ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভিক্ষার চালেই চলে বৃদ্ধ দম্পতির সংসার, সড়কের পাশে ঝুপড়িতে মানবেতর জীবন বকশীগঞ্জে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা জামালপুরে ১০০ এতিম শিক্ষার্থী পেল দোস্ত এইডের শিক্ষাবৃত্তি সরকার কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে : ওয়ারেছ আলী মামুন নকলায় ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করলেন ফাহিম চৌধুরী ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল তিন দিনের নাট্যোৎসবে মঞ্চস্থ হচ্ছে সাদিয়া তাবাসসুম বৃষ্টি রচিত নাটক ‘ঊনচাঁদ’ বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিক পালিত বিএনপির সাবেক মহাসচিব সালাম তালুকদার স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ

মাদারগঞ্জ : যমুনার বালুর চরে বাদাম ক্ষেত। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

একসময় অনাবাদি ও বিরান পড়ে থাকা যমুনার বালুর চর এখন সবুজে ভরে উঠেছে। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে গেলে নদীর বুকে নতুন চর জেগে ওঠে। বন্যায় সময় পলি জমে এসব চরভ‚মি উর্বর আবাদি জমিতে পরিণত হয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কৃষকেরা চরাঞ্চলের এসব জমিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ করে নিজেদের ভাগ্য বদলাচ্ছেন।

অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরছে চরাঞ্চলের দারিদ্র কৃষক পরিবারগুলোয়। চরের যেদিকে দুই চোখ যায় শুধু ফসল আর ফসল। বাদাম, ভুট্টা, মরিচ, শসা, পেঁয়াজ, ধান, মটরশুটি, মিষ্টি লাউসহ নানা ফসলের আবাদে প্রাণ ফিরে পেয়েছে যমুনার ধু-ধু বালুচর। স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগ ও পরিশ্রমে বদলে গেছে এই অঞ্চলের চিত্র।

সরেজমিনে উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পাকরুল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যমুনার চর এখন সবুজের চাদরে ঢাকা এক বিস্তীর্ণ জনপদ। বিস্তীর্ণ বালুচরে সারি সারি বাদামের গাছ। কোথাও ভুট্টার সবুজ ক্ষেত, আবার কোথাও মরিচ, শসা, পেঁয়াজ, ধান ও মিষ্টি লাউয়ের চাষ। আগে যেখানে ধুলা উড়ত, এখন সেখানে সবুজের সমারোহ। কৃষকেরা ফসলের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

মাদারগঞ্জ : যমুনার বালুর চরের চারদিকে সবুজ ফসলের ক্ষেত। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরাঞ্চলে প্রায় দুই হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হেক্টর জমিতে বাদাম, ১০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ, ৪০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, পাঁচ হেক্টর জমিতে কালোজিরা এবং ৪০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি গম, মটরশুটি, মিষ্টি লাউ, মিষ্টি আলু, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ফসলও চাষ করা হয়েছে। ফসলের উৎপাদন খরচ কম হওয়ার পাশাপাশি ফলনও হচ্ছে ভাল। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ফলে চরাঞ্চলে কৃষির প্রসার ঘটছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কয়েক বছর আগেও এসব চর অনাবাদি পড়ে থাকত। নদীর ভাঙন আর বালুর স্তূপের কারণে কেউ চাষাবাদে আগ্রহী ছিলেন না। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা বাদাম, পেঁয়াজ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ শুরু করেন। এতে ভালো ফলন ও লাভ হওয়ায় এখন অনেকেই চাষে ঝুঁকছেন।

পাকরুল এলাকার কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, আগে এই জমিতে কিছুই হতো না। এখন বাদাম চাষ করে ভাল লাভ হচ্ছে। খরচ কম, লাভ বেশি; তাই সবাই বাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

একই এলাকার কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, যমুনার চরে বাদাম, পেঁয়াজ, ভুট্টা, মিষ্টি লাউ ও মিষ্টি আলুর আবাদ ভালো হচ্ছে। চরাঞ্চলের পতিত জমিতে বৈচিত্র্যময় এসব ফসল চাষ করে কৃষকরা নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘুরানোর চেষ্টা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, চরাঞ্চল এখন আর মানুষের জন্য অভিশাপ নয়, বরং কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠছে। চরাঞ্চলের জমি চাষের আওতায় আনতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ফসলে প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বালুময় চরাঞ্চলে বাদাম, পেঁয়াজ, ভুট্টা, গম, মিষ্টি লাউ, মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন ফসল চাষ হচ্ছে। চাষিরা ভালো ফলনও পাচ্ছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে আরও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চল শুধু সবুজায়নই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধ হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ

