ঢাকা ১১:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন জামালপুরে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু মাদারগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের রুগ্নদশার অবসান চাই কাল পিতৃভূমি বগুড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফ-এর শর্তের সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের রুগ্নদশার অবসান চাই

জামালপুর : জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের প্রধান সিঁড়ির রেলিং নড়বড়ে অবস্থায় ঝুলছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

প্রতিদিনই চলার পথে আমার চোখে কোন না কোন অসঙ্গতি পড়বেই। আজ ২০ এপ্রিল, সোমবার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে মারাত্মক এক দুরবস্থা দেখে শুধু অবাকই হইনি, ভীত সন্ত্রস্ত হয়েছি।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের প্রধান সিঁড়ির রেলিং নড়বড়ে অবস্থায় ঝুলছে। কেউ ভুল করে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেই ধপাস করে পড়ে যাবে, হাত-পা ভাঙবে, মাথা ফাটবে, রক্ত ঝরবে এসব ঘটনা নিশ্চিত করেই বলতে পারি। মাসের পর মাস এ অবস্থা এই নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করলেও মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি গণপূর্ত বিভাগ। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাক্তার মাহফুজুর রহমান জানান, গণপূর্তে একাধিকবার লেখেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক বললেন, ভাই আপনারা শুধু আমাদের দোষত্রুটিই খোঁজেন। অথচ ঝুঁকি নিয়ে আমরা নির্ধারিত ২৫০ জন রোগীর বাইরে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। একজন নার্সও একই অভিমত ব্যক্ত করেন।

জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে হাসপাতালের আউটডোর ভবন গণপূর্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় এনে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ঘোষণা দিয়েই তারা দায়িত্ব শেষ করেছেন। আপত দৃষ্টিতে তাই মনে হচ্ছে। আমরা একাধিকবার নিউজ করেছি। মানববন্ধন করেছি। ক্যাম্পেইন করেছি। কাজ হয়নি। কয়েকদিন আগেও মেডিকেল কলেজের ছাত্র এবং সাধারণ মানুষ নিয়ে আমি সাহস ও দায়িত্ব নিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই মানববন্ধন করেছি। অনেকেই আমার উপর বিরক্ত হন। বিগত সরকারের আমলেও বিভিন্ন সামাজিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ দাবি আদায়ে অসংখ্য মানববন্ধন করেছি। স্মারকলিপি দিয়েছি। কাজও হয়েছে অস্বীকার করব না। বর্তমান ও অরন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও দাবি-দাওয়া নিয়ে সামাজিক আন্দোলন করে আসছি। বর্তমান জেলা প্রশাসকের নজরে আসায় তাৎক্ষণিক অনেক সমস্যার সমাধান করেছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের নজরে আনায় ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি পাল্টে দিয়েছেন।

আজকের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মানুষ স্বাস্থসেবা নিতে হাসপাতালে আসেন। অথচ মাথার উপর ভয়ঙ্কর ঝুঁকি অপেক্ষা করে তা অধিকাংশ রোগী ও স্বজনেরাই জানেন না। সিঁড়ির রেলিং এবং ভাঙা ছাদের নীচে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকেন ডাক্তার, নার্স, কর্মচারী এবং রোগী ও স্বজনেরা।

হাপাতালের অধিকাংশ টয়লেটে দরজা-জানালা ভাঙা। রোগীরা লজ্জা নিবারণ করে কাপড় দিয়ে ঢেকে। পানির কল নষ্ট থাকে প্রায়ই। পানি পড়তেই থাকে। স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা।

এসবই করার কথা সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর গণপূর্ণ বিভাগের। আমরা উন্নয়ন সমন্বয় সভা, আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই অসঙ্গতিগুলো নিরসনে সোচ্চার কণ্ঠে দাবি করে আসছি। সভার রেজুলেশনে এসব উল্লেখও আছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে হয়ত কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙবে।

আমি আবারও দায়িত্ব নিয়ে বলছি, অনতি বিলম্বে উল্লেখিত সমস্যা ও ঝুঁকি নিরসন না করলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বিরুদ্ধে জামালপুরবাসীদের সাথে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন করতে মাঠে নামতে বাধ্য হব। মানুষের জীবন মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের রুগ্ন অবস্থার কারণে।

আমরা সবাই শুধু ডাক্তার, নার্সদের ত্রুটি না খোঁজে গণপূর্তের দিকে আসুন আঙ্গুল তুলি। আশা করছি, আমার এই প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর গণপূর্ণসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এগিয়ে আসবে। আমি মাননীয় জামালপুর-৫ (সদর) আসনের আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমার বিশ্বাস সংসদে আপনার সাহসী উচ্চারণ আমাদের সুদীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক অসঙ্গতি দূর হয়ে সেবার সুবাতাস বইবে হাসপাতালসহ প্রতিটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের রুগ্নদশার অবসান চাই

