয়ে, ক্যাঙ্গারু কোর্ট বসিয়ে, ফরমায়েসি রায় দিয়ে দশ বছরের সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে ছয় বছর ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এগুলো ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ১৬ বছর ধরে উনার পরিবার ছাড়া, দেশছাড়া, দলছাড়া হয়েছেন। আমাদের নেতা গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন যে, কবে এই বাংলাদেশে সকল আইনি প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করে উনি বাংলাদেশের মাটিতে দল ও পরিবারের কাছে ফিরতে পারবেন।

তিনি আও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যারা ওই ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দিয়েছে। যারা তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। জনাব তারেক রহমানকে নির্যাতন করে বিদেশে যেতে বাধ্য করেছে। যারা আরাফাত রহমান কোকোকে নির্যাতন করে অকালে মৃত্যুর শিকার করেছে। তার কি বদলা নিতে হবে না? ৫ আগস্টের পরে বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু যথেষ্ট বদলা নেয় নাই। আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেই নাই। আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাই না। কিন্তু যারা ১৬ বছর ধরে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানকে অত্যাচার করেছে। যারা বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। বদলা নিতে হবে না? বদলা নিতে কি আমরা সবাই তৈরি?

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, জুলাই-আগস্ট মাসের ৩৬ দিনে যারা ক্ষমতার মসনদকে টিকিয়ে রাখবার জন্য অন্তত হাজার দুয়েক ছাত্র, শ্রমিক জনতাকে নৃশংসভাবে মেরেছেন। অন্তত ৫০ হাজার ছাত্র-জনতাকে যারা আহত করলো। শত শত ভাই আজকে অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ব বরণ করলো। যারা আমার ভাইদের হত্যা করছে। যারা আমার ভাইবোন, শিশু, নারী-পুরুষকে খুন করছে। আহত করছে। তাদেরকে কি মাফ করে দেওয়া যায়? এই বাংলাদেশের জমিনে যারা ১৫-১৬ বছর অত্যাচার করছে। জুলুম করছে। যারা খুন করছে। আহত করছে। সেই খুনিদের এই বাংলাদেশের মাটিতে আমরা আর দেখতে চাই না।

হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির সম্মেলন মঞ্চে বিএনপিনেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

বিএনপিনেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ভোটাধিকার প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ভোট চাই। নির্বাচন চাই। ১৫-১৬ বছরের লড়াই সংগ্রামের ধারাবাহিকতার পটভূমিতে এই জুলাই আগস্টে অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এইটা আপনা আপনি সংঘটিত হয় নাই। জুলাই আগস্ট আসমান থেকে পড়ে নাই। মানুষ চায় নির্বাচন। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি থাকবে যে, বাংলাদেশের মানুষের মনের কথাগুলো পড়ার চেষ্টা করেন। মানুষের মনোজগতে একবার ঢুকবার চেষ্টা করবেন। অনির্বাচিত সরকার বছরের পর বছর দেশ পরিচালনা করবে এইটা দেশের মানুষ চায় না। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। পছন্দ মতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে এমপি বানাতে চাই। সরকার বানাতে চাই। তাই প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা নেন। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক সরকার কায়েম করেন। অবশ্যই বাংলাদেশে স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী শাহ মো, ওয়ারেছ আলী মামুন।

হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শফিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজিব, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন কর্নেল, মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনোয়ার হাওলাদার, সদস্য সচিব নূরুল আলম সিদ্দিকী, হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব শাহ তালাত মাহমুদসহ পৌর বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

পরে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মো. ইসমাইল হোসেনকে সভাপতি ও শাহ তালাত মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করে হাজরাবাড়ী পৌর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়তে পারেন : মির্জা আজম সাহেব কেন পালিয়েছেন : শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন