ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানের প্রত্যয় : বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন: দারিদ্র্যমুক্ত ও টেকসই রাষ্ট্র গঠন জামালপুরে স্ক্রিপ্ট প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন জামালপুরে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ শেরপুরের গারো পাহাড়ে বিশ্ব হাতি দিবস পালিত স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির ১০ বছর করে আটকাদেশ ইসলামপুরে স্বাক্ষর জাল করে এতিম খানার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএসসির ফল বিপর্যয়, ৪৩৯ জনে পাস ১১১ জামালপুরে সাক্ষরতা কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক কর্মশালা সরিষাবাড়ীতে বিধবা নারীকে বিয়ে করায় ঘরছাড়া নবদম্পতি ইত্তেফাকুল উলামা জামালপুর জেলা কমিটিতে শামসুদ্দিন সভাপতি ও মোহাম্মদ আলী সম্পাদক নির্বাচিত

মাদারগঞ্জে পিআইওর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পিআইও জাহিদ হাসান

পিআইও জাহিদ হাসান

জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল, মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে সরকারি কাজের দরপত্র বিক্রির ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারসহ উন্নয়ন প্রকল্পের সভাপতিদের কাছ থেকে উচ্চহারে উৎকোচ আদায়ের জন্য কর্মচারীদের চাপ দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আর এসব অভিযোগ করেছেন খোদ তার কার্যালয়ের কর্মচারীরা। তারা এ সব অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে।

পিআইও অফিসের অফিস সহকারী বেলাল হোসেন জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীনে গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে আটটি সেতু/কালভার্ট নির্মাণের জন্য আটটি প্যাকেজে এক হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের সিডিউল ক্রয় করে এক হাজার ১৩ জন ঠিকাদার। যার মূল্য ১৫ লাখ ১৯ হাজার টাকা। কিন্তু সিডিউলের টাকা জমা দেওয়ার সময় পিআইও জাহিদ হাসান ৩৪৬টি দরপত্র বিক্রি দেখিয়ে মাত্র পাঁচ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে বাকি ১০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন।

বেলাল হোসেন আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনিসহ পিআইও অফিসের কর্মচারী রেজাউল করিম, শাকিল হোসেন ছাড়াও কয়েকজন ঠিকাদারের স্বাক্ষরযুক্ত একটি অভিযোগপত্র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। ওই অফিসের কর্মচারীরা জানান, পিআইও জাহিদ হাসান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সভাপতি ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে উৎকোচ আদায়ের জন্য তাদেরকে সব সময় চাপ দিতেন। কিন্তু তা না করায় জাহিদ হাসান তাদের বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকি দেওয়াসহ নানা মিথ্যা অভিযোগ তুলে জামালপুর জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে চিঠি দেন।

পিআইওর পক্ষে উৎকোচ আদায়ের ব্যাপারে কর্মচারী রেজাউল করিম জানান, তিনি সেতুর কাজ পাওয়া একজন ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজের বিল পরিশোধের জন্য দেড় লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে পিআইও জাহিদ হাসানকে দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠিকাদার জানান, পিআইও জাহিদ হাসানকে সেতুর কাজের বিপরীতে বরাদ্দের শতকরা পাঁচ টাকা হারে উৎকোচ দিতে হয়। এছাড়াও বিল পাশ করিয়ে নিতে তাকে আরো তিন লাখ টাকা দিতে হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহিদ হাসান (পিআইও) দরপত্র বিক্রির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যত টাকার দরপত্র বিক্রি হয়েছে ততো টাকাই তিনি ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। তিনি ঠিকাদারদের কাছ থেকে শতকরা পাঁচটাকা হারে উৎকোচ নেওয়া কিংবা বিল ছাড় করতে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন। তার অফিসের কিছু কর্মচারী এসব অভিযোগ করছে। এসব অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই।

জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নায়েব আলী এ প্রতিনিধিকে জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে দেওয়া পিআইও জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগের কপিটি পেয়েছে। বিষয়টি তিনিও খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের প্রত্যয় : বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন: দারিদ্র্যমুক্ত ও টেকসই রাষ্ট্র গঠন

মাদারগঞ্জে পিআইওর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:১১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২০
পিআইও জাহিদ হাসান

জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল, মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে সরকারি কাজের দরপত্র বিক্রির ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারসহ উন্নয়ন প্রকল্পের সভাপতিদের কাছ থেকে উচ্চহারে উৎকোচ আদায়ের জন্য কর্মচারীদের চাপ দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আর এসব অভিযোগ করেছেন খোদ তার কার্যালয়ের কর্মচারীরা। তারা এ সব অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে।

পিআইও অফিসের অফিস সহকারী বেলাল হোসেন জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীনে গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে আটটি সেতু/কালভার্ট নির্মাণের জন্য আটটি প্যাকেজে এক হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের সিডিউল ক্রয় করে এক হাজার ১৩ জন ঠিকাদার। যার মূল্য ১৫ লাখ ১৯ হাজার টাকা। কিন্তু সিডিউলের টাকা জমা দেওয়ার সময় পিআইও জাহিদ হাসান ৩৪৬টি দরপত্র বিক্রি দেখিয়ে মাত্র পাঁচ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে বাকি ১০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন।

বেলাল হোসেন আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনিসহ পিআইও অফিসের কর্মচারী রেজাউল করিম, শাকিল হোসেন ছাড়াও কয়েকজন ঠিকাদারের স্বাক্ষরযুক্ত একটি অভিযোগপত্র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। ওই অফিসের কর্মচারীরা জানান, পিআইও জাহিদ হাসান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সভাপতি ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে উৎকোচ আদায়ের জন্য তাদেরকে সব সময় চাপ দিতেন। কিন্তু তা না করায় জাহিদ হাসান তাদের বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকি দেওয়াসহ নানা মিথ্যা অভিযোগ তুলে জামালপুর জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে চিঠি দেন।

পিআইওর পক্ষে উৎকোচ আদায়ের ব্যাপারে কর্মচারী রেজাউল করিম জানান, তিনি সেতুর কাজ পাওয়া একজন ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজের বিল পরিশোধের জন্য দেড় লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে পিআইও জাহিদ হাসানকে দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠিকাদার জানান, পিআইও জাহিদ হাসানকে সেতুর কাজের বিপরীতে বরাদ্দের শতকরা পাঁচ টাকা হারে উৎকোচ দিতে হয়। এছাড়াও বিল পাশ করিয়ে নিতে তাকে আরো তিন লাখ টাকা দিতে হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহিদ হাসান (পিআইও) দরপত্র বিক্রির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যত টাকার দরপত্র বিক্রি হয়েছে ততো টাকাই তিনি ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। তিনি ঠিকাদারদের কাছ থেকে শতকরা পাঁচটাকা হারে উৎকোচ নেওয়া কিংবা বিল ছাড় করতে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন। তার অফিসের কিছু কর্মচারী এসব অভিযোগ করছে। এসব অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই।

জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নায়েব আলী এ প্রতিনিধিকে জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে দেওয়া পিআইও জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগের কপিটি পেয়েছে। বিষয়টি তিনিও খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।