
জাহাঙ্গীর সেলিম ::
জামালপুরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগে সাড়া দিয়েছে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)। সহযোগী সংস্থা হিসেবে উদ্যোগ বাস্তবায়নে করছে উন্নয়ন সংঘ, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র, ল্যাম্ব হাসপাতাল ও সিডাব্লিওএফডি।
জানা যায়, জামালপুর জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ উপজেলায় দুই হাজার ১৮৪ পরিবারের মাঝে শাড়ি, বালতি, সাবানসহ দুই হাজার টাকার ঋতুস্রাবকালীন বিভিন্ন স্বাস্থ্য সামগ্রী ও যাতায়াতের জন্য প্রতি মাকে ৯০০ টাকা করে নগদ প্রদান করা হয়।
এক হাজার ৫০০ কিশোরীকে ওষুধ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সামগ্রী ফার্মেসী থেকে নেয়ার জন্য ভাউচার ও নগদ ৮৫০ টাকা প্রদান করা হয়।

২০০ শিশুর মাঝে খেলনা, পোশাকসহ শিশু সামগ্রী ও শিশুদের সাথে আসা মায়েদের যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়। স্বাস্থ্য ক্যাম্পের মাধ্যমে মেয়েদের ভায়া টেস্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এ কাজে চিকিৎসক, মিডওয়াইফ ও নার্সদের নিয়ে স্বাস্থ্য দল গঠন করা হয়।
৩০০ তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের মাঝে চার হাজার টাকা করে বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ৬০০ জন প্রজনন বয়সী মাকে বিকাশের মাধ্যমে চার হাজার ৩২৯ টাকা করে প্রদান করা হয়।
ইসলামপুরে পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু সামগ্রী বিতরণ কাজ উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান। তিনি নারী ও কিশোরীদের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনার জন্য ইউএনএফপিএ, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র, ল্যাম্ব হাসপাতাল ও সিডাব্লিওএফডি সংস্থাগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রতিটি বন্যাকবলিত এলাকায় এ ধরনের মহৎ কাজ করার জন্য আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, আমরা অনেকেই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে থাকি অথচ নারী, কিশোরী ও শিশুদের সুরক্ষার জন্য এ ধরনের অনিবার্য বিষয়গুলো কম চিন্তা করি। সময়োপযোগী উল্লেখিত সামগ্রী বিতরণের জন্য তিনি আবারো বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে ধন্যবাদ জানান। এ কার্যক্রমের আওতায় সুবিধাবঞ্চিত তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের সহায়তা করায় ধর্মমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আইনজীবী আব্দুস সালাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিরাজুল ইসলাম, ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন তালুকদার, ইউএনএফপিএ এর প্রতিনিধি রোমানা খান, আতাহার আলী, উন্নয়ন সংঘের পরিচালক কর্মসূচি মুর্শেদ ইকবাল, জিইউকের জান্নাত, ল্যাম্বের আব্দুছ ছাত্তার প্রমুখ।
ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি, বেলগাছা ও সাপধরী ইউনিয়নের উপকারভোগীদের সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

মাদারগঞ্জ উপজেলায় সুরক্ষা সামগ্রী কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত। এ সময় উন্নয়ন সংঘের জেন্ডার ফোকাল মিনারা পারভীন উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরক্ষা সামগ্রী দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। মাদারগঞ্জে জোড়খালী ও পাকেরদহ ইউনিয়নে মাদের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী ও চুকাইবাড়ী ইউনিয়নে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুন্নি আক্তার।
বাংলার চিঠি ডেস্ক : 



















