
মাহমুদুল হাসান মুক্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম
ট্রাফিক পুলিশের অনৈতিক হয়রানি ও অবাধে মামলা দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামালপুরে সিএনজি অটোরিকশাচালকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ১৯ মে সকাল থেকে এ ধর্মঘট শুরু করে সিএনজি চালকরা। ধর্মঘটের কারণে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও জেলার অভ্যন্তরীণ সকল সড়কে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চালকদের অভিযোগ চালকরা যাতে লাইসেন্সসহ কাগজপত্র ঠিক করে গাড়িটি বৈধভাবে সড়কে চালায়। এটাই আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য।
জানা গেছে, গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী সিএনজিকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে হয়রানিমূলক মামলা দেয় ট্রাফিক পুলিশ। এ নিয়ে সিএনজি মালিক ও চালকদের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর ফলে ১৯ মে সকাল থেকে সড়কে সিএনজি চালানো বন্ধ রেখে তারা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
এদিকে সিএনজি না পেয়ে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ও জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এবং জেলার অভ্যন্তরীণ সকল সড়কে জরুরি প্রয়োজনে এই সিএনজিই হলো যাত্রীদের একমাত্র ভরসা। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সিএনজি জামালপুর শহরে ঢুকে। কিন্তু ১৯ মে সকাল থেকেই সিএনজির কোন দেখা মেলেনি। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক দিয়ে শহরে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি স্থানে সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা যাত্রী তুলছেন না। অন্যদিকে সিএনজি স্ট্যান্ডে কোন সিএনজিও দেখা যায়নি। এতে করে গন্তব্য পৌঁছাতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগসহ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে সিএনজিচালিত সংগঠনের এক শ্রমিকনেতা আসলাম উদ্দিন জানান, গত ১০-১৫ বছর ধরে আমাদের শ্রমিকরা সিএনজি চালাচ্ছে এতে আমরা কোন হয়রানির শিকার হয়নি। জেলায় প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার সিএনজি চলাচল করে। প্রত্যেকটি সিএনজি থেকে ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ প্রতিমাসে চাঁদা নিতো। গত তিনমাস ধরে তা বন্ধ করে দেওয়ায় ট্রাফিক পুলিশ গত কয়েকদিনে প্রায় ৪০০টি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। প্রতিটি মামলায় সর্বনিম্ন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করছে। ট্রাফিক পুলিশের এই হয়রানি ও নির্যাতনের কারণেই আমাদের লাগাতার ধর্মঘট চলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এর একটি সমাধান না হয় অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি চালকরা এ ধর্মঘট চালিয়ে যাবে।
সিএনজিচালক নাজিম উদ্দিন জানান, ট্রাফিক পুলিশ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অহেতুক মামলা দিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করছে। আমরা সিএনজিচালিয়ে যা আয় করি তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না। অথচ আয়ের চেয়ে বেশি পরিমাণের টাকা জরিমানা করে আমাদের হয়রানি করছে।
জামালপুর জেলা অটো টেম্পো, অটো রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নজরুল ইসলাম গোলাপ জানান, গত কয়েকদিন ধরে কাগজপত্র দেখানোর অজুহাতে ট্রাফিক পুলিশেরা সিএনজি চালকদের সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করছেন। এছাড়া প্রতিটি মামলায় গুণতে হচ্ছে রেকার বিল। অথচ কখনই তারা মহাসড়কে বিকল ও দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত ‘রেকার’ নিয়ে যাওয়া হয়না। আমাদের সিএনজির চালকরা তারা নিজেরাই গাড়ি টেনে নিয়ে যায়। প্রায় ৫০০টির বেশি সিএনজির চালকদের কাছ থেকে এই রেকার বিল নিয়েছে তারা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক গোলাম মওলা তালুকদার এ প্রতিবেদককে জানান, জামালপুর শহরের অধিকাংশ সিএনজি মালিক ও শ্রমিকরা সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ মানছেন না। তারা আইন না মেনে অবৈধভাবে মেয়াদ উত্তীর্ণ সিএনজি চালাচ্ছে। এ কারণেই আইন প্রয়োগ করে জরিমানা করা হচ্ছে। চালকরা অনেক সময় রেকার ব্যবহার করতে দেয় না। তারা নিজেরাই গাড়ি নিয়ে আসে। তাদেরকে অনৈতিকভাবে হয়রানি করার অভিযোগ সঠিক নয়। আমাদের উদ্দেশ্য হলো চালকরা যাতে সনদসহ গাড়ির সব কাগজপত্র ঠিক করে গাড়িটি বৈধভাবে সড়কে চালায়।
বাংলার চিঠি ডেস্ক : 



















