ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারিকেলী স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ চেয়ে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

নারিকেলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

নারিকেলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

মো. আলমগীর
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর সদরের নারিকেলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হকের পদত্যাগের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ৩ ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী।

২৭ আগস্ট মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সদরের নারিকেলী বাজার এলাকায় জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে নিয়োগবাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাকিব, তোফায়েল তপু, সোহাগ আহাম্মেদ, শিক্ষার্থী তৌহিন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেঘলা, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়মা ইসলাম নুপুর, নাঈমা ইসলাম রুমু প্রমুখ।

শিক্ষার্থী মেঘলা বলেন, স্যার একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। তিনি অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত। আমাদের স্কুলে কোনো ল্যাব নেই। স্যার বিভিন্ন নিয়োগে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। স্যার তার চেয়ারে বসে সিগারেট খান। এমন স্যার আমরা চাই না।

নারিকেলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

শিক্ষার্থী রায়মা ইসলাম নুপুর বলেন, আমাদের প্রতিটি পরীক্ষা ও রেজিস্ট্রেশনের সময় স্যার অতিরিক্ত ফি নেন। যেখানে বাইরের স্কুলে ২০০ টাকা নেয়। সেখানে তিনি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা নেন। এছাড়াও স্কুলের অনেক বরাদ্দ তিনি হজম করে ফেলেছন।

৫ আগস্টের পর থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছোন প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক। দ্রুত তিনি পদত্যাগ না করলে কঠোর আন্দোলনে যাবার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে স্যার আর স্কুলে আসেন না। তিনি যেখানেই থাকুক আমরা তার পদত্যাগ চাই। তিনি পদত্যাগ না করলে আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের আন্দোলন থামবে না।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক মোবাইল ফোনে জানান, সারা দেশে শিক্ষকদের যেভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমাকেও সেভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি কোনো দুর্নীতি অনিয়ম করি নাই। একটি পক্ষ তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই কাজ করছে। দ্রুত এই বিষয়টি সমাধান হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে একই দাবিতে ২৫ আগস্ট রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারিকেলী স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ চেয়ে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট সময় ১০:০৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৪
নারিকেলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

মো. আলমগীর
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর সদরের নারিকেলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হকের পদত্যাগের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ৩ ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী।

২৭ আগস্ট মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সদরের নারিকেলী বাজার এলাকায় জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে নিয়োগবাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাকিব, তোফায়েল তপু, সোহাগ আহাম্মেদ, শিক্ষার্থী তৌহিন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেঘলা, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়মা ইসলাম নুপুর, নাঈমা ইসলাম রুমু প্রমুখ।

শিক্ষার্থী মেঘলা বলেন, স্যার একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। তিনি অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত। আমাদের স্কুলে কোনো ল্যাব নেই। স্যার বিভিন্ন নিয়োগে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। স্যার তার চেয়ারে বসে সিগারেট খান। এমন স্যার আমরা চাই না।

নারিকেলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

শিক্ষার্থী রায়মা ইসলাম নুপুর বলেন, আমাদের প্রতিটি পরীক্ষা ও রেজিস্ট্রেশনের সময় স্যার অতিরিক্ত ফি নেন। যেখানে বাইরের স্কুলে ২০০ টাকা নেয়। সেখানে তিনি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা নেন। এছাড়াও স্কুলের অনেক বরাদ্দ তিনি হজম করে ফেলেছন।

৫ আগস্টের পর থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছোন প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক। দ্রুত তিনি পদত্যাগ না করলে কঠোর আন্দোলনে যাবার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে স্যার আর স্কুলে আসেন না। তিনি যেখানেই থাকুক আমরা তার পদত্যাগ চাই। তিনি পদত্যাগ না করলে আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের আন্দোলন থামবে না।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক মোবাইল ফোনে জানান, সারা দেশে শিক্ষকদের যেভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমাকেও সেভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি কোনো দুর্নীতি অনিয়ম করি নাই। একটি পক্ষ তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এই কাজ করছে। দ্রুত এই বিষয়টি সমাধান হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে একই দাবিতে ২৫ আগস্ট রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।