আপডেট সময় ০৬:৫৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

একসময় অনাবাদি ও বিরান পড়ে থাকা যমুনার বালুর চর এখন সবুজে ভরে উঠেছে। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে গেলে নদীর বুকে নতুন চর জেগে ওঠে। বন্যায় সময় পলি জমে এসব চরভ‚মি উর্বর আবাদি জমিতে পরিণত হয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কৃষকেরা চরাঞ্চলের এসব জমিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ করে নিজেদের ভাগ্য বদলাচ্ছেন।

অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরছে চরাঞ্চলের দারিদ্র কৃষক পরিবারগুলোয়। চরের যেদিকে দুই চোখ যায় শুধু ফসল আর ফসল। বাদাম, ভুট্টা, মরিচ, শসা, পেঁয়াজ, ধান, মটরশুটি, মিষ্টি লাউসহ নানা ফসলের আবাদে প্রাণ ফিরে পেয়েছে যমুনার ধু-ধু বালুচর। স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগ ও পরিশ্রমে বদলে গেছে এই অঞ্চলের চিত্র।

সরেজমিনে উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পাকরুল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যমুনার চর এখন সবুজের চাদরে ঢাকা এক বিস্তীর্ণ জনপদ। বিস্তীর্ণ বালুচরে সারি সারি বাদামের গাছ। কোথাও ভুট্টার সবুজ ক্ষেত, আবার কোথাও মরিচ, শসা, পেঁয়াজ, ধান ও মিষ্টি লাউয়ের চাষ। আগে যেখানে ধুলা উড়ত, এখন সেখানে সবুজের সমারোহ। কৃষকেরা ফসলের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

মাদারগঞ্জ : যমুনার বালুর চরের চারদিকে সবুজ ফসলের ক্ষেত। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরাঞ্চলে প্রায় দুই হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হেক্টর জমিতে বাদাম, ১০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ, ৪০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, পাঁচ হেক্টর জমিতে কালোজিরা এবং ৪০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি গম, মটরশুটি, মিষ্টি লাউ, মিষ্টি আলু, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ফসলও চাষ করা হয়েছে। ফসলের উৎপাদন খরচ কম হওয়ার পাশাপাশি ফলনও হচ্ছে ভাল। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ফলে চরাঞ্চলে কৃষির প্রসার ঘটছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কয়েক বছর আগেও এসব চর অনাবাদি পড়ে থাকত। নদীর ভাঙন আর বালুর স্তূপের কারণে কেউ চাষাবাদে আগ্রহী ছিলেন না। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা বাদাম, পেঁয়াজ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ শুরু করেন। এতে ভালো ফলন ও লাভ হওয়ায় এখন অনেকেই চাষে ঝুঁকছেন।

পাকরুল এলাকার কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, আগে এই জমিতে কিছুই হতো না। এখন বাদাম চাষ করে ভাল লাভ হচ্ছে। খরচ কম, লাভ বেশি; তাই সবাই বাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

একই এলাকার কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, যমুনার চরে বাদাম, পেঁয়াজ, ভুট্টা, মিষ্টি লাউ ও মিষ্টি আলুর আবাদ ভালো হচ্ছে। চরাঞ্চলের পতিত জমিতে বৈচিত্র্যময় এসব ফসল চাষ করে কৃষকরা নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘুরানোর চেষ্টা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, চরাঞ্চল এখন আর মানুষের জন্য অভিশাপ নয়, বরং কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠছে। চরাঞ্চলের জমি চাষের আওতায় আনতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ফসলে প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বালুময় চরাঞ্চলে বাদাম, পেঁয়াজ, ভুট্টা, গম, মিষ্টি লাউ, মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন ফসল চাষ হচ্ছে। চাষিরা ভালো ফলনও পাচ্ছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে আরও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চল শুধু সবুজায়নই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধ হবে।