আপডেট সময় ০৮:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

প্রতিদিনই চলার পথে আমার চোখে কোন না কোন অসঙ্গতি পড়বেই। আজ ২০ এপ্রিল, সোমবার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে মারাত্মক এক দুরবস্থা দেখে শুধু অবাকই হইনি, ভীত সন্ত্রস্ত হয়েছি।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের প্রধান সিঁড়ির রেলিং নড়বড়ে অবস্থায় ঝুলছে। কেউ ভুল করে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেই ধপাস করে পড়ে যাবে, হাত-পা ভাঙবে, মাথা ফাটবে, রক্ত ঝরবে এসব ঘটনা নিশ্চিত করেই বলতে পারি। মাসের পর মাস এ অবস্থা এই নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করলেও মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি গণপূর্ত বিভাগ। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাক্তার মাহফুজুর রহমান জানান, গণপূর্তে একাধিকবার লেখেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক বললেন, ভাই আপনারা শুধু আমাদের দোষত্রুটিই খোঁজেন। অথচ ঝুঁকি নিয়ে আমরা নির্ধারিত ২৫০ জন রোগীর বাইরে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। একজন নার্সও একই অভিমত ব্যক্ত করেন।

জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে হাসপাতালের আউটডোর ভবন গণপূর্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় এনে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ঘোষণা দিয়েই তারা দায়িত্ব শেষ করেছেন। আপত দৃষ্টিতে তাই মনে হচ্ছে। আমরা একাধিকবার নিউজ করেছি। মানববন্ধন করেছি। ক্যাম্পেইন করেছি। কাজ হয়নি। কয়েকদিন আগেও মেডিকেল কলেজের ছাত্র এবং সাধারণ মানুষ নিয়ে আমি সাহস ও দায়িত্ব নিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই মানববন্ধন করেছি। অনেকেই আমার উপর বিরক্ত হন। বিগত সরকারের আমলেও বিভিন্ন সামাজিক ও জনগুরুত্বপূর্ণ দাবি আদায়ে অসংখ্য মানববন্ধন করেছি। স্মারকলিপি দিয়েছি। কাজও হয়েছে অস্বীকার করব না। বর্তমান ও অরন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও দাবি-দাওয়া নিয়ে সামাজিক আন্দোলন করে আসছি। বর্তমান জেলা প্রশাসকের নজরে আসায় তাৎক্ষণিক অনেক সমস্যার সমাধান করেছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের নজরে আনায় ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি পাল্টে দিয়েছেন।

আজকের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মানুষ স্বাস্থসেবা নিতে হাসপাতালে আসেন। অথচ মাথার উপর ভয়ঙ্কর ঝুঁকি অপেক্ষা করে তা অধিকাংশ রোগী ও স্বজনেরাই জানেন না। সিঁড়ির রেলিং এবং ভাঙা ছাদের নীচে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকেন ডাক্তার, নার্স, কর্মচারী এবং রোগী ও স্বজনেরা।

হাপাতালের অধিকাংশ টয়লেটে দরজা-জানালা ভাঙা। রোগীরা লজ্জা নিবারণ করে কাপড় দিয়ে ঢেকে। পানির কল নষ্ট থাকে প্রায়ই। পানি পড়তেই থাকে। স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা।

এসবই করার কথা সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর গণপূর্ণ বিভাগের। আমরা উন্নয়ন সমন্বয় সভা, আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই অসঙ্গতিগুলো নিরসনে সোচ্চার কণ্ঠে দাবি করে আসছি। সভার রেজুলেশনে এসব উল্লেখও আছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে হয়ত কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙবে।

আমি আবারও দায়িত্ব নিয়ে বলছি, অনতি বিলম্বে উল্লেখিত সমস্যা ও ঝুঁকি নিরসন না করলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বিরুদ্ধে জামালপুরবাসীদের সাথে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন করতে মাঠে নামতে বাধ্য হব। মানুষের জীবন মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের রুগ্ন অবস্থার কারণে।

আমরা সবাই শুধু ডাক্তার, নার্সদের ত্রুটি না খোঁজে গণপূর্তের দিকে আসুন আঙ্গুল তুলি। আশা করছি, আমার এই প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর গণপূর্ণসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এগিয়ে আসবে। আমি মাননীয় জামালপুর-৫ (সদর) আসনের আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমার বিশ্বাস সংসদে আপনার সাহসী উচ্চারণ আমাদের সুদীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক অসঙ্গতি দূর হয়ে সেবার সুবাতাস বইবে হাসপাতালসহ প্রতিটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